‘অতি উত্তম’ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৩ অভিযোগ আনল দুদক

0
48

(দিনাজপুর২৪.কম) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী সহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১৩টি অভিযোগ আনল কমিশন (দুদক)। কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় অতি উত্তম এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদক সচিব গতকাল রোববার দুপুরে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগগুলো উপস্থাপন করেন।

কমিশনের নিয়ম না মেনে অনুসন্ধান ও তদন্তকাজ পরিচালনা, অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের হয়রানি ও জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন, আলামত হিসেবে জব্দ করা ৯৩ লাখ নিজের কাছে রাখা, রিটের ভুয়া আদেশ দেখিয়ে সংবাদ প্রকাশ করানোসহ বদলির পর নতুন কর্মস্থলে যোগদানে বিলম্ব, নথি বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় শরীফের বিরুদ্ধে।

এদিকে দুদক সচিবের আনা ১৩ অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে ব্যাখ্যা দিয়েছেন শরীফ উদ্দিন। তাতে তিনি বলেছেন, অভিযোগের সবকিছু সত্য নয়। হাইপ্রোফাইলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করায় তাকে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি ৬ ফেব্রুয়ারি সচিবকে লিখিতভাবে জানানো হয়।

যদিও সচিব রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, হুমকির বিষয়টি আমরা পত্রিকায় দেখে তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। দুদক সচিব বলেন, গণমাধ্যম একপেশে সংবাদ পরিবেশন করছে। শরীফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই কেন তাকে চাকরিচ্যুত করা হলো, এমন প্রশ্নের উত্তর আসেনি।

লিখিত বক্তব্যে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, শরীফ উদ্দিনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বহু অভিযোগ কমিশনে থাকায় তাকে অপসারণ করতে হয়েছে। চাকরি বিধিমালার ৫৪ (২) বিধিতে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই অপসারণের বিধান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি অনুযায়ী দুদক ছাড়া দেশের অন্যান্য অনেক দপ্তরেও এ রকম আইন ও বিধি আছে। কমিশনের শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে বিস্তারিত আলোচনা শেষে শরীফ উদ্দিনকে অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অপসারণের আদেশ জারির পর থেকে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিষয়টি প্রচারিত হচ্ছে। সচিব অভিযোগ করেন, একতরফা তথ্যের ভিত্তিতে এসব সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে, যা প্রকৃত ঘটনার বিপরীত বলে দাবি করেন তিনি।

দুদক সচিব বলেন, প্রভাবশালীদের চাপে অন্যায়ভাবে তাকে অপসারণ করা হয়েছে বলে তিনি (শরীফ) যে দাবি করেছেন- মিডিয়ায় তাই প্রচার করা হয়েছে, যা প্রকৃত ঘটনা নয়।

তিনি বলেন, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের কিছু মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দুর্নীতি উদ্ঘাটনের কারণে তাদের প্রভাবে শরীফকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে- এটা মোটেও সত্য নয়। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, দুদক কোনো প্রভাব আমলে নেয় না। প্রভাবিত হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

দুদকের গোপনীয় প্রতিবেদনে শরীফ উদ্দিনকে “অতি উত্তম কর্মকর্তা বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখন এত অভিযোগ কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, দুদকে যোগদান করার পর নবীন কর্মকর্তাদের উৎসাহ দিতে এসিআরে অতি উত্তম উল্লেখ করা হয়। এটি একটি স্বভাবজাত কাজ।

শরীফের বিরুদ্ধে ১৩ অভিযোগের বিষয়ে দুদক সচিব বলেন, তিনি কোনো অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব পেলে দুদকের নির্দেশিকা না মেনে নিজের খেয়ালখুশিমতো কার্যপরিচালনা করতেন। অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনার সময় শরীফ উদ্দিন অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়- এমন বহু লোককে নোটিশ ও টেলিফোনে ডেকে এনে হয়রানি করতেন। অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে কোনো ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা নো ডেবিট করার প্রয়োজন হলে কমিশনের সম্মতিতে আদালতের আদেশ নিয়ে ফ্রিজ করতে হয়। শরীফ উদ্দিন এ নিয়মের তোয়াক্কা করতেন না। তিনি আদালতে অনুমোদন না নিয়ে ৩৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেন।

কক্সবাজারে একজন সার্ভেয়ারের বাসায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ঘুষের ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ১৫০ টাকা জব্দ করে। মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা টাকা ২০২০ সালের ১০ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শরীফকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে ১ বছর ৪ মাস ওই অর্থ নিজের হেফাজতে রাখেন। বিষয়টি হাইকোর্ট ডিভিশনের দৃষ্টিগোচরে এলে সুয়োমোটো রুল জারি করা হয়। এ বিষয়ে শরীফের ব্যাখ্যা আদালত গ্রহণ করেননি।

শরীফ উদ্দিন একটি মামলায় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবানবন্দি গ্রহণের জন্য তার দপ্তরে ডেকে অত্যন্ত নির্মমভাবে প্রহার করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এটি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। বহু ব্যক্তি তার কাছে নিগৃহীত হয়েছেন।

দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে শরীফ উদ্দিনের কর্মকাল ৩ বছরের অধিক হওয়ায় অন্য আরও ২০ জন কর্মচারীর সঙ্গে তাকে বদলি করা হয়। এ বদলি আদেশ সবাই যথাসময়ে কার্যকর করেন। কিন্তু বদলির এ আদেশের বিরুদ্ধে শহিদুল ইসলাম লিটন নামের একজন মানবাধিকারকর্মীর ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। হাইকোর্ট রিট খারিজ করে দেওয়া সত্ত্বেও বদলির আদেশ স্থগিত করা হয়েছে মর্মে অসত্য সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু এ ধরনের কোনো আদেশ হাইকোর্ট দেননি।

সচিব বলেন, ২০২১ সালের ১৬ জুন শরীফকে চট্টগ্রাম সজেকা থেকে পটুয়াখালী সজেকা অফিসে বদলি করা হয়। বদলির ১ মাস পর (১৭ জুলাই) তিনি ইমেইলে পটুয়াখালীতে যোগদানপত্র প্রেরণ করেন। এরপর ১০ আগস্ট সশরীরে দুদকের পটুয়াখালী অফিসে উপস্থিত হন। বিলম্বে যোগদান করে তিনি কমিশনের আদেশ অবজ্ঞা করেছেন। শরীফ উদ্দিনকে পটুয়াখালীতে বদলির পর কর্মস্থল ত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে সব রেকর্ডপত্রসহ নথিপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। নথি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কখনোই পৃথক আদেশ জারি করা হয় না। তা সত্ত্বেও দীর্ঘ প্রায় তিন মাস পর তাকে পটুয়াখালী থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয় বলে জানান সচিব।

জনৈক ব্যক্তির হুমকি দেওয়ার কথিত অভিযোগে গত ৩০ জানুয়ারি থানায় জিডি করেন শরীফ। বিষয়টি তিনি কাউকে অবহিত করেননি। গণমাধ্যম সূত্রে জেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাইলে তিনি কোনো সহযোগিতা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেননি।

দুদক সচিব আরও বলেন, শরীর রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও পাসপোর্ট প্রদান বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেছেন। এ ধরনের অভিযোগ-সংক্রান্ত বিষয়ে পরিচালকের নেতৃত্বে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ছয় সদস্যের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়। শরীফ উদ্দিন টিমের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিভ্রান্ত করে চলেছেন যে, তিনি সব উদ্ঘাটন করেছেন।

কক্সবাজার জেলার জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ২০২০ সালের ১৫ মার্চে দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের দাখিলকৃত প্রতিবেদনে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর বিধি-১০ (বি)-এর নির্দেশনা অনুসৃত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সচিব বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, বদলি, নিয়োগ বাণিজ্য, ক্লিনিক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে শরীফের দাখিলকৃত অনুসন্ধান প্রতিবেদনের সঙ্গে তদারককারী কর্মকর্তাই দ্বিমত পোষণ করেছেন। তার প্রতিবেদন কমিশন কর্তৃক বিবেচিত না হওয়ায় দুই সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করে পুনরায় অনুসন্ধানের জন্য পাঠানো হয়েছে।

শরীফ উদ্দিন ২০১৭ সালে কর্ণফুলী গ্যাসের বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর কেডিসিএলে তার আপন ছোট ভাই শিহাব উদ্দিন সবুজকে কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়াই ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে চাকরি দেন। এ ছাড়া তিনি সেখানে তার আত্মীয় মুহাম্মদ শাহাব উদ্দিন জাল সনদের মাধ্যমে ড্রাইভার পদেও চাকরি দিয়েছেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে দুদক সচিবের আনীত অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমে ব্যাখ্যা দিয়েছেন শরীফ উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সত্য নয়। তিনি জানান অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর নির্দেশিকা না মেনে নিজের খেয়ালখুশিমতো কার্যপরিচালনা করার অভিযোগটি সুনির্দিষ্ট নয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের (সজেকা) দায়িত্বে উপপরিচালক (ডিডি) থাকেন। কাউকে তলব করলে নোটিশের কপি ডিডিকে দিতে হয়।

অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনার সময় কাউকে ডেকে এনে হয়রানি করা হতো, তা সঠিক নয়। বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করার দাবি জানান তিনি ও বিষয়টির প্রমাণ উপস্থাপনের দাবি জানান।

কক্সবাজারে একজন সার্ভেয়ারের বাসায় অভিযান চালিয়ে টাকা জব্দ করে র‌্যাব। জব্দকৃত আলামতের ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ১৫০ টাকা কোষাগারে জমা রাখা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ট্রেজারি থেকে বলা হয়েছে টাকা কাপড়ে মুড়িয়ে ট্রাঙ্কে রাখা হয়। তারা টাকা নয়, একটি ট্রাঙ্ক পেয়েছেন মর্মে রিসিভ করবেন। ট্রাঙ্কে কী আছে, তা উল্লেখ থাকবে না। আমি প্রমাণ ছাড়া টাকা ব্যাংক রাখার পক্ষপাতী ছিলাম না। এ ছাড়া হাইপ্রোফাইলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করায় তাকে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি ৬ ফেব্রুয়ারি সচিবকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম।

শরীফ উদ্দিন তার ছোট ভাই কেজিডিসিএলে চাকরি প্রদানের অভিযোগের বিষয়ে জানান, আমার বাবা রেলওয়ের চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন। কেজিডিসিএলের পাশে আমাদের বাসা ছিল। আমার ছোট ভাই ২০১৭ সাল থেকে সেখানে ২ বছর ঠিকাদারের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ে চাকরি করে। এরপর তার চাকরি হয়। আর ড্রাইভার পদে চাকরির বিষয়ে আমি জানি না।

শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতি খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টকে ১০ আইনজীবীর চিঠি

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আলোচিত দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টকে চিঠি পাঠিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের ১০ আইনজীবী। চিঠিতে কেন তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে সে বিষয়ে দুদককে ব্যাখ্যা দিতে একটি শোকজ নোটিশ ইস্যু করার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চিঠিতে শরীফ উদ্দিনের জীবনের নিরাপত্তাও চাওয়া হয়েছে।

হাইকোর্ট রুলসের ১১ক-এর বিধি ১০ অনুযায়ী গতকাল রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ও সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর এই চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন নোটিশ প্রদানকারীদের একজন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

শিশির মনির ছাড়াও নোটিশ প্রদানকারী বাকি ৯ আইনজীবী হলেন- অ্যাডভোকেট রেজওয়ানা ফেরদৌস, জামিলুর রহমান খান, উত্তম কুমার বণিক, মুস্তাফিজুর রহমান, মো. তারেকুল ইসলাম, আহমেদ আবদুল্লাহ খান, সৈয়দ মোহাম্মদ রায়হান, মো. সাইফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নোয়াব আলী।

গত বুধবার দুদক কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ২০০৮-এর ৫৪ (২) বিধি অনুযায়ী উপসহকারী পরিচালক শরিফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। শরীফ উদ্দিন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় পটুয়াখালীতে উপসহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার আগে সাড়ে তিন বছর তিনি ছিলেন চট্টগ্রামে। সেখানে থাকাকালে কক্সবাজারে ভূমি অধিগ্রহণের সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা দুর্নীতির ঘটনায় ১৫৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন তিনি, যেখানে প্রশাসন ক্যাডার ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও ছিলেন। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক, সেসব মামলার বাদী ছিলেন শরীফ। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা সনদ দেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে আলোচিত হন শরীফ উদ্দিন।

এ ছাড়া অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ স্থানান্তর ও নতুন সংযোগ প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (কেজিডিসিএল) বিভিন্ন অভিযোগ নিয়েও তদন্ত করেন শরীফ। পরে অভিযোগের ‘সত্যতা পেয়ে’ কেজিডিসিএলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাবেক বৈদেশিক ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমানসহ কয়েকজনকে আসামি করে গত বছরের ১০ জুন মামলা করেন শরীফ। এর পর আলোচিত মামলা দায়েরের পর চট্টগ্রাম থেকে শরীফ উদ্দিনকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। সবশেষে জীবননাশের হুমকি পাওয়ার ১৬ দিনের মাথায় শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

তবে শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুতর পর দুদকের সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার জন্য যত রকমের কাজ করা যায়, একটাও বাকি রাখেননি শরীফ উদ্দিন।’

দুদকের সচিব বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের যে আইন রয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কর্মচারী চাকরিবিধি ২০০৮ রয়েছে। সে অনুযায়ী দুর্নীতি দমন কমিশনের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। দুর্নীতি দমন কমিশন কর্মচারীবিধি অনুযায়ী যে বিধিবিধানাবলি মানা প্রয়োজন, শরীফ উদ্দিন সেগুলো না মেনে অব্যাহতভাবে বিধি পরিপন্থী কাজ করে যাচ্ছিলেন। যার কারণে কমিশন মনে করেছে, কমিশনের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা দরকার। তারা সেটাই করেছে। তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চালু ছিল। এর আগে তদন্তকালে টাকা উদ্ধার বিষয়ে উনি যে কার্যক্রম করেছিলেন, সে বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট থেকেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। মানে সবকিছু মিলিয়ে চাকরিবিধি পরিপন্থীর কারণে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থাটা নেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করার পর ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এবং কয়েকটি সমন্বিত জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করে তাকে অপসারণের প্রতিবাদ জানায়।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের এক প্রজ্ঞাপনে মো. শরীফ উদ্দিনকে অপসারণ করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ২০০৮-এর বিধি ৫৪ (২)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাকে অপসারণ করার কথা বলা হয়। যে বিধিতে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে সেই বিধি বাতিল ও শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতের আদেশ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে তার সহকর্মীরা।

এদিকে দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ২০০৮-এর বিধি ৫৪ (২) বাতিলসহ দুদক কর্মকর্তাদের সুবিধা অসুবিধা ও কল্যাণে একটি অ্যাসোসিয়েশন গঠন করা হয়েছে। গতকাল ১২১ সদস্যবিশিষ্ট এই অ্যাসোসিয়েশন আত্মপ্রকাশ করে। -সূত্র: আমাদের সময়

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here