‘আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে চলতে পারলেই দেশ এগিয়ে যাবে’

0
30
(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের দেশ ও সম্পদ আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে। আমরা কারো কাছে হাত পেতে চলবো না, নিজেরা ফসল উৎপাদন করবো এবং নিজেদের দেশকে গড়ে তুলবো। এই আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে চলতে পারলেই ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, কেউ রুখতে পারবে না।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে আয়োজিত ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২২’ ও ‘আমর্ড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স’র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। পরে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) এবং সামরিক বাহিনী কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) পরিচালনা পর্ষদের ১৯তম যৌথ সভায় সভাপতি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওই দুটি কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে কোন দুর্যোগে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী মানুষের পাশে দাঁড়ায়। সশস্ত্র বাহিনী এজন্য দেশে যেমন মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে, তেমনি বিদেশের শান্তি রক্ষা মিশনেও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভূমিকা রাখছে। এটা সবসময় মনে রাখতে হবে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী গড়ে উঠেছে। কাজেই আমাদের দেশের মান মর্যাদা সবসময় সমুন্নত রাখা এবং তাদের পাশে থাকা ও সহযোগিতা করা সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। 

তিনি বলেন, আমরা ২ কোটি ৫৩ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়ে থাকি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ভূমিহীন ৩৫ লাখ মানুষকে ঘর-বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি। এ কাজে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অবদান রয়েছে।
দেশবাসীকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং ব্যাংকে তারল্য নিয়ে কোনো অপপ্রচারে কর্ণপাত না করার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য হচ্ছে যখনই দেশ একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যায় তখন সকলের কাছে (স্বার্থান্বেষী মহল) এটা পছন্দ হয়না, এটা হলো বাস্তবতা। যুদ্ধকালীন এই সংকটে অনেক ধনী দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরাও নানা পদক্ষেপ নিই। অথচ জ্বালানি নিয়ে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষকে পক্ষে টানা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা একটি যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ গড়ে তুলে প্রবৃদ্ধি ৯ ভাগে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর কোভিডের আগে আওয়ামী লীগ তুলেছিল ৮ শতাংশের ওপরে। কিন্তু কোভিড-১৯ এবং এর পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও এটাকে কেন্দ্র করে স্যাংশনে অনেক উন্নত দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও বিপযস্ত হয়ে পড়েছে। বিশ^ব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ধনী দেশগুলোও আজকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাদের খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে, রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। এই অবস্থায়ও বাংলাদেশকে এখনো আমরা স্থিতিশীল অবস্থায় রাখতে সক্ষম হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ এবং স্যাংশনের কারণে ইতোমধ্যে আমদানী ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। যে গম একসময় ২শ’ ডলারে পাওয়া যেত তা এখন ৬শ’ ডলারে কিনতে হচ্ছে। যে পরিবহন ব্যয় ৮শ’ ডলার ছিল তা ৩ হাজার ৮শ’ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। কিন্তু এখানে রিজার্ভ খরচ করতে হলেও সরকার দেশের জনগণের কথা বিবেচনা করে কোন কার্পন্য করেনি। পাশাপাশি সরকারের রপ্তানী এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা কেবল মাটি ও মানুষকে পুঁজি করেই একটি যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ গড়ে তুলে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে রেখে যান। সেটা সকলকে মনে রাখার মাধ্যমেই এগিয়ে যেতে হবে। বিলাসিতা পরিহার করে সকলকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা বাংলাদেশেও লেগেছে। বিশ্বটা এখন গ্লোবাল ভিলেজ এবং একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। সেটা মাথায় রেখেই তিনি সকলকে সাশ্রয়ী হবার অনুরোধ জানান।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এ বছর ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সে বাংলাদেশের সর্বমোট ৫৮ জন এবং আমাদের বন্ধুপ্রতিম ১৭টি দেশের ৩০ জন বিদেশী প্রশিক্ষনার্থী এই কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর পাঁচজন কমডোর ও একজন ক্যাপ্টেন এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ছয়জন এয়ার কমডোর, সিভিল সার্ভিসের একজন অতিরিক্ত সচিব, নয়জন যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের দুইজন ডিআইজি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ডিজি রয়ছেন। অপরদিকে আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে এ বছর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তিনজন কর্নেল, ৪০ জন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর দুইজন ক্যাপ্টেন ও আটজন কমান্ডার, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ছয়জন গ্রুপ ক্যাপ্টেন ও একজন উইং কমান্ডার অংশগ্রহণ করেন।
এনডিসি কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. আকবর হোসেন তার স্বাগত বক্তব্যে সফলতার সঙ্গে কোর্স সম্পন্ন করায় কোর্সে অংশগ্রহণকারী সকল দেশী ও বিদেশী কোর্স মেম্বারদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং কোর্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল ফ্যাকাল্টি মেম্বার ও স্টাফ অফিসারদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এনডিসি ও ডিএসসিএসসি’র পরিচালনা পর্ষদের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত:
আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, ওই সমাপনী অনুষ্ঠানের পরে প্রধানমন্ত্রী মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে এনডিসি এবং ডিএসসিএসসি’র পরিচালনা পর্ষদের (গভর্নিং বডির) ১৯তম যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, এনডিসি কমান্ড্যান্ট এবং ডিএসসিএসসির কমান্ড্যান্ট উপস্থিত ছিলেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় (অর্থ বিভাগ), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভগ) সিনিয়র সচিব ও সচিববৃন্দসহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপাচার্যগণ।
সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নে তার সরকারের অব্যাহত সহযোহিতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে যুগোপযোগী ও উচ্চমানসম্পন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখায় এনডিসি এবং ডিএসসিএসসি এর কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। করোনাকালীন সময়ে সশরীরে সকল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানদ্বয়কে সাধুবাদ জানান।
এছাড়া প্রতিরক্ষা নীতি-২০১৮ এর আলোকে সামরিক সংস্কার, সামরিক আধুনিকায়ন এবং সামরিক প্রযুক্তির ‘ফিউচার ট্রেন্ডস্’ মূল্যায়ন পূর্বক ভবিষ্যত যুদ্ধের উপযোগী করে সকল প্রশিক্ষণার্থীকে প্রস্তুতের উপর প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি তিনি বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ তৈরির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। -ডেস্ক রিপোর্ট
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here