‘আমরা আপসেট করতে চাই’

0
53

অ্যাডিলেড ওভালে আজ সুখস্মৃতি নিয়ে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে এ মাঠে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। সে মাঠে আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। সুপার টুয়েলভের ম্যাচ বটে। কিন্তু সেমিফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ রয়েছে। ম্যাচের আগে বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আসলেন। তিনি জানালেন, বাংলাদেশ জিতলে তো আপসেট বলবে সবাই। আমরা সে আপসেট করতে চাই। অ্যাডিলেডের সংবাদ সম্মেলনটি আংশিক তুলে ধরেছেন সেখানে কাভার করতে যাওয়া ক্রীড়া প্রতিবেদক-

প্রশ্ন : অ্যাডিলেডে বাংলাদেশের ভালো একটা স্মৃতি আছে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল তারা। সে ব্যাপারে কিছু বলবেন?

সাকিব : ওই দলের বোধহয় আমি আর তাসকিন আছি। অবশ্যই ভালো মেমরি। ভালো মেমরি সব সময় অনুপ্রেরণা জোগায়। আশা করি ওই মেমরি যেন হেল্প করে।

প্রশ্ন : ভারতের সঙ্গে ম্যাচ হলে বাড়তি চাপ বা উত্তেজনা কাজ করে। এবার কী হতে যাচ্ছে?

সাকিব : ভালো একটা ম্যাচ হলে অবশ্যই দর্শকদের জন্য মেমরেবল হবে। শেষ ম্যাচে আমরা অনেক সমর্থকের সাপোর্ট পেয়েছি। আমরা একটি ভালো স্মৃতি চাইছি। আর ভালো ম্যাচ যেন উপহার দিতে পারি।

প্রশ্ন : ভারত শক্তিশালী দল। তবে বাংলাদেশের মানুষ ম্যাচটিকে অন্যভাবে দেখে। শক্তির বিচার বা সম্ভাবনাটা কেমন?

সাকিব : আমি সব ম্যাচকে সমানভাবে দেখি। বিশ্বকাপের আগে প্রেস কনফারেন্সে বলেছি সব প্রতিপক্ষকে আমি সমানভাবে দেখছি। প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই অ্যাপ্রোচ নিয়ে খেলতে চাই। কোন দেশের সঙ্গে কীভাবে খেলতে হবে সেটা চিন্তা করতে চাই না। আমরা খালি মোমেন্টটা এনজয় করতে চাই। আর প্ল্যান একই থাকবে।

প্রশ্ন : জিম্বাবুয়ের ম্যাচ বা ক্লোজ ম্যাচ জিতলে কি মনোবল চাঙ্গা হয়?

সাকিব : ক্লোজ ম্যাচ জিতলে তো মনোবল চাঙ্গা হবেই। আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সব সময় প্রায় দেখা যায় লাস্ট ওভার বা অমন জায়গায় ম্যাচ যাবেই। আর ডিসাইডও হয়। টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি যেহেতু অল্প সময়ের খেলা তাই ক্লোজ ম্যাচ বেশি হবে। ওই সময় নার্ভ ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আগে আমরা ক্লোজ ম্যাচ হেরে যাচ্ছিলাম। এখন ঘুরে দাঁড়ানো শিখছি। আমি বলব না যে শিখে গিয়েছি। আগে তো ক্লোজ ম্যাচগুলা হেরে যেতাম। এখন জিতছি।

প্রশ্ন : টিম কম্বিনেশন নিয়ে ভাবছেন কিনা?

সাকিব : এগুলো নিয়ে অবশ্য চিন্তা করা হয়নি। কম্বিনেশন নিয়ে কথা বলতে গেলে দেখা যায় অন্যান্য টিমে ৪ জন ৫ জন অলরাউন্ডার আছে। স্বাভাবিকভাবে ওদের অ্যাডভানটেজ বেশি থাকে। ওই লাক্সারিটা আমাদের নেই। যে রিসোর্স আছে সেটা দিয়ে আমরা কীভাবে সেরাটা ব্যবহার করতে পারি সেটা করব।

প্রশ্ন : স্ট্রাইক রেট নিয়ে কি বাংলাদেশ ভাবছে?

সাকিব : এই বিশ্বকাপ নিয়ে না। আমরা টিম হিসেবে চিন্তা করছি। কোনো পজিশন নিয়েও ভাবছি না। আমরা টিম হিসেবে কেমন ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং করব সেটাই ভাবছি।

প্রশ্ন : হাসান মাহমুদের পারফরম্যান্স কেমন দেখলেন?

সাকিব : এটা ওর প্রথম বিশ্বকাপ। এবারই প্রথম খেলছে। এ বয়সে যে অনেক কিছু করা যায় সেটা প্রমাণ করেছে। ওর মাথা ভালো। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ সেরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে। আপনারা দুটি জয় পেয়েছেন। এবার সেমিফাইনাল নিয়ে কী ভাবছেন? ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচ সামনে। কী ভাবছেন আসলে? অ্যাডিলেড পর্বটা আসলে গুরুত্বপূর্ণ কিনা। লক্ষ্যটা কী?

সাকিব : নেক্সট টার্গেট হচ্ছে দুটি ম্যাচ খুব ভালোভাবে খেলা। যদি কোনোটা জিততে পারি তাহলে সেটা আপসেট হিসেবে গণ্য হবে। আর সে আপসেটটা যদি আমি করতে পারি তাহলে খুশি হব। আর না করতে পারলেও আসলে খুব বেশি কিছু বলার নেই। ভারত ও পাকিস্তান পেপারে আমাদের থেকে অবশ্যই বেটার। আর আমরা যদি ভালো খেলি আর আমাদের যদি দিন থাকে তা হলে কেন জিততে পারব না? এই বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। আবার পাকিস্তানকে জিম্বাবুয়ে হারিয়ে দিয়েছে। আর এমন রেজাল্ট হলে অবশ্যই আমরা খুশি হব।

প্রশ্ন : বৃষ্টির জন্য অনুশীল করতে পারলেন না। এটা পেলে ভালো হতো কিনা?

সাকিব : আসলে বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রস্তুতি যা নেওয়ার তাই নিতে হয়। আর একবার শুরু হয়ে গেলে কিছু করার থাকে না। যতটুকু সময় পাওয়া যায় সেটার মধ্যে যতটা সেরা প্রস্তুতি নেওয়া যায় আর কি। এখানে যত বেশি ফ্রেশ থাকা যায় মেন্টালি। আর লক্ষ্য রাখা উচিত গ্রাউন্ডে কতটা শতভাগ দেওয়া যায়।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনা কী?

সাকিব : কোচের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিছু চিন্তা-ভাবনার আদান প্রদান হয়েছে। আমি এখনো চিন্তা করিনি। একটু অপেক্ষা করছি। যে টিমই সিলেক্ট করি সেটাই ভালো করবে। এমন টিম খেলছে তারা ২টি ম্যাচ জিতেছে। অনেক প্রশ্ন আসবে তবে চিন্তা করলে সেটা বের হবে। অনেক সময় চিন্তা কাজে লাগবে না। আবার অনেক সময় লেগেও যাবে। -নিউজ ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here