আরও এক স্বপ্নপূরণ: শুরু হলো নতুন পথের যাত্রা

0
43

(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) আজকের সুর্যোদয়টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাঙালি জাতির কাছে। এ দিনেই আরেকটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বাংলাদেশের। পদ্মা সেতুর পর আজ মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ। বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহু প্রতীক্ষিত এ গণপরিবহন উদ্বোধন করবেন। এর মধ্য দিয়ে লাল-সবুজের এই দেশে সবুজ পতাকা নাড়িয়ে প্রথম মেট্রো চলাচলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রথম যাত্রী হিসেবে ট্রেনে চড়বেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ২০০ অতিথিও তার সঙ্গে থাকবেন। উদ্বোধনী ট্রেনের চালক হিসেবে মরিয়ম আফিজার নাম শোনা গেছে।

উদ্বোধনের পরদিন আগামীকাল থেকে মেট্রোতে চড়তে পারবেন যাত্রীরা। এ মেট্রোরেল হচ্ছে দেশের প্রথম সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত ট্রেন। চলাচল করবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। মেট্রোরেলের টিকিট পুরোপুরিই কম্পিউটারাইজড। উত্তরার দিয়াবাড়িতে ডিপোয় একটি অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ট্রেন কোথায় কোথায় থামবে, কত সময় থামবে, কত গতিতে চলবে এর সবই আগে থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পথটি লাইন-৬ নামে পরিচিত। এ পথের দৈর্ঘ্য ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৬টি স্টেশন থাকছে। লাইন-৬-এর দুটি ভাগ : উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং আগারগাঁও থেকে মতিঝিল। শুরুতে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল। মাঝখানে কোনো স্টেশনে থামবে না। পৌনে ১২ কিলোমিটারের এ পথ পাড়ি দিতে মেট্রোরেলের সময় লাগবে ১০ মিনিট ১০ সেকেন্ড। প্রথম দিকে চলবে দিনে চার ঘণ্টা; সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। টিকিট (কার্ড) কাটা যাবে উত্তরা ও আগারগাঁও স্টেশন থেকে। এ পথের ভাড়া ৬০ টাকা। এমআরটি-৬ উত্তরা থেকে মতিঝিলের মধ্যে বাকি অংশ চালু হবে আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে। ২৬ মার্চ থেকে মেট্রোরেল সব স্টেশনে থামবে। মেট্রোরেলের আজকের উদ্বোধন উপলক্ষে গতকাল সকালে সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আগামী বছর ডিসেম্বরে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হবে। ২০২৫ সালে কমলাপুর পর্যন্ত চলবে। সে ক্ষেত্রে পুরোটা চালু হলে উত্তরা থেকে মতিঝিলে যেতে ৩৮ মিনিট লাগবে। ঘণ্টায় ৬০ হাজার অর্থাৎ দিনে ৫ লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে চলাচল করতে পারবেন।

মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে চলবে এ মেট্রোরেল। এটি আমাদের দেশের মানুষের কাছে নতুন। তাই অভ্যস্ত হতে সময় লাগবে। স্টেশনে এসে টিকিট সংগ্রহ ও ট্রেনে চড়া রপ্ত করলে সব স্টেশন চালু হয়ে যাবে। প্রথম দিকে প্রতি ট্রেনে ২০০ যাত্রী পরিবহন করা হবে। এ মেট্রোতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য হাফ ভাড়ার সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ তিন ফুট উচ্চতার শিশু অভিভাবকের সঙ্গে থাকলে ভাড়া লাগবে না। আর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা বিনামূল্যে মেট্রোতে চড়তে পারবেন।

উদ্বোধনের পরের দিন থেকে যাত্রী পরিবহনের জন্য দিয়াবাড়ি ও আগারগাঁও স্টেশন প্রস্তুত করা হয়েছে। স্টেশনে মিলবে মেট্রো পাস। এ পাস দিয়ে কিংবা স্টেশন থেকে টিকিট কেটেও ভ্রমণ করা যাবে মেট্রোরেলে। পাস পেতে করতে হবে নিবন্ধন। প্রথমদিকে স্টেশনে দুধরনের কার্ড পাওয়া যাবে। স্থায়ী ও এক যাত্রার (সিঙ্গেল জার্নি) কার্ড। শুরুতে মেট্রোরেল স্টেশন থেকেই এ কার্ড কিনতে হবে। পরে পর্যায়ক্রমে স্টেশনের বাইরে কার্ড বিক্রির জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থায়ী কার্ড পেতে নিবন্ধন করতে হবে। কাল বৃহস্পতিবার ডিএমটিসিএলের ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের লিংক দেওয়া হবে। এদিন থেকে নিবন্ধন করা যাবে। নিবন্ধন করতে নিজের নাম, মাতাপিতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট নম্বর, মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল আইডি লাগবে। এক যাত্রার (সিঙ্গেল জার্নি) কার্ডের জন্য নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না। স্টেশন থেকে এ কার্ড কিনে যাত্রা করা যাবে। ট্রেন থেকে নামার সময় কার্ড রেখে দেওয়া হবে। স্টেশনের টিকিট অফিস মেশিন (টিওএম) থেকে বিক্রয়কর্মীর সহায়তায় কার্ড কেনা যাবে। এ ছাড়া ভেন্ডিং মেশিন থেকে যাত্রীরা নিজেরাই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।

ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, র‌্যাপিড পাসেও চড়া যাবে মেট্রোরেলে। বিনামূল্যে দেওয়া হবে পাস। তবে জামানত বাবদ দিতে হবে ২০০ টাকা। পাস ফেরত দিয়ে জামানতের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। স্টেশনের নির্দিষ্ট স্থান থেকে পাস ইস্যুর সময় ২০০ টাকা রিচার্জ করতে হবে। পাস বা টিকিট পাঞ্চ করলে স্টেশনের তৃতীয়তলার দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, মেট্রোরেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আতশবাজির কর্মসূচি ছিল। সেটা বাদ দেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতুর আদলে সুধী সমাবেশের মাধ্যমে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হবে। ১১টায় উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। ধাপে ধাপে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২০০ আমন্ত্রিত অতিথিকে সঙ্গে নিয়ে মেট্রোরেলে চেপে তিনি আগারগাঁও প্রান্তে আসবেন। বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে পায়রা অবমুক্তকরণ ও ফায়ারওয়ার্কসের পরিকল্পনা থাকলেও সেটা বাদ দেওয়া হয়েছে।

সড়কমন্ত্রী জানান, ১২টা ২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন। এর পর এরিয়াল ভিউ প্রদর্শনী হবে। থিমসং পরিবেশন হবে। সুধী সমাবেশে বক্তব্য শেষে উত্তরা উত্তর স্টেশন পরিদর্শন করবেন শেখ হাসিনা। মূল ফলক পরিদর্শন করে ফলকের পাশে একটি তেঁতুল গাছের চারা রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর পর সেখান থেকে প্ল্যাটফর্মে উঠে টিকিট মেশিন ব্যবহার করে টিকিট কিনবেন সরকারপ্রধান। প্ল্যাটফর্মে প্রধানমন্ত্রী সবুজ পতাকা নেড়ে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেলের চলাচলের শুভ সূচনা করবেন। স্মারক হিসেবে সবুজ পতাকায় স্বাক্ষর করবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য সংরক্ষিত কোচের দরজায় ফিতা কেটে ট্রেনে উঠবেন। ট্রেনে তিনি আমন্ত্রিত অতিথির সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। তার পর আগারগাঁও স্টেশনে নেমে প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে গণভবনে ফিরবেন বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

ডিএমটিসিএল তথ্য মতে, এমআরটি-৬ লাইনের জন্য ২৪ সেট ট্রেন কেনা হচ্ছে জাপান থেকে। ১৯টি ট্রেন এসেছে বাংলাদেশে। ১৯ ধরনের পরীক্ষা চলছে সেগুলোর। পারফরমেন্স টেস্ট, ট্রায়াল রান ও ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট শেষ হওয়া ১০টি ট্রেন চলবে দিয়াবাড়ি-আগারগাঁও অংশে। আর দুটি রিজার্ভ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুরুতে পাঁচটি ট্রেন চলবে। মেট্রোরেলের প্রতি ট্রেনে ছয়টি কোচ বা বগি থাকছে। দুই প্রান্তের দুটি কোচকে বলা হচ্ছে ট্রেইলর কার। এতে চালক থাকবেন। এসব কোচে ৪৮ জন করে যাত্রীও বসতে পারবেন। মাঝখানের চারটি কোচ হচ্ছে মোটরকার। এর প্রতিটিতে বসার ব্যবস্থা আছে ৫৪ জনের। সব মিলিয়ে একটি ট্রেনে বসে যেতে পারবেন ৩০৬ জন। প্রতিটি কোচ সাড়ে নয় ফুট চওড়া। মাঝখানের প্রশস্ত জায়গায় যাত্রীরা দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করবেন। দাঁড়ানো যাত্রীদের ধরার জন্য ওপরে হাতল এবং স্থানে স্থানে খুঁটি আছে। সব মিলিয়ে একটি ট্রেনে বসে ও দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০৮ যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) এ ট্রেনের দুই পাশে সবুজ রঙের দুই সারি লম্বা আসন পাতা হয়েছে। প্রতিটি কোচের দুই পাশে চারটি করে আটটি দরজা আছে। অর্থাৎ ট্রেন স্টেশনে থামলে চারটি দরজা একসঙ্গে খুলে যাবে। বাকি চারটি বন্ধ থাকবে। পরবর্তী গন্তব্য সম্পর্কে থাকবে অডিও-ভিজ্যুয়াল ঘোষণা। দুই প্রান্তের দুটি কোচে দুটি করে চারটি হুইলচেয়ার বসানোর ব্যবস্থা আছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাড়ে তিন মিনিট অন্তর ট্রেন চলবে। তবে শুরুর দিকে ১০ মিনিট অন্তর চলবে। দিয়াবাড়ি এবং আগারগাঁওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ১০ মিনিট করে অপেক্ষা করবে, যাত্রী ওঠানামার সুবিধার্থে। পরে যেসব স্টেশন চালু হবে, সেখানেও ১০ মিনিট করে যাত্রাবিরতি করবে। ভবিষ্যতে মেট্রোরেলের ট্রেনগুলোতে আরও দুটি করে বগি যোগ হবে। তখন ট্রেনগুলোর সর্বোচ্চ যাত্রীধারণ ক্ষমতা হবে তিন হাজার ৮৮ জন। যা ৭৭টি বাসের যাত্রীর সমান। মেট্রোরেলে একসঙ্গে কম সময়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করতে পারায় কমবে সড়কপথের যানজট। উদ্বোধনের পর কাল থেকে উত্তরার দিয়াবাড়ি ও আগারগাঁও স্টেশনে বিআরটিসির শাটল বাস রাখা হবে। যাতে করে মেট্রোযাত্রীরা বাসে চেপে অন্যত্র যেতে পারেন।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) তথ্যমতে, বছরে দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ ক্ষতি করছে যানজট। টাকার অঙ্কে ৮৭ হাজার কোটি টাকা। দিয়াবাড়ি থেকে কমলাপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন এমআরটি-৬ লাইন যানজটের ক্ষতি কমাবে ৯ শতাংশ। দিয়াবাড়ি থেকে কমলাপুর পর্যন্ত করিডরে ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাসের চলাচলও কমবে।

ডিএমটিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, দিয়াবাড়ি থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার পথ মেট্রোরেল পাড়ি দেবে ৪০ মিনিটে। বিশ^ব্যাংকের হিসাবে ঢাকায় গাড়ির গতি এখন ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটার। অর্থাৎ দিয়াবাড়ি থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সময় লাগে চার ঘণ্টার বেশি। মেট্রোরেলে সময় সাশ্রয় হবে ৮০ শতাংশ। ঢাকায় এসি বাসে উত্তরা থেকে মতিঝিলের ভাড়া ১০০ টাকা। মেট্রোরেলেও একই পরিমাণ ভাড়া দিতে হবে। তবে সময় লাগবে মাত্র ২০ ভাগ।

২০০৪ সালে প্রণীত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) যানজট নিরসনে রাজধানীতে তিনটি মেট্রোরেল এবং তিনটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। এসটিপিতে না থাকলেও ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়। এতে যানজট আরও বাড়ে। ২০১৫ সালে সংশোধিত এসটিপিতে পাঁচটি মেট্রোরেল এবং দুটি বিআরটি নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। এমআরটি-৬ প্রকল্প সরকারের অনুমোদন পায় ২০১২ সালে। ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। বেড়ে হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। জাইকা ঋণ দিচ্ছে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। প্রকল্প মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেড়েছে।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে মেট্রোরেল যে অংশে চলাচল শুরু করবে, সেই উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে আগারগাঁও স্টেশনের ভাড়া হবে ৬০ টাকা। উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে উত্তরা সেন্টার (মধ্য) ও উত্তরা দক্ষিণ স্টেশনের ভাড়া ২০ টাকা। এ ছাড়া প্রথম স্টেশন উত্তরা উত্তর থেকে পল্লবী ও মিরপুর-১১ স্টেশনের ভাড়া ৩০ টাকা, মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনের ভাড়া ৪০ টাকা এবং শেওড়াপাড়া স্টেশনের ভাড়া ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল ও কমলাপুর পর্যন্ত ভাড়া ১০০ টাকা, টিএসসি ও সচিবালয় ৯০ টাকা, কাওরানবাজার ও শাহবাগ ৮০ টাকা, ফার্মগেট ৭০ টাকা। পল্লবী থেকে বিজয় সরনি ৪০ টাকা, ফার্মগেট ৫০ টাকা। মিরপুর-১১ থেকে ফার্মগেট ৪০ টাকা। মিরপুর-১০ থেকে ফার্মগেট ৩০ টাকা।

অন্য দেশের তুলনায় ভাড়া বেশি কিনা প্রশ্নে ডিএমটিসিএলের এমএএন সিদ্দিক বলেছেন, সেসব দেশে আরও আগে মেট্রো নির্মিত হওয়ায় নির্মাণ ব্যয় ছিল কম। বাংলাদেশের নির্মাণ ব্যয়ের হিসাবে ভাড়া নির্ধারণ করা উচিত ছিল, তার চেয়ে কম রাখা হচ্ছে। ভাড়ার আয়ে মেট্রোরেলের নির্মাণ ও পরিচালনার খরচ উঠবে না।

এমএএন সিদ্দিক জানান, সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। আয় বাড়াতে স্টেশন এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালাবে ডিএমটিসিএল।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম আমাদের সময়কে জানান, আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যাত্রীদের পৌঁছে দিতে থাকছে বিআরটিসির ৫০টি দ্বিতল নন-এসি বাস। দিয়াবাড়ি থেকে উত্তরা পর্যন্ত ১০টি এবং আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৪০টি বাস চলবে শাটল হিসেবে। এখন উত্তরা ও আগারগাঁও দুই স্টেশনে শাটল বাস থাকবে।

মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও যাতায়াতে ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগবে বলে হিসাব করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ট্রেন চলাচলের জন্য নিজস্ব বিদ্যুৎব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোথাও বিদ্যুৎবিভ্রাট হলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হবে না। জাতীয় গ্রিড বিপর্যয় হলেও ব্যাটারির মাধ্যমে চলমান ট্রেনগুলো নিকটবর্তী স্টেশনে পৌঁছাতে পারবে।

এদিকে মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় থাকবে এমআরটি পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, মেট্রোরেলের নিরাপত্তার জন্য ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) পুলিশ গঠনের জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রয়েছে। এটির অনুমোদন হওয়ার আগ পর্যন্ত ডিএমপি মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

একনজরে

এমআরটি-৬ : দিয়াবাড়ী থেকে কমলাপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন মেট্রোরেল রুটের নাম ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি)-৬।

উদ্বোধন : দিয়াবাড়ী-আগারগাঁও অংশ ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২। যাত্রী পরিবহন ২৯ ডিসেম্বর থেকে।

আগারগাঁও-মতিঝিল খুলবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে।

মতিঝিল-কমলাপুর ২০২৫ সালের জুনে।

নির্মাণ ব্যয় : ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।

দৈর্ঘ্য : দিয়াবাড়ী-কমলাপুর ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার।

দৈর্ঘ্য : দিয়াবাড়ী-কমলাপুর ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার।

দিয়াবাড়ী- আগারগাঁও ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার

স্টেশন সংখ্যা : ১৭টি

স্টেশনের নাম : দিয়াবাড়ী (উত্তরা নর্থ), উত্তরা সেন্টার, উত্তরা সাউথ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণী, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, শাহবাগ, টিএসসি, সচিবালয়, মতিঝিল ও কমলাপুর।

স্টেশন বৈশিষ্ট্য : সড়কের মাঝ বরাবর মিডিয়ানে ১৩ মিটার উঁচুতে নির্মিত। স্টেশনগুলো তিন তলা। দ্বিতীয় তলা তথা কনকোর্স লেভেলে থাকবে নন-পেইড জোন ও বাণিজ্যিক স্পেস। যাত্রীরা এখানে টিকিট কেটে তৃতীয় তলা তথা প্ল্যাটফর্মে যাবেন। সেখান থেকে চলবে ট্রেন।

ওঠানামা : স্টেশনের উভয় পাশে দুই জোড়া করে সিঁড়ি রয়েছে। আছে এক জোড়া করে এস্কেলেটর ও লিফট।

ট্রেন : এমআরটি-৬ লাইনে চলবে ২৪টি ট্রেন। ১৯টি ট্রেন ইতোমধ্যে দেশে এসেছে। দিয়াবাড়ী-আগারগাঁও অংশে চলবে ১০টি। রিজার্ভ রাখা হবে দুটি। ১৯ ধরনের পরীক্ষা শেষে এগুলো যাত্রী পরিবহনে প্রস্তুত।

বগি : প্রতিটি ট্রেনে রয়েছে ছয়টি করে কোচ বা বগি। ভবিষ্যতে আরও দুটি করে বগি সংযোগ করা যাবে।

গতি : ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম। তবে চলবে ১০০ কিলোমিটার গতিতে। তবে পথের বাঁকে কমবে গতি।

যাত্রী সংখ্যা : প্রতিটি ট্রেন একসঙ্গে দুই হাজার ৩০৮ জন যাত্রী পরিবহনে সক্ষম।

দৈনিক যাত্রী : ঘণ্টায় উভয় দিক থেকে ৬০ হাজার এবং দিনে ৪ লাখ ৮৩ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে এমআরটি-৬।

ভাড়া : কিলোমিটারে ৫ টাকা। সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। ২০ টাকায় দুই স্টেশন ভ্রমণ। পরবর্তী প্রতি স্টেশনের জন্য ১০ টাকা। দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও টাকা ৬০ টাকা। দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল ও কমলাপুর ১০০ টাকা।

আরও মেট্রোরেল: ঢাকায় আরও পাঁচচটি মেট্রোরেল লাইন।

এমআরটি-১ : বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচলে হবে এমআরটি-১। যার দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার। বিমানবন্দর-কমলাপুর অংশ ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার রেলপথ হবে পাতালে।

এমআরটি-৫ নর্দন : ২০২৮ সালের মধ্যে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে গাবতলী হয়ে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ০এমআরটি-৫ নর্দান লাইন নির্মিত হবে। এই পথের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার নির্মিত হবে পাতালে।

এমআরটি-৫ সাউদার্ন : গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি-৫ সাউদার্ন লাইনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হয়েছে।

গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জের পথে এমআরটি-২ এবং কমলাপুর থেকে সাইনবোর্ড হয়ে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত এমআরটি-৪ লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে। ডেস্ক রিপোর্ট

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here