ইসি যেন দেখতেও পান না, শুনতেও পান না : সুজন সম্পাদক

0
59

(দিনাজপুর২৪.কম) বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ‘অন্ধ ও কালা’ মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘আমাদের কমিশনার যেন দেখতেও পান না, শুনতেও পান না।’

রোববার দুপুর ১২টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে সুজন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বদিউল আলম বলেন, ‘কথার কথা- ১৫০টি আসনে ইভিএমে ভোট হলো। একটি দলকে তারা ১৪০টি আসন দিয়ে দিলো। পেপারে লিখিত না থাকলে এটাই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। কুমিল্লায় এভাবেই হয়েছে। যাচাই-বাছাই করার আর কোনো সুযোগ নেই। আমাদের কমিশনার যেন দেখতেও পান না, শুনতেও পান না। এর মানে তারা অন্ধ ও কালা। তারা কী উদ্দেশ্যে ইভিএম করছে, তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ব্যালটের ১১০ শতাংশ ভোট, নাকি ইভিএমের ৫৩ শতাংশ ভোট, কোনটি ভালো- এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব যেন কোনোটাই না হয়, তা নিশ্চিত করা। এটা নিশ্চিত না হলে তাদের ব্যর্থতা। এ দায় তাদের নিতে হবে। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তাদের স্বাধীন করা হয়েছে যেন তারা এদেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তাদের রাখা হয়েছে। তাদের চাকরিচ্যুত করার কোনো বিধান নেই। বিচারকদের মতো তাদের সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। এ দুটির কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো একটি হলেই তারা ব্যর্থ বলে বিবেচিত হবে।’

গত নির্বাচনে ইভিএমকে কেন প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘ইভিএম একটা দুর্বল যন্ত্র। গত নির্বাচনে যে অবস্থা ছিল, সে অবস্থায় কিছু আসে যায় না। তখন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলেও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হয়নি। গত নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এবারের নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক এবং সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করব। এ জন্য ইভিএম বিরাট প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বলে আমি মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘জার্মান জুডিশিয়ারি এজন্য বলছে, ইভিএম মেশিন সঠিক হতে পারে। কিন্তু, ভোটারদের এটা নিয়ে সন্দেহ আছে। এ জন্য আমরা ইভিএম থেকে সরে এসেছি। উন্নত দেশগুলো সরে এসেছে। কিন্তু, আমরা কী উদ্দেশ্যে, কার স্বার্থে, কেন ইভিএমে নির্বাচন করছি, এটা আমাদের মনে বিরাট প্রশ্ন।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নতুন ইভিএম কিনতে হলে অর্ধ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে। অন্যদিকে আমরা বর্তমানে চরম সঙ্কটে আছি। সঙ্কট নিরসনে সাত মিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছি। এমতাবস্থায় এটি কতটুকু যুক্তিযুক্ত আমার বোধগম্য নয়। -অনলাইন ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here