একমাত্র ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা : পানিতে ডুবেছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন

0
75
ছবি-সংগ্রহীত
(দিনাজপুর২৪.কম) কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার মাদাইডাঙ্গা বিলে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে ওই বিলের ১ হাজার ৩০০ একর আবাদি জমিতে একমাত্র ফসল বোরো ধান চাষ হলেও তা ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ১ হাজার ৬০০ কৃষক। বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে না পারলে ভেস্তে যাবে হাজারো কৃৃষকর স্বপ্ন। দ্রুত এ বিলের পানি নিষ্কাশনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান ভুক্তভোগী কৃষকরা।
উপজলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ও শৌলমারী ইউনিয়নের আওতায় মাদাইডাঙ্গা বিলে ১ হাজার ৬০০ কৃষকের ১ হাজার ৩০০ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৭০০ একর জমিতে সারা বছর পানি জমে থাকে। বিলটি শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দির পুড়ারচর গ্রামে থেকে উত্তর গোবরার গ্রাম পর্যন্ত দৈর্ঘে চার কিলোমিটার এবং দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ঝগড়ারচর গ্রাম থেকে বংশীরচর গ্রাম পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার প্রশস্ত।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ঝগড়ারচর কুড়ার মোড় থেকে উজান ঝগড়ারচর সড়কের টাপুরচর সড়কের দক্ষিণ দিক ও শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকাদি থেকে টাপুরচর সড়কের উত্তরের এলাকা পর্যন্ত মাদাইডাঙ্গা বিলের বিস্তার। বিলটির আংশিক এলাকার জলাশয়ে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে। এ বছর বেশিরভাগ জমিতে চাষ করা হয়েছে বোরো ধান। তবে বৃষ্টির পানিতে বিলের অনেক জায়গায় বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ঝগড়ারচর গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, ‘মাদাইডাঙ্গা বিলে তাদের ১০ বিঘা জমি রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে একমাত্র বোরো ধানের আবাদ করা হয় ওই জমিতে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এত জমির ধান পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক সময় ধান ঘরে তুলতে পারলেও পানিতে নষ্ট হওয়ায় ফলন কম হয়।’
শৌলমারী ইউনিয়নের ঝগড়ারচর মাঝিপাড়া এলাকার কৃষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ বলেন, বিলটি জলাবদ্ধ হওয়ায় বোরো আবাদ ছাড়া আর কোনো ফসল ফলানো যায় না। ওই বিলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারলে বছরে এক ফসলের জায়গায় ৩-৪টি ফসল চাষ করা সম্ভব। পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি। দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যুগ যুগ ধর জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি থেকে যাচ্ছে এ বিলের জমিগুলো। বিষয়টি নিরসনের জন্য উপজলা কৃষি কর্মকর্তাক জানানো হয়েছে। তাদের (কৃষি কর্মকর্তা) বলেছেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেবেন।’
রৌমারী উপজলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারলে বোরো ও আমন ধানের আবাদ করা যাবে। পানি নিষ্কাশনের উপায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিলটির মাটির নিচ দিয়ে ড্রেন, ক্যানেল বা পাইপের মাধ্যমে পানি নদীতে ফেলতে পারলে এর জলাবদ্ধতা দূর হবে। ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় সম্বন্ধে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ কাজগুলো আমাদের দফতরের নয়। এগুলোর কাজ উপজেলা পরিষদের সেচ ও পুনর্বাসন কমিটি করে থাকে। আগামী মাসিক মিটিংয়ে বিষয়টি তুলে ধরবেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। -ডেস্ক
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here