এনআইডি পেতে ভোগান্তি চট্টগ্রামে সক্রিয় জাল চক্র

0
31

(দিনাজপুর২৪.কম) ভিপিএনের (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) মাধ্যমে ওয়েবসাইটে ঢুকে দুই মিনিটে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) বানাচ্ছে একটি চক্র। রোহিঙ্গা ও অপরাধীরা এটা ব্যবহার করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এর আগে রোহিঙ্গাদের এনআইডি কার্ড পাইয়ে দেওয়াসহ নানা অনিয়ম ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের স্থায়ী-অস্থায়ী অন্তত আটজন কর্মকর্তাকে আটক করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এসংক্রান্ত পাঁচটির বেশি মামলা বর্তমানে তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে এনআইডি কার্ড পেতে সাধারণ মানুষের ভিড় লেগেই রয়েছে। মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত এনআইডি কার্ড পাচ্ছে না তারা। কর্মকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী নানা তথ্য-প্রমাণের কাগজ জমা দিতে দিতে হয়রান সাধারণ মানুষ। এ কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে জাল এনআইডি কার্ড তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

মুঠোফোনের নতুন সিম কার্ড তোলা, বাড়িভাড়া, হোটেল কক্ষ ভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স তৈরির কাজে এসব ভুয়া এনআইডি কার্ড ব্যবহার করা হয়। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) দাবি, আত্মগোপন ও অপরাধে ব্যবহার করা হয় এসব এনআইডি কার্ড। নাম-ঠিকানা সবই ভুয়া হওয়ায় এদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া প্রকৃত এনআইডি কার্ড না পেয়ে জরুরি কাজ করার জন্য সাধারণ মানুষও এই জাল এনআইডি তৈরি করছে।

ভাগ্নির এনআইডি কার্ড করাতে নগরের লাভ লেন এলাকায় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে গিয়েছিলেন সদরঘাট এলাকার হাসান মাহমুদ। কিন্তু কোতোয়ালি থানা নির্বাচন কার্যালয়ের মুখে নতুন ভোটার হতে যে ১৬টি চেক লিস্ট চাওয়া হয়েছে, তা দেখে ঘাবড়ে যান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এনআইডি কার্ডের জন্য জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, আবার জন্ম নিবন্ধন করাতে গেলে এনআইডি কার্ড বাধ্যতামূলক। সন্তানের না থাকলে, মা-বাবার এনআইডি কার্ড লাগবে। মোট ১৬ ধরনের কাগজপত্র আর ফরম পূরণ মনঃপূত হলে এরপর এনআইডি কার্ডের সুযোগ মিলবে। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই কঠিন শর্তগুলো পূরণ অনেক কষ্টসাধ্য।’

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সূত্র জানায়, গত এক বছরে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে জড়িত এমন ১২ জনকে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭ ও পুলিশ। তাঁরা হলেন, বাসুদেব নাথ (৩৩), মো. বদিউল আলম (৫৪), মো. ইমরান (২৭), মো. হোসাইন (২২), মো. জিয়া উদ্দিন (৩২), মো. খালেক (৩৯), মো. বেলাল হোসেন টিপু (৩৩), মো. রবিউল ইসলাম (২৩), প্রদীপ দাস (২৭), মো. রাকিব হোসেন (২৫), মো. জোনায়েদুল ইসলাম ও মো. আলম খান। এর মধ্যে শেষোক্ত তিনজনকে গত এক সপ্তাহে আটক করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ জানান, তাঁরা এ বছর প্রায় ১০-১২টি ভুয়া এনআইডি তৈরির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছেন। এর মাধ্যমে ১০০-র বেশি ভুয়া এনআইডি উদ্ধার করেছেন। অনেককে গ্রেপ্তার করেছেন। এটি ঠিক চক্র নয়, ব্যক্তিগতভাবে অনেকে এমন অপরাধে জড়িত। এরা কারিগরিভাবে খুব দক্ষ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁটে ও ভিপিএন ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে ঢুকে দুই মিনিটে এনআইডি তৈরি করছে। শুধু এনআইডি নয়, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশংসাপত্র, সনদপত্র, জন্ম নিবন্ধন তৈরি করছে। তিনি বলেন, ‘যারা এনআইডির জন্য আবেদন করেছে, হয়তো কোনো কারণে পাচ্ছে না। আবার রোহিঙ্গাও হতে পারে। যারা ভুয়া এনআইডি নেওয়ার চেষ্টা করছে, এই গ্রুপটি সেই সুযোগ নিয়ে ভুয়া এনআইডি তৈরি করছিল।’

ভুয়া এনআইডির বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আসেনি দাবি করে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘ফেক এনআইডি আপনি যাচাই করতে পারবেন। অনলাইন কপি প্রিন্ট করতে গেলে ভুয়া হলে ওয়েবসাইট থেকে প্রিন্ট হবে না।’ তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ে যখন কার্যক্রম চলে, তখন তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সুপারভাইজার কর্তৃক যাচাই-বাছাই করে ধাপে ধাপে ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার মাধ্যমে প্রক্রিয়া শেষ হয়।-অনলাইন ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here