এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে স্বৈরাচারের উত্থান: জিএম কাদের

0
68
ফাইল ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম)জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, পল্লীবন্ধুর ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই স্বৈরাচারের উত্থান আর গণতন্ত্র নিপাত যেতে শুরু করেছে। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর সাংবিধানিকভাবেই রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তর করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে সোমবার সংবিধান সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। এ সময় জিএম কাদের এমপির হাতে ফুল দিয়ে বিশ্বব্যাংকের সাবেক কনসালটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মনির আহমেদ জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও আমাদের বলতে হচ্ছে, স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর হতে পারে না। এখন রাস্তায় নেমেই কেউ স্লোগান দিতে পারে না স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক। এ থেকেই বোঝা যায়, দেশের মানুষ কতটা গণতন্ত্র ভোগ করছে। তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে সামরিক বাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। আবার ১৯৯০ সালে সংবিধান সমুন্নত রেখে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাংবিধানিক নিয়মনীতি মেনেই ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন।

জিএম কাদের বলেন, দেশে সাংবিধানিকভাবেই একনায়কতন্ত্র চলছে। একটি দলের প্রধান সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারপ্রধান দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশের নির্বাহী বিভাগের প্রধান হন তিনি। আবার সরকারপ্রধানের সিদ্ধান্তের বাইরে দলীয় সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারে না। তাই সরকারপ্রধান যা বলেন তার বাইরে কিছুই হতে পারে না। এতে আইনসভাও সরকারপ্রধানের অধীনে। অপরদিকে বিচার বিভাগ রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শতকরা ৯৫ ভাগই সরকারপ্রধানের অধীনে। তাই রাষ্ট্রে প্রধান তিনটি বিভাগ এক ব্যক্তির অধীনে থাকায় এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, যাকে সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র বলা যায়। তিনি বলেন, সঠিকভাবে নির্বাচন না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। এ কারণেই জাতীয় পার্টি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের দাবি করে আসছে। জনগণের কাছে সরকারের সার্বক্ষণিক জবাবদিহিতাই হচ্ছে গণতন্ত্রের চর্চা। কিছু মানুষ অন্যায়ভাবে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে স্বৈরাচার বলেন। কিন্তু কেন স্বৈরাচার বলে তার উত্তর দিতে পারেন না। তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চেয়ে ছোট স্বৈরাচার কে?

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বারবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে দেশে মানুষে মানুষে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতাসীন দলের কর্মী না হলে পরীক্ষায় প্রথম হয়েও কেউ চাকরি পায় না। সরকারি দলের সদস্য না হলে কেউ ব্যবসা করতে পারে না। তেমনিভাবে সরকারি দলের হলে এক ধরনের আইন আর বিরোধীদের জন্য আলাদা আইন। ধনীদের জন্য এক আইন আর গরিবদের জন্য অন্য আইন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের মানুষের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনীতি ছিল গণমানুষের জন্য কল্যাণকর রাজনীতি। তিনি ঐতিহাসিক ওষুধনীতি করেছেন। দেশের মানুষ এখন স্বল্পমূল্যে মানসম্মত ওষুধ কিনতে পারছে। দেড় শতাধিক দেশে বাংলাদেশ এখন ওষুধ রপ্তানি করছে। উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন করে দেশের মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যার সুফল আজীবন দেশের মানুষ উপভোগ করবে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে সৈন্য পাঠিয়েছেন তখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করে তিন দিনের হরতাল দিয়েছিল। আজ প্রমাণ হয়েছে তার প্রতিটি সিদ্ধান্তই দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর। গণমানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় আজীবন বেঁচে থাকবেন।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশের ৯০ ভাগ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করেছেন। যতদিন বাংলাদেশে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব থাকবে ততদিন কেউ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম পরিবর্তন করতে পারবে না। জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এক হয়ে অপচেষ্টা করেছে, কিন্তু সফল হয়নি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২১ বছর ক্ষমতায় না থেকেই নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। আবার মাত্র ১৩ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু জাতীয় পার্টি ৩১ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে থেকেও অত্যন্ত সুসংহত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মাঠে আছে। কারণ জাতীয় পার্টি হচ্ছে দেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার রাজনৈতিক প্ল্যাটফরম।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, জহিরুল ইসলাম জহির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরীফা কাদের এমপি, জহিরুল আলম রুবেল, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ওমর, এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, যুব সংহতির আহ্বায়ক এইচএম শাহরিয়ার আসিফ, মহিলা পার্টির সদস্য সচিব হেনা খান পন্নি, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, শ্রমিক পার্টির সভাপতি একেএম আশরাফুজ্জামান খান, জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি ইব্রাহিম খান জুয়েল প্রমুখ।-অনলাইন ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here