এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া যায় না

0
34

(দিনাজপুর২৪.কম) পুরস্কার বিতরণী ও সংবাদ সম্মেলন দুই জায়গাতেই তামিম ইকবালের স্বীকারোক্তি এর চেয়ে বেশি চাওয়ার নেই। সত্যিই তো, ঐতিহাসিক সিরিজ জেতা একজন অধিনায়ক এটাই তো বলবেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পেস কন্ডিশনে দলের পেসাররা ম্যাচ জেতাচ্ছেন। সিরিজসেরাও হচ্ছেন। ব্যাটসম্যানরা রান পাচ্ছেন। দলের সবাই মিলে পরিকল্পনার সবটুকুর সফল প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন। চাওয়া-পাওয়ার হিসাবে যখন প্রাপ্তির খাতায় শতভাগ ইতিবাচক কালির আঁচড় তখন তৃপ্তির ঢেঁকুর তো তোলাই যায়। তামিম তাই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন। জোহানেসবার্গে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের হার ভুলে বলছেন এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই।

দেশ ছাড়ার আগেই তামিম বলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায় এবার জিততে চান। সিরিজ জিতবেন তা বলেননি। অধিনায়কের আশায় ঝাঁপি এখন প্রাপ্তিতে ভরে উঠেছে। তাই তামিম সন্তুষ্ট, ‘আমি আজ খুব গর্বিত একজন। বিশেষ করে বাংলাদেশের পেস বোলার পাঁচ উইকেট পেয়ে ম্যাচ ও সিরিজ জিতিয়েছে এবং সিরিজসেরা পুরস্কারও পেয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু চাইতে পারি না। ওরা (দক্ষিণ আফ্রিকা) ভারতের সঙ্গে ৩-০তে জিতেছে। আমাদের বিশ্বাস ছিল সিরিজ জিততে পারি কিন্তু এর জন্য অবিশ্বাস্য ভালো করতে হতো। আমাদের দক্ষিণ আফ্রিকার মতো মাঠে এসে ভালোর সবকিছু করতে হতো। আমাদের বিশ্বাসটা শুরু হয়েছিল প্রথম ম্যাচ জেতার পর থেকেই। যে না আমরা সিরিজটা জিততে পারি। আজ সেই সুযোগটা এসেছে।’

তামিম স্বীকার করলেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে এই ম্যাচে ১৫৪তে আটকে দিবেন তা ভাবেননি। আবার যখন এই রানের লক্ষ্য এসেছে তখন ম্যাচ হালকাভাবেও নেননি। কারণ, তামিম জানেন অতীতে অনেকবারই বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে থেকে পিছলে পড়েছে; আবার জয়ের খুব কাছে গিয়েও ম্যাচ হেরেছে। তাই এবার ভিন্ন পরিকল্পনায় দুর্ধর্ষ বাংলাদেশ, ‘সত্যি কথা যেভাবে ওরা শুরু করেছিল, তো এটা মনে করিনি যে ১৫০-এ অলআউট করে দিব। কিন্তু যখন আমরা ওদের ইনিংসের দুটো উইকেট পেলাম তখন থেকে আমরা আমাদের দিকে ম্যাচ আনা শুরু করি। আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসে এমন আছে যে আমরা কিছু দ্রুত উইকেট পাই, এরপর বিপক্ষ ভালো জুটি করে ফেলে আর আমরা ম্যাচ থেকে ছিটকে যাই। তো আজ আমাদের চিন্তা ছিল যেন ওদের কোনো সুযোগই দেওয়া না হয়। আর ইনিংস শেষে আমাদের কথা ছিল যে, এই রানটাকে যেন আমরা ২৭০-এর মতো দেখি। ১৫০ চেজ করি এ রকম চিন্তা যেন না আসে। হ্যাঁ, এটা ঠিক বলেছেন যে ছোট রান তাড়া করতে গেলে অনেক সময় ম্যাচ কঠিন হয়ে যায়। তাই আমরা আজ ওই চিন্তা রেখেছি যে যতটা সম্ভব অ্যাগ্রেসিভ খেলব ও ম্যাচ দ্রুত শেষ করব।’

তামিমের করা প্রশংসায় কাল ভাসছিলেন তাসকিন। ম্যাচ পুরস্কার বিতরণী থেকে শুরু করে সংবাদ সম্মেলনেও থামেনি প্রশংসার বাণ। তৃতীয় ওয়ানডের আগেই আইপিএলে ডাক পাওয়ার খবর পান তাসকিন। একজন ক্রিকেটারের জন্য যা বর্তমানে পরম চাওয়া। সেই আক্ষেপ এখন আর নেই তাসকিনের। কারণ, দেশকে জিতিয়েছেন। ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ ও সিরিজসেরা হয়েছেন। দেশ ছাড়ার সময় তাসকিন বলেছিলেন দলকে জেতাতে চান।

সেই লক্ষ্য তার পূরণ হয়েছে বলে জানান, ‘শুকরিয়া যে সিরিজ জিতেছি। প্রতি সিরিজেই চাই অবদান রাখতে। আজকের এই পুরস্কার আমার বড় পাওয়া। তো দেশ থেকে আসার সময় একজন বলেছিল চার বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকেই ছিটকে পড়েছিলাম তো এবার কী হবে। তো আমি বলেছিলাম আমি ম্যাচ জেতাতে চাই এবার। প্রসেস ফলো করেছি। আবারও বলছি অঅমি গত দুই বছর ধরে এই প্রসেস ফলো করছি, কিভাবে ভাল বল করা যায়। এটাই চেষ্টা করি সব ম্যাচে। আল্লাহর রহমতে সব ঠিক হয়েছে।’

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাসকিন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার বড় ভক্ত। মাশরাফীর সঙ্গে জুটি বেঁধে বোলিংও করেছেন। সিরিজ না থাকলেও মাশরাফীর কাছ থেকে টিপস নিতে আলাদাভাবে সাবেক অধিনায়ককে নিজে ডেকে নেন।

তাসকিনের ইচ্ছা হতো মাশরাফীর মতো দেশের লিজেন্ডারি পেসার হতে, ‘আমি মাশরাফী ভাইয়ের বড় ফ্যান। এখনো তাকে আমি ফোন করি, উনি রেসপন্স করেন। আমি চাই তার মতো একজন লিজেন্ডারি বাংলাদেশ পেসার হতে। কিছু ম্যাচ খারাপ হবে। কিছু ম্যাচ ভালো হবে। আমাদের কাজ হলো নিয়মিত চেষ্টা করা, ভালো পারফরম করা।’

তাসকিনকে সান্ত¡না দিয়ে পুরস্কার বিতরণী শেষে তামিম বলেন ‘তুই তো আইপিএল খেলতে পারিসনি। এটাই তোর আইপিএল।’ প্রথমবারের মতো ম্যাচ ও সিরিজসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে তাসকিনও বললেন হ্যাঁ, পরিবারের বিপদেও দেশের জন্য খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যাওয়া সাকিব আল হাসানকেও ধন্যবাদ দিয়েছেন তাসকিন। সবার এমন ‘কমিটমেন্ট’ বাংলাদেশ দলকে দলীয় সাফল্য এনে দিয়েছে, যা ওয়ানডেতে শক্তিশালী দল হিসেবে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে তামিমদের। -অনলাইন ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here