এ পর্যন্ত সাতটি ব্যাংকে চাকরি পেয়েছি

0
39

যেভাবে চাকরি পেলাম

(দিনাজপুর২৪.কম) পরিসংখ্যানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যখন অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ি, তখনই দেখতাম—আশপাশের বন্ধুরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিসিএস ও অন্যান্য চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আমার শুরুটা আরো পরে। তখন বিসিএস কিংবা ব্যাংক প্রস্তুতি নিয়ে তেমন কোনো ধারণা ছিল না। অনার্সের শেষ দিকে এসে চাকরির জন্য প্রস্তুতি শুরু করি। প্রথমে প্রশ্নব্যাংক (আগের বছরগুলোর ব্যাংক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র), জব সলিউশন ও বিষয়ভিত্তিক বই সংগ্রহ করি। এরপর ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি ও সিলেবাস সম্পর্কে জেনে নিই। কখনো ঘড়ির সময় ধরে পড়িনি, যতটুকু সময় পেয়েছি, পরিকল্পনামতো কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার তিনটি ধাপ—প্রিলিমিনারি (১০০ নম্বর), লিখিত (২০০ নম্বর) ও ভাইভা (২৫ নম্বর)।

kalerkanthoবাংলা ব্যাকরণের প্রস্তুতির জন্য নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের পাশাপাশি বিগত সালের প্রশ্নসংবলিত বইগুলোও দেখেছি। গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পড়েছি একটি বই থেকে, বাকি অংশ অন্যান্য বই থেকে দেখেছি। সাহিত্য অংশের জন্য প্রাচীন ও মধ্যযুগ পড়েছি হুমায়ুন আজাদের ‘লাল নীল দীপাবলি’ বই থেকে। গতানুগতিক গাইড বই থেকে পড়েছি আধুনিক যুগসহ বাকি অংশ। বিগত বছরের প্রশ্নপত্র দেখলেই ধারণা পাওয়া যায়, কোন কোন লেখকের অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ আর কোনগুলো থেকে কমবেশি প্রশ্ন আসে। আর প্রতিটি অধ্যায়ের পেছনে যে প্রশ্নগুলো দেওয়া থাকে, সবই পড়েছি বারবার। ব্যাকরণ অংশের প্রশ্নগুলোর ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ এসব অংশ থেকে পরীক্ষায় তুলনামূলক বেশি প্রশ্ন আসে।

ইংরেজির প্রস্তুতিতে বাজারের প্রচলিত বইয়ের (বিগত প্রশ্নপত্রের জন্য) পাশাপাশি CLIFF’S TOEFL বইয়ের দরকারি অধ্যায়গুলোও দেখেছি। গুরুত্বপূর্ণ ভোকাবুলারিতে নিয়মিত চোখ বুলিয়েছি। বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার কারণে লিটারেচারের জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম যদিও।

ছোটবেলা থেকেই আমি গণিতের পোকা। তা ছাড়া পরিসংখ্যানের ছাত্র হওয়ায় গণিত নিতে কখনো ভয় কাজ করেনি। কম সময়ে অঙ্ক করার জন্য প্রচুর অনুশীলন করেছি। কারণ পরীক্ষায় সময় কম থাকে। গণিত প্রস্তুতির শুরুতে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখে ধারণা নিয়েছি কোন কোন অধ্যায় থেকে সাধারণত প্রশ্ন হয়। এরপর সেসব অধ্যায়ে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে অনুশীলন করেছি। Quantitative Aptitude by Dr. R.S Aggarwal বইয়ের নির্বাচিত অধ্যায়ের অঙ্কগুলো বুঝে বুঝে করেছি। মানসিক দক্ষতার প্রস্তুতি নিয়েছি প্রশ্নব্যাংক থেকে সমাধানের মাধ্যমে। অ্যাপ্টিচিউট টেস্টের জন্য পড়েছি আলাদা বই।

সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতি নিয়েছি বিসিএসের বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির বই থেকে। বইয়ের এমসিকিউ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বারবার পড়েছি। পরীক্ষার আগের তিন মাসের সাধারণ জ্ঞানের মাসিক ম্যাগাজিন পড়তাম। দৈনিক পত্রিকা থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নোট করে রাখতাম।

কম্পিউটারের প্রস্তুতিতে মোবাইল, কম্পিউটার আর প্রযুক্তি সম্পর্কে বেসিক ধারণার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং বিভিন্ন শর্টকাট কি (key) মনে রাখার চেষ্টা করতাম।

লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গণিতের পাশাপাশি নিয়মিত অনুবাদ অনুশীলন করেছি। চিঠির ফরম্যাটগুলো পরীক্ষায় আগে দেখে যেতাম। Comprehension নিয়মিত অনুশীলনের চেষ্টা করতাম। গুরুত্বপূর্ণ Focus Writing-এর তথ্য-উপাত্ত, চার্ট খাতায় নোট করে রেখেছি। ইংরেজি ও বাংলা ফোকাস রাইটিংয়ে টপিকের সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন উক্তি লিখে রাখতাম, পরীক্ষার আগে সেগুলো পড়ে যেতাম। গণিতের নম্বর ৫০ থেকে ৮০ পর্যন্ত। প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির পাশাপাশি বিগত সালের লিখিত প্রশ্ন দুটি লিখিত গাইড বইয়ের পাশাপাশি Aggarwal Math থেকে অনুশীলন করেছি।

 

সহকারী পরিচালক (পরিসংখ্যান) পদে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় পরিসংখ্যান থেকে সাধারণত ১২০-১৩০ নম্বর এবং অনুবাদ, Comprehension, বিজনেস লেটার ও ফোকাস রাইটিং থেকে ৭০-৮০ নম্বরের প্রশ্ন হয়ে থাকে। পরিসংখ্যানের জন্য Measure of Central Tendency, Measure of Dispersion, Probability Theory, Probability Distribution, Sampling Theory, Estimation of Parameters,Test of Hypothesis, Time Series, Index Number, Research Methodology, Official Statistics of Bangladesh, Basic Economics I Econometrics অধ্যায়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

ভাইভা দেওয়ার আগে সম্ভাব্য কিছু প্রশ্নের উত্তর মাথায় সেট করে রেখেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ পঠিত বিষয়, নিজ জেলা, ব্যাংকসংশ্লিষ্ট বিষয়, চলতি ঘটনা, বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ইত্যাদি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নিয়েছিলাম।

কোনো পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে সেটা ঝেড়ে ফেলে নতুন করে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য নিজেকে তৈরির চেষ্টা করেছি।

সময়কে ভাগ করে পড়ার চেষ্টা করেছি; কী পড়ব, কতটুকু পড়ব, কোন টপিকে কতটুকু সময় দেব আর কোনটা বাদ দেব সেটা ঠিক করে নিয়েছি।

আমার সপ্তম সুপারিশপ্রাপ্ত চাকরি ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (পরিসংখ্যান)। এভাবে প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালকসহ মোট সাতটি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার ও অফিসার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হই।-ডেস্ক

গ্রন্থনা : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here