কাগজের উচ্চমূল্য, বইমেলার প্রস্তুতি নেই ছাপাখানায়

0
25
ছবি : সংগৃহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) অমর একুশে গ্রন্থমেলার মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। তবে প্রেসপাড়া হিসেবে খ্যাত দেশের সর্ববৃহৎ প্রকাশনা ও বইয়ের ব্যবসাকেন্দ্র পুরান ঢাকার বাংলাবাজার এলাকায় তার বিন্দুমাত্র রেশ নেই। সময় এগিয়ে এলেও প্রকাশনা থেকে বাঁধাই কারখানা কোথাও নেই ব্যস্ততার ছোঁয়া। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা দুষছেন কাগজের উচ্চমূল্যকে।

বাংলাবাজার এলাকার বাংলাবাজার রোড, প্যারিদাস লেন, শিরিষ দাস লেন, পাতলা খান লেন, রূপচান লেন, জয়চন্দ্র ঘোষ লেন ঘুরে দেখা যায়, ছাপাখানায় নেই বইমেলা উপলক্ষে নতুন বই ছাপানোর চাপ। গড়পড়তা ধর্মীয় বই, গাইড বই, চাকরির বই, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের বই ইত্যাদি ছাপানোর কাজ চলছে। বাঁধাই কারখানাগুলোরও একই হাল। বইমেলা উপলক্ষে নতুন বই বাঁধাইয়ের অর্ডার নেই তাদেরও।

ছাপাখানা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাগজের দাম বাড়ায় নতুন বই ছাপানোর আগ্রহ নেই প্রকাশনা সংস্থাগুলোর। অধিকাংশ সংস্থা এবারের বইমেলায় নতুন প্রকাশনার সংখ্যা কমিয়ে এনেছে ২০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। যার প্রভাব পড়ছে প্রেসগুলোতেও। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকেই কাজ শুরু হয় ছাপাখানায়, জানুয়ারি ও ডিসেম্বরে যার ব্যস্ততা তুঙ্গে পৌঁছায়।

সোলাইমান বুক বাইন্ডিং হাউসের স্বত্বাধিকারী মো. সোলাইমান বলেন, এখনো কাজ আসা শুরু হয়নি। কাগজের দাম বাড়ার কারণে প্রকাশনা মালিকরা কাজ করাচ্ছেন না। অন্য বছর এই সময়টাতে অনেক কাজ থাকত, আমরা অর্ডার নিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারতাম না। কিন্তু এখন কাজ নেই। সব প্রকাশনীই ২০ থেকে ৮০ শতাংশ কম বই আনবে বইমেলায়। সবাই ভয় পাচ্ছে, কাগজের দাম বেশি, বইয়ের দামও বাড়বে, যদি বিক্রি না হয়!

মাহাবুব প্রিন্টসের ম্যানেজার শামীম হাসান বলেন, কাজ এখনো নেই। আর ১০ থেকে ১৫ দিন পর অর্থাৎ মাসের শেষে কিছু কাজ আসবে আশা করছি। আমাদের তো একটা প্রত্যাশা থাকেই বইমেলার আগে কাজের চাপ থাকবে। তবে যদি বইমেলা শুরুর পর তেমন চাহিদা থাকে, তাহলে ফেব্রুয়ারির প্রথম থেকেই চাপ তৈরি হবে।

তবে অচলাবস্থায় বেশি বিপাকে বাঁধাই কারখানাগুলো, এমনটাই দাবি কারখানার মালিকদের। তারা বলছেন, ছাপাখানায় অন্য কাজ কমবেশি থাকলেও বাঁধাই কারখানাগুলো বইমেলার ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। মূলত আগে এনসিটিবির বইয়ের কাজ এই এলাকায় এলেও বর্তমানে তা শতভাগ মাতুয়াইলকেন্দ্রিক। ফলে বইমেলার অপেক্ষায় ছিলেন এই এলাকার বাঁধাই কারখানার মালিকরা।

জিয়নপুর বুক বাইন্ডিং ওয়ার্কসের স্বত্বাধিকারী ইউসুফ আলী বলেন, আমরা তো এনসিটিবির কাজ পাই না। সব কাজ এখন মাতুয়াইলকেন্দ্রিক। আমরা অপেক্ষা করছিলাম বইমেলার আগে কাজ পাব। কিন্তু প্রকাশনীগুলো অর্ডার দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কারখানাগুলো কর্মী ছাঁটাই করছে। আমার এখানে এই সময়টা আগে ২০ থেকে ৩০ জন কাজ করতো। এখন কাজ করাচ্ছি ৮ থেকে ১২ জন দিয়ে।

পুস্তক বাঁধাই ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহাবুব আলম মল্লিক বলেন, কাগজের দামের কারণে প্রকাশনীগুলো নতুন কাজ করছে না। ফলে বাঁধাই কারখানাগুলোতে কাজ নেই। এনসিটিবির বই কিছু ব্যবসায়ীর হাতে যাচ্ছে, আগে ৭০ শতাংশ কাজ আমরা বাংলাবাজার এলাকায় পেতাম। সবাই অপেক্ষা করছিল বইমেলার। এখন এ অবস্থায় প্রকাশনীগুলো বই না করলে আমাদের কাজ থাকবে না।

প্রকাশনা সংস্থা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাগজের উচ্চমূল্যই বর্তমান অচলাবস্থার প্রধান প্রভাবক। কাগজ ও অন্যান্য সরঞ্জামের খরচ বাড়ায় স্বাভাবিক নিয়মে বাড়বে বইয়ের দাম। ফলে বই বিক্রির পরিমাণ নিয়ে সন্দিহান তারা।

দিব্য প্রকাশের মার্কেটিং ম্যানেজার সোহেল বলেন, আমাদের এবার ১৫ থেকে ২০টা বই আসবে। গতবার নতুন প্রকাশনাই ছিল ৩০টি। কাগজের দামের কারণে এই অবস্থা। বিক্রি হবে কী হবে না, আমরা জানি না। এবার সেভাবে ব্যস্ততাও নেই, অন্য বছরগুলোতে প্রুফ রিডিং, কারেকশন, প্রেস, বাঁধাইয়ের ব্যস্ততা চলত দিনরাত। আমাদের ৩টি বই তৈরি হয়ে গেছে, বাকিগুলোরও কাজ চলছে। তারপরও আশা করছি পাঠকরা বই কিনবেন, বইমেলা সুন্দরভাবে হবে। -নিউজ ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here