গম ও ভুট্টার নতুন জাত উদ্ভাবনে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বাড়ছে-ডিজি ড. গোলাম ফারুক

0
58

স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) গমের নতুন বীজ উদ্ভাবনে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউট। গত ২০১৮ সালেও যেখানে গমের হেক্টরপ্রতি ফলন ছিল ৩.১৩ মে.টন। সেখানে নতুন ৩টি জাত ফলন দিচ্ছে হেক্টরপ্রতি ৪ থেকে ৫.৫ মে.টন। শুধু গমই নয়, পাশাপাশি ভুট্টারও নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনে বেড়েছে উৎপাদন। এখন ভুট্টার হেক্টরপ্রতি ফলন হয় ১৪ মে.টন পর্যন্ত। যা আগে ছিল ১০ মে.টনের নীচে। আজ বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে গমের ব্লাষ্ট রোগের কারণ ও প্রতিকার ব্যবস্থাপনা এবং ভুট্টার ফিউজারিয়াম স্টক রট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মশালায় এসব কথা জানানো হয়।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. গোলাম ফারুক। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ ও রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন) আবু জামান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহফুজ বাজ্জাজ, ড. মাহফুজুল হক, মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সালাহউদ্দিন আহমেদ, ড. মোশাররফ হোসেন, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন প্রমুখ। এ সময় দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলের ৮টি জেলার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সীসহ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গম গবেষণায় এই প্রতিষ্ঠানটি বেশ সাফল্য দেখিয়েছে। এ পর্যন্ত গমের ৩৬টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। সর্বশেষ যে ৩টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে সেগুলোর হেক্টরপ্রতি ফলন ৪ থেকে ৫.৫ মে.টন। পাশাপাশি এগুলো ব্লাষ্ট প্রতিরোধী, স্বল্প মেয়াদী, তাপ সহিষ্ণু, মরিচা ও পাতা ঝলসানো রোগ প্রতিরোধী। বর্তমানে গমের এসব জাত আবাদ করলে ব্লাষ্ট নিয়ে কৃষকদের চিন্তা করতে হবে না। গমের পরে ভুট্টার অবস্থান। গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। ভুট্টার নতুন ৩ টি জাত অবমুক্ত করা হয়েছে। এসব ভুট্টার জাত তাপ সহিষ্ণু, দূর্যোগ ও রোগ সহনশীল। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ভুট্টার নতুন নতুন রোগ আসছে। এ পর্যন্ত ভুট্টার ২৮টি রোগ নির্ণয় করা হয়েছে। নতুন জাতগুলোতে এই ২৮টি রোগ আক্রমনের শঙ্কা নেই বললেই চলে। এসব নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন। ভালো মানের ভুট্টা ও গমের বীজ উদ্ভাবন ও সম্প্রসারনের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের রোগ বালাইয়ের আক্রমন হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তা থেকে উত্তরনের উপায়সমূহ খুজে বের করা হচ্ছে। গম ও ভুট্টা জাতীয় শস্য সংগ্রহ করতে ময়েশ্চার লেভেল ১২ শতাংশের নীচে আনতে হবে। ভালো বীজ ব্যবহার করতে হবে। জাত সম্প্রসারন করতে হবে। গম আমদানীতে ডলার খরচ করা হলেও কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের মূল্য দেয়া হয় না। কৃষকদের উৎপাদিত গমের মূল্য দিতে হবে। নীতি-নির্ধারনে সুষ্টু ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। মূল্য সমন্বয় করে গম ও ভুট্টার আবাদ বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলে এক বছরের মধ্যেই ১০-১৫ শতাংশ আবাদ বাড়বে। সকলকে নিয়ে সম্প্রসারনে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. গোলাম ফারুক বলেন, গম দেশের দ্বিতীয় প্রধান দানাদার খাদ্য। প্রতি বছর গমের ১৩ শতাংশ হারে চাহিদা বাড়ছে। প্রতি বছর দেশে গমের চাহিদা ৭০ লাখ মে.টন যেখানে উৎপাদন মাত্র ১২.৪৬ লাখ মে.টন। বাকী গম বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। গমের এই আমদানী নির্ভরতা কমাতে হবে। এ লক্ষ্যেই বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। সেগুলো সম্প্রসারন করে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার কাজ চলছে। গম আবাদে পানি কম লাগে এবং এই ফসলের দূর্যোগ কম। চর এলাকা, রাজশাহীর খরা প্রবণ এলাকা, সিলেটের পতিত জমি, উত্তরাঞ্চলের উচু ও বেলে মাটিতে গম আবাদের লক্ষ্য নিয়ে বীজ উদ্ভাবন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু গমই নয়, প্রতিষ্ঠানটি ভুট্টা নিয়েও কাজ করছে। বর্তমানে ভুট্টার বহুমুখী ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে। এখন ভুট্টা শুধু গোখাদ্যই নয়, পোল্ট্রি ও ফিসফিড, ভুট্টা থেকে তেল, বেবি কর্ণ, সুইট কর্নসহ নানান উপকারে আসছে। দেশে প্রধান খাদ্য চাল, এরপরেই গম ও ভুট্টার অবস্থান। গম ও ভুট্টার কোন বিকল্প নাই। দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে, খাদ্য চাহিদা বাড়ছে। পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে উৎপাদন বাড়াতে হবে। বীজ উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here