ঘরে ঘরে জ্বর সর্দি-কাশি : সবাইকে করোনা টেস্ট করানোর পরামর্শ

0
34
-ছবি প্রতীকি

(দিনাজপুর২৪.কম) ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাশি। বয়স্কদের চেয়ে শিশুদের মধ্যে রোগটির প্রাদুর্ভাব বেশি। শুরুতে সর্দি হয়ে থাকে। তার পর আসে জ্বর এবং জ্বরের মধ্যে অথবা জ্বর কেটে গেলেই শুরু হয় কাশি। অনেকে অসহ্য কাশিতে ভুগছেন। এমনও অনেকে রয়েছেন, কাশি কমানোর জন্য কফ সিরাপ সেবন শুরু করলেও তাতে কাজ হয়নি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হোক কিংবা ওষুধ বিক্রেতার কাছ থেকে হোক শেষ পর্যন্ত অনেককে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়েই সুস্থ হতে হয়েছে।
তবে এই জ্বরে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, ‘সবাইকে করোনার পরীক্ষা করানো উচিত। করোনা পরীক্ষা করাতে এখন আর কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না। ফলে সবারই উচিত করোনা পরীক্ষা করানো। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে করোনা পরীক্ষা করানো উচিত।’
এ সুযোগে ফার্মেসিতে প্যারাসিটামল ও কফ সিরাপের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও সঠিক দামেও পাওয়া যাচ্ছে না শিশুদের কফ সিরাপ। আজকাল জ্বর-কাশি হলে অনেকে খাবার স্যালাইন খেতে পছন্দ করেন, যেন শরীরে পানিশূন্যতা যেন দেখা না দেয়। অথবা শরীরে শক্তি ফিরে পাওয়ার জন্যই অনেকে খাবার স্যালাইন খেয়ে থাকেন। কিন্তু এই গরমে কিছু কিছু ফার্মেসিতে খাবার স্যালাইনও পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর জানিয়েছেন, ‘এটি ইনফ্লুয়েঞ্জার সিজন। সাধারণত এপ্রিল মাস থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জার সিজন শুরু হয় বাংলাদেশে। কিন্তু এ বছর জুন থেকে এ সিজনটা শুরু হয়েছে। করোনা ও ইনফ্লুয়েঞ্জা একসাথে দেখা দেয়ার কারণে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। করোনা অথবা ইনফ্লুয়েঞ্জা কোনটি হয়েছে, তা বুঝতে না পারায় অনেকেই করোনা পরীক্ষা করাতে চান না।’ তবে ড. আলমগীর বলেন, ‘করোনা না হলেও পরীক্ষাটা করিয়ে ফেললে নিশ্চিত হওয়া যাবে তার করোনা হয়নি অথবা হয়েছে। করোনা না হলে তিনি নিশ্চিতভাবে চলাফেরা করতে পারবেন। আর করোনা পজিটিভ হলে তিনি বাসায় আইসোলেশনে থাকতে পারবেন। তাতে তার কাছ থেকে অন্যদের মধ্যে জীবাণুটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকবে না। এমনকি নিজের পরিবারের সদস্যদেরও রক্ষা করতে পারবেন। করোনা হোক বা না হোক পরীক্ষাটা করালে আমাদের পক্ষে বুঝতে সুবিধা হবে করোনার প্রকোপ কী পরিমাণে বিরাজ করছে।’ তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, জ্বর হলে দেরি না করে শিগগিরই নিকটস্থ পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে আসুন, নিজে বাঁচুন, অন্যকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করুন।
এবারের জ্বরটা একটু ব্যতিক্রম। ঈদের আগের সাত দিন জ্বরে ভুগেছেন এমন একজন ভুক্তভোগী নয়া দিগন্তের এ প্রতিনিধিকে জানান, এবারের জ্বরে প্রচণ্ড ঘাম হয়েছে। নাকে ছিল সর্দি। কিছুক্ষণ পরপরই হাঁচি হয়েছে। এমন চলেছে তিন দিন। তিন দিন পরই শুরু হয়ে গেছে কাশি। গলায় কফ না থাকলেও কাশতে কাশতে পেটে ও বুকে ব্যথা ধরে গেছে। জ্বর হওয়ার সাথে সাথেই তিনি প্যারাসিটামল সেবন করেছেন। একই সাথে লেবু ও আদামিশ্রিত চা পান করেছেন ঘন ঘন। বেশি করে লেবু খেয়েছেন। ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় খাবার খাদ্য তালিকায় রাখার কারণে তিনি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েননি। তবে জ্বর সারেনি সাত দিনের আগে। ‘আপনার করোনা হয়েছে বলে মনে হয়নি?’ এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘মনে হয়েছে কিন্তু খুব বেশি ক্লান্তি লাগেনি বলে ভেবেছেন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস হতে পারে। সে কারণে তিনি আর টেস্ট করাতে যাননি। তবে তিনি বলেছেন, প্রথম দিন জ্বর শুরু হওয়ার দিন সকালে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা ছিল, বিশেষ করে পিঠে প্রচণ্ড অস্বস্তি ছিল। হাড়ে কিছুটা ব্যথা লেগেছে।’
ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির বর্ণনা শুনে আইইডিসিআর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর বলেন, লক্ষণ শুনে মনে হচ্ছে ওই ভদ্রলোকের করোনা সংক্রমণ হয়েছে। তার উচিত ছিল পরীক্ষা করানো। তা হলে তিনি নিশ্চিত হতে পারতেন, তিনি করোনা ফ্রি অথবা করোনা আক্রান্ত।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা এখন আগের চেয়ে অনেকে বেশি সর্দি-কাশি ও জ্বরের রোগী পাচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন, করোনা পরীক্ষার ব্যাপারে রোগীদের বেশ অনীহা রয়েছে। চিকিৎসকরা সাধারণত পরীক্ষা করা ছাড়া এখন সর্দি অথবা জ্বরের রোগী দেখতে চান না। কিন্তু তার পরও রোগীরা জ্বর নিয়েই চেম্বারে চলে আসছে। মাস্ক পরায় তো আমাদের দেশের মানুষের খুবই অনীহা রয়েছে। জ্বর হলেও তারা মুখে মাস্ক না নিয়েই ডাক্তারের চেম্বারে চলে আসছেন। করোনা হতে পারে তারা মানতেই চান না।
এই ইনফ্লুয়েঞ্জা সিজনের জ্বরে করোনা হোক অথবা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস হোক, সবাইকে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে। এ সময়ে জ্বর হোক বা না হোক সবার উচিত লেবু শরবত পান করা। লেবুতে আছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’।
এই ভিটামিন রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। লেবু ছাড়াও মাল্টা, জাম্বুরা, লটকন প্রভৃতি বেশি করে খাওয়া উচিত। -অনলাইন ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here