চা দোকানির শরীরে কেটলির ফুটন্ত পানি ঢেলে দিলেন ইউপি সদস্য

0
95
চায়ের কেটলি থেকে ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়ায় হাত ঝলসে যায় চা দোকানি রাসেলের

(দিনাজপুর২৪.কম) বরগুনার বেতাগীতে চা দোকানির শরীরে কেটলি থেকে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টায় উপজেলার খাঁনেরহাট বাজারে ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, ঘটনার পর ঝলসে যাওয়া শরীর নিয়ে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তিনি। ওই দোকানদারের নাম মো. রাসেল (৩৫) ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সত্যতা পেয়েছেন বলে জানান বেতাগী থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক করুণ চন্দ্র বিশ্বাস।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে খাঁনেরহাট বাজারে চায়ের দোকানে বসে এলাকার কয়েকজন লোক সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য সম্পর্কে সমালোচনা করেন। তারা বলছিলেন, ইউপি সদস্য সিদ্দিক জন্ম নিবন্ধন সংশোধন বাবদ ২ থেকে ৩ হাজার টাকা ঘুষ নেন। একপর্যায়ে চায়ের দোকানদার রাসেলও তাদের সাথে আলোচনায় অংশ নেন। এসময় রাসেল বলেন, এসব আলোচনা করলে দোকানের বাইরে গিয়ে করেন। তখন ইউপি সদস্যের পক্ষের দুলাল ডাক্তার নামের এক ব্যক্তি চা ব্যবসায়ী রাসেলের সাথে তর্ক শুরু করেন। তিনি ইউপি সদস্য সিদ্দিককে ডেকে এনে বলেন, চা ব্যবসায়ী তুমি ঘুষ নাও বলে লোকজনের কাছে সমালোচনা করছে। এরপর ইউপি সদস্য রাসেলকে দোকানের বাইরে ডাকেন। কিন্তু রাসেল দোকান থেকে বের হতে রাজি হননি।

এ নিয়ে ইউপি সদস্য সিদ্দিক ও রাসেলের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। জড়ো হন এলাকার লোকজন। একপর্যায়ে ইউপি সদস্য ও দুলাল ডাক্তার দোকানে ঢুকে রাসেলকে মারধর শুরু করেন। মারধরের একপর্যায়ে ইউপি সদস্য রাসেলের দোকানে থাকা চায়ের কেটলির ফুটন্ত গরম পানি ওই চা ব্যবসায়ী রাসেলের শরীরে ঢেলে দেন। সাথে সাথে দগ্ধ হন ও শরীরে ফোস্কা পড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন বলেন, এতো পাশবিক নির্যাতন আমি আর দেখি নাই। কোনো কারণ ছাড়াই রাসেলের শরীরে গরম পানি ঢেলে দেন। এর সঠিক বিচার হওয়া দরকার না হলে মানবতা থাকে না।

চা ব্যবসায়ী রাসেল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আজ গরীব বলে এতটা নির্যাতিত হয়েছি। বিচারটা সৃষ্টিকর্তার কাছেই দিলাম। একজন জনপ্রতিনিধির যদি এমন আচরণ হয় তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ও একটা বেয়াদব, আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম মাত্র, শুধু হাতাহাতি হয়েছে। সম্পূর্ণ অভিযোগই মিথ্যা।

হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো.খলিলুর রহমান খান বলেন, একজন চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের নিরাপত্তা দেয়া আমার দায়িত্ব। খবরটি শুনে আমি বেতাগী থানায় জানাই ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বেতাগী থানার ওসি মো.শাহআলম হাওলাদার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমন পাশবিক নির্যাতন করে কেউ পার পাবে না।

বামে ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান ও ডানে লাল  দগ্ধ রাসেল। সাদা পাঞ্জাবি পড়া লোকটা ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহহমান। লাল গেঞ্জি পড়া চা বিক্রেতা রাসেল।-ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here