জান্তা বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে নতুন রুশ- চীনা অস্ত্র ব্যবহার করছে, জানাচ্ছেন জাতিসংঘের মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ

0
68

(দিনাজপুর২৪.কম) রাশিয়া ও চীন জান্তাকে বেসামরিক মানুষদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিমান সরবরাহ করছে। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য দিয়েছেন জাতিসংঘের মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অবিলম্বে এমন অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। থমাস অ্যান্ড্রুস, একজন প্রাক্তন মার্কিন কংগ্রেসম্যান একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন গত বছর ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহকারী তিনটি দেশের মধ্যে একটি দেশ হয়ে উঠেছে সার্বিয়া।

অ্যান্ড্রুস এক বিবৃতিতে বলেছেন, “বেসামরিক লোকদের হত্যার জন্য ব্যবহৃত অস্ত্রগুলি মিয়ানমারে স্থানান্তর করা কখনোই উচিত নয়।”এক দশকের অস্থায়ী গণতন্ত্রের অভ্যুত্থান শেষ হওয়ার পর থেকে বিশৃঙ্খলা মিয়ানমারকে গ্রাস করেছে, যে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে তাকে সেনারা প্রাণঘাতী শক্তি দিয়ে দমন করেছে। কমপক্ষে ১,৫০০ বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের কর্মীদের মতে, সামরিক এবং সশস্ত্র বিরোধীদের মধ্যে সংঘাতের কারণে আরো ৩ লক্ষ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

জান্তা বলেছে যে তারা “সন্ত্রাসীদের” বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের ওপর প্রবল আপত্তি জানিয়েছে।

যদিও এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, ”চীন সর্বদাই বলেছে যে মিয়ানমারের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থে সব দল ও উপদলের এগিয়ে যাওয়া উচিত এবং রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দ্বন্দ্বের সমাধান করা দরকার”।

একটি বিবৃতিতে, সার্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে মিয়ানমারের অভ্যুত্থানের পর থেকে তারা নতুন পরিস্থিতি খুব সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করে দেখছে। গত বছরের মার্চ মাসে পূর্বে সমাপ্ত চুক্তি বা নতুন রপ্তানি আইনের অধীনে মিয়ানমারে অস্ত্র সরবরাহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সার্বিয়া। বেসামরিক এলাকায় আর্টিলারি এবং বিমান হামলা সহ মিলিশিয়া এবং জাতিগত সংখ্যালঘু বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মিয়ানমারের জান্তার বিরুদ্ধে অসম শক্তি ব্যবহার করার অভিযোগ এনেছে বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং জাতিসংঘ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ড্রোন, দুই ধরনের ফাইটার জেট এবং দুই ধরনের সাঁজোয়া যান পাঠিয়েছে, চীন ফাইটার জেট স্থানান্তর করেছে এবং সার্বিয়া রকেট ও আর্টিলারি শেল সরবরাহ করেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ গত বছর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র হস্তান্তর বন্ধ করার জন্য সদস্যদের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত করেছিল, অ্যান্ড্রুজ- এর মতে নিরাপত্তা পরিষদকে সেই বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা উচিত। সার্বিয়া তখন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও রাশিয়া ও চীন ভোটদানে বিরত ছিল। যেখানে চীন মিয়ানমারে শত্রুতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, অন্যদিকে রাশিয়া মিয়ানমারকে পশ্চিমা দেশগুলি থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা জারি রেখেছে।

অ্যান্ড্রুস তেল ও গ্যাসের রাজস্ব এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ বন্ধ করার পাশাপাশি মিয়ানমারের কাঠ, রত্নপাথর এবং বিরল মাটি কেনার উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংকল্পের মাধ্যমে জান্তার এই বেসামরিক আক্রমণ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন এই মার্কিন সদস্য। তাঁর মতে, ‘যদি এই ধরনের সামরিক বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব হ্রাস করা হয়, তাহলে মিয়ানমারের জনগণের ওপর জান্তার আক্রমণ হ্রাস পাবে।’

সূত্র: www.reuters.com

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here