জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ

0
56

(দিনাজপুর২৪.কম) মহান আল্লাহ আমাদের নির্দিষ্ট হায়াত দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এই নির্দিষ্ট স্বল্প হায়াতকে কাজে লাগিয়ে আমাদের পরকালীন অসীম হায়াতের ঠিকানা ও পুঁজি অর্জন করতে হবে। প্রতি মুহূর্তেই আমাদের সেই হায়াত একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছে। যারা এই মুহূর্তগুলোকে মহান আল্লাহর নির্দেশ ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নত মোতাবেক সাজাতে পারবে, তাদের পরকাল সুন্দর হবে আর যারা এর বিপরীত চলবে, তাদের জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।

দুঃখের বিষয় হলো, আমরা এই কঠিন সত্যটি মনে রাখতে পারি না। আমাদের এই জীবনের উদ্দেশ্যই ভুলে যাই। শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে আমরা গুনাহর অন্ধকার সাগরে ডুব দিয়ে দিই। অথচ মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে আমাদের আগেই সতর্ক করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা কি মনে করেছিলে যে আমরা তোমাদের অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না?’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১১৫)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ কি মনে করে যে তাকে এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে?’ (সুরা : কিয়ামাহ, আয়াত : ৩৬)

অর্থাৎ আমাদের সবাইকে মহান আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে। তাই আমাদের উচিত সর্বদা নিজ আমলের হিসাব করা। মহান আল্লাহ আমাদের যে দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন, যে বিধান দিয়েছেন, তা কতটুকু আদায় করতে পেরেছি, তা চিন্তা করা। এটা মহান আল্লাহর নির্দেশ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। প্রত্যেকেই চিন্তা করে দেখুক, আগামীকালের জন্য সে কী (পুণ্য কাজ) অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে পুরোপুরি খবর রাখেন।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ১৮)

এতে মানুষ সহজে শয়তানের ষড়যন্ত্রের অন্ধকার জাল থেকে বের হতে পারে। তাদের ঈমান-চক্ষু খুলে যায়। কোনো পাপ হয়ে গেলে তারা নিজেদের কৃত পাপ থেকে দ্রুত তাওবা করার সুযোগ পায়। অথবা পাপের প্রতি আগ্রহ জন্মালেও তারা দ্রুত নিজেদের ভুল বুঝে সতর্ক হয়ে যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, শয়তানের স্পর্শে তাদের মনে কুমন্ত্রণা জাগলে তারা আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন তাদের ঈমান-চক্ষু খুলে যায়।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ২০১)

সাহাবায়ে কিরাম দুনিয়ায় থেকে জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন, তথাপি তাঁরা সর্বদা নিজেকে মনে করিয়ে দিতেন যে আল্লাহর আজাব বড় কঠিন, আল্লাহর রহমত ছাড়া কেউ নাজাত পাবে না। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, আমি উমরের সঙ্গে ছিলাম। তিনি একটি বাগানে গেলেন। আমি ও তাঁর মধ্যে বাগানের একটি দেয়াল ছিল। আমি শ্রবণ করছিলাম, তিনি নিজেকেই সম্বোধন করে বলছিলেন, হে উমর! আমিরুল মুমিনিন বাহবা! হে খাত্তাবের পুত্র, হয় তুমি আল্লাহকে ভয় করো, না হয় তিনি তোমাকে আজাব দেবেন। (মুয়াত্তা মালেক)

শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সেই ব্যক্তি বুদ্ধিমান, যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য কাজ করে। আর সেই ব্যক্তি নির্বোধ ও অক্ষম, যে তার নফসের দাবির অনুসরণ করে আর আল্লাহ তাআলার কাছে বৃথা আশা পোষণ করে।

আবু ঈসা বলেন, এই হাদিসটির মান ‘হাসান’। ‘মান দানা নাফসাহু’ বাক্যাংশের তাৎপর্য এই যে কিয়ামতের দিন আত্মাকে হিসাবের সম্মুখীন করার আগেই যে ব্যক্তি দুনিয়ায় নিজের নফসের হিসাব-নিকাশ নেয়। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘হিসাবের সম্মুখীন হওয়ার আগেই তোমরা নিজেদের কৃতকর্মের হিসাব নাও এবং মহাসমাবেশে হাজির হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় তার হিসাব-নিকাশ নেয়, কিয়ামতের দিন তার হিসাব অত্যন্ত হালকা ও সহজ হবে।’ মাইমুন ইবনে মিহরান বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি খাঁটি মুত্তাকি হতে পারবে না, যে পর্যন্ত না সে আত্মসমালোচনা করবে। যেমন কোনো ব্যক্তি তার শরিকের কাছ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব নেয় যে সে খাদ্যদ্রব্য ও কাপড়চোপড় কোত্থেকে কত মূল্যে সংগ্রহ করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৫৯)

অতএব আমাদের সবার উচিত দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের মরীচিকায় অন্ধ না হয়ে পরকালের প্রস্তুতি নেওয়া। যে মুহূর্তগুলো আমাদের জীবন থেকে হেলায়-খেলায় হারিয়ে গেছে, তার জন্য মহান আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং বাকি জীবন মহান আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক চলার চেষ্টা করা। মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here