দিনাজপুরে টিকিট চেয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের মার খেলেন রেলকর্মীরা

0
27

স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) দিনাজপুর স্টেশনে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় রেলের চার কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মাসুদ পারভেজকে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথা ফেটে গেছে। সেইসঙ্গে রেলওয়ের টিকিট কালেক্টর মো. রিপনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। বুধবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার আগমুহূর্তে বিনা টিকিটে রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করছিলেন দিনাজপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শাহ-নেওয়াজ। এ সময় তার কাছে টিকিট দেখতে চান নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীরা। তিনি নিজেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। কিন্তু পরিচয়পত্র দেখাতে বললেও দেখাননি কর্মীদের।

সন্দেহবশত রেল স্টেশনের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীরা তাকে টিকিট কালেক্টরের রুমে নিয়ে বসিয়ে রাখেন। খবর পেয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সাত-আট কর্মকর্তা-কর্মচারী স্টেশনে এসে নিরাপত্তা বাহিনী, টিকিট কালেক্টর ও স্টেশনের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় রডের আঘাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মাসুদ পারভেজের মাথা ফেটে যায়। সেইসঙ্গে টানাহেঁচড়ায় টিকিট কালেক্টর রিপনের পোশাক ছিঁড়ে যায়। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত মাসুদকে রক্তাক্ত অবস্থায় দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

টিকিট কালেক্টর মো. রিপন বলেন, ‘রেলের নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা টিকিট দেখতে চাইলে দেখাতে পারেননি ওই ব্যক্তি। সন্দেহবশত তাকে টিকিট কালেক্টরের রুমে নিয়ে বসিয়ে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক রায়হান আহমেদ ও এএসআই হাসিবুল হাসানসহ সাত-আট জন লোহার রড নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালান। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মাসুদ পারভেজের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। আমার পোশাক ছিঁড়ে ফেলেন। নারী কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালান। তখন রেলের কর্মকর্তারা রুম থেকে পালিয়ে রক্ষা পান।’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘ওই ব্যক্তি টিকিট দেখাতে পারেননি। এজন্য তাকে টিকিট কালেক্টরের রুমে বসিয়ে রাখা হয়। পরে তার সহকর্মীরা এসে আমাদের ওপর হামলা চালান। লোহার রড দিয়ে তারা আমার মাথায় আঘাত করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় আমি ফ্লোরে পড়ে গেলে এলোপাতাড়ি লাথি-ঘুষি মারা হয়। এতে অজ্ঞান হয়ে যাই। স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে কারা দোষী।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শাহ-নেওয়াজ বলেন, ‘বিকালে আমি ও আমার অফিস সহকারী মাসুদ আলম রেলওয়ে স্টেশনে যাই। স্টেশনের কাউন্টারে মাসুদকে টিকিট কাটতে পাঠিয়ে আমি মূল গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকতে গেলে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তারা টিকিট দেখতে চান। আমি তাদের পরিচয় দিয়ে বিষয়টি বুঝিয়ে বলি। এ সময় স্টেশনের এক কর্মচারী আমাকে ধাক্কা দিয়ে টিকিট কালেক্টরের রুমে নিয়ে আবদ্ধ করে রাখেন। মাসুদ বিষয়টি অফিসে জানালে অধিদফতরের পরিদর্শক রায়হান আহমেদসহ কয়েকজন কর্মকর্তা স্টেশনে এসে আমাকে রুম থেকে বের করেন। এ সময় স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে আমাদের ধাক্কাধাক্কি হয়। এতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যের মাথা ফেটে যায়। সম্ভবত ধাক্কাধাক্কির সময় কারও মোবাইলের আঘাতে তার মাথা ফেটে গেছে।’

এ ব্যাপারে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনের সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যের মাথা ফেটে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

রেলওয়ে থানার ওসি এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘স্টেশনে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে নিয়ে রেলওয়ে থানায় বসা হয়েছে। তবে এখনও বিষয়টি মীমাংসা হয়নি।’

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মাওলা বলেন, ‘বিষয়টি মীমাংসা হয়নি। এ ঘটনায় মামলা করবে বলে জানিয়েছে রেল বিভাগ।’

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here