টিপ পরায় হেনস্তাকারী পুলিশ কনস্টেবল চিহ্নিত

0
90

(দিনাজপুর২৪.কম) কপালে টিপ পরায় রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় এক কলেজ শিক্ষিকাকে হেনস্তাকারী পুলিশ কনস্টেবলকে চিহ্নিত করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ওই কনস্টেবলের নাম নাজমুল তারেক। ঘটনার সাথে জড়িত হিসেবে তাকে চিহ্নিত করেছি আমরা।’

তিনি আরও বলেন, তিনি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কেউ নন, তিনি পুলিশের প্রোটেকশান বিভাগে কর্মরত রয়েছেন।

তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে কিভাবে শনাক্ত করা হয়েছে তা জানাননি কর্মকর্তারা।

ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘টিপ পরাকে কেন্দ্র করে নারীকে হেনস্থার ঘটনায় এক কনস্টেবলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল অ্যাকশন নেওয়া হবে।’

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ‘তিনি কোনো মামলার আসামি নন। তাই তাকে আটক করা হয়নি।’

টিপ পরায় পুলিশের হেনস্তার শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে ঢাকার তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার শনিবার শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডিতে পুলিশের পোশাক পরা একজনের বিরুদ্ধে ‘ইভটিজিং’ এবং ‘প্রাণনাশের চেষ্টা’র অভিযোগ করা হয়।

শনিবার ওই খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। হেনস্তাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রোববার সংসদে দাবি জানান সংসদ সদস্য, অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা।

অভিযোগে লতা সমাদ্দার লিখেছেন, শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার বাসা থেকে রিকশায় ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমার সামনে নামেন। সেখান থেকে হেঁটে তেজগাঁও কলেজে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।

সেজান পয়েন্টের সামনে থেমে থাকা একটি মোটরসাইকেলের উপর পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি বসে ছিলেন। ওই মোটরসাইকেলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে ওই ব্যক্তি লতার কপালে টিপ পরা নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন।

একপর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন পুলিশের পোশাক পরা ওই ব্যক্তি। পেছনে ফিরে ঘটনার প্রতিবাদ করায় ফের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় শিক্ষক লতাকে। তাকে উদ্দেশ্য করে ‘টিপ পরছোস কেন’ মন্তব্য করেন ওই ব্যক্তি।

লতার অভিযোগ, তিনি প্রতিবাদ করায় পুলিশের ওই সদস্য মোটরসাইকেল চালিয়ে তার গায়ের উপর উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সরে গিয়ে রক্ষা পেলেও আহত হন তিনি। পরে পাশেই দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকে তিনি বিস্তারিত জানান এবং তাদের পরামর্শে থানায় গিয়ে জিডি করেন। -ডেস্ক রিপোর্ট

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here