ঢাকায় ‘নকল’ হিজড়ার উপদ্রব

0
58
ছবি-সংগ্রহীত
(দিনাজপুর২৪.কম) রাজধানীজুড়ে নকল হিজড়াদের উপদ্রব বেড়েছে। হিজড়াবেশে কতিপয় আসল পুরুষ বা নারী রাজধানী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের চাঁদাবাজির উন্মুক্ত মহোৎসব চলছে। তবে চাঁদাবাজিতে পিছিয়ে নেই আসল হিজড়ারাও। তাদের মধ্যে কে আসল, কে নকল বোঝার কোনো উপায় নেই। হিজড়াদের কেউ কেউ অভিযোগ করছে, রাজধানীতে অনেক ‘নকল’ হিজড়া রয়েছে, যাদের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিনা পরিশ্রমে অর্থ উপার্জন করা।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, চাঁদাবাজি করতেই তারা হিজড়া রূপ ধারণ করে থাকে। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানো জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে প্রকৃত হিজড়াদের চিহ্নিত করে পরিচয়পত্র প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন সুযোগ- সুবিধা দিতে হবে। যাতে করে সাধারণ মানুষ হিজড়াদের মাধ্যমে ছিনতাই বা চাঁদাবাজির শিকার না হন।
এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ‘যেখানেই হোক হিজড়াদের চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়া জরুরি। তাদের চাঁদাবাজির বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নীরব ভূমিকার কারণেই ছদ্মবেশী হিজড়ার উপদ্রব বেড়েছে। সাধারণ মানুষ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে সাহস পায় না। এক কথায় প্রকৃত হিজড়াদের চাঁদাবাজি বন্ধ হলে নকল হিজড়াদের উপদ্রব বন্ধ হবে।’
এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘যারা হিজড়া সেজে চাঁদাবাজি করছে তাদের অপরাধ প্রকৃত হিজড়াদের চেয়েও বেশি। প্রথমত. অপরাধ, তারা পরিচয় লুকিয়ে অন্যের রূপ ধারণ করে। দ্বিতীয়ত. তারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে। তৃতীয়ত. তারা ওই রূপে চাঁদাবাজি করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে আইনে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’ প্রকৃত হিজড়া চিহ্নিত করতে পরিচয়পত্র দেওয়ার প্রসঙ্গটি চলতি বছরের ২৬ মে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি।
রোববার এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদফতরের বেদে, অনগ্রসর ও হিজড়া জনগোষ্ঠী শাখায় যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক মো. মাইনুদ্দিন সরকার বলেন, ‘হিজড়াদের পরিচয়পত্র প্রদানের বিষয়টি গত আগস্টের ৩ তারিখে আমাদের অধিদফতরের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চলতি বছরের জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী দেশে হিজড়ার সংখ্যা ১২ হাজার ৬২৯ জন। তাই শিগগিরই যাচাই- বাছাই প্রক্রিয়ায় তাদের চিহ্নিত করে পরিচয়পত্র প্রদানের কাজে হাত দেব। তবে যাচাই- বাছাই প্রক্রিয়া অনেকটাই জটিল। কারণ শারীরিকভাবে যাচাই- বাছাই করতে গেলে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সংশ্লিষ্ট এলাকার হিজড়া নেতা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা নেওয়ার কথা ভাবছি। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন অধিদফতরের মহাপরিচালক।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হিজড়া নেতারা বলছেন, ‘হিজড়া ছদ্মবেশে চাঁদাবাজি করা লোকদের পেছনে কতিপয় শীর্ষ পর্যায়ের হিজড়া নেতা, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এমনকি কোনো কোনো এলাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা চাঁদাবাজির কমিশনের বিনিময়ে ইন্ধন দিয়ে থাকেন।’
রাজধানীর এক অভিজাত এলাকার নেতৃত্বে থাকা হিজড়া নেতা বলেন, ‘রাজধানীর সড়কে, পরিবহনে যারা চাঁদাবাজি করছে তাদের সিংহভাগই প্রকৃত হিজড়া নয়। তারা আসলে পুরুষ অথবা নারী।’
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আসল পুরুষ কিংবা আসল নারী হিজড়াবেশে চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অপরাধ করা মানসিক কোনো সমস্যা নয়। এটি তাদের পরিকল্পিত অপরাধ।’
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম- পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ‘নকল হিজড়া আমাদের কাছে একটি নতুন ধরনের ক্রাইম। যেহেতু উত্তরায় এমন ধরনের একটি ঘটনা আমাদের সামনে এসেছে। আসল হিজড়া হোক কিংবা নকল হিজড়া হোক- চাঁদাবাজি একটি অপরাধ, এই অপরাধ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে রাজধানীজুড়ে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়েছে।’
গত শনিবার হিজড়া ছদ্মবেশী ৪ পুরুষকে গ্রেফতারের বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে এনা পরিবহনের ম্যানেজার জিয়াউল হকের কাছে হিজড়াবেশে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছে ৪ নকল হিজড়া, তারা আসলে পুরুষ।’
ওসি মোহাম্মদ মহসীন আরও বলেন, ‘এর আগে গত ১৪ আগস্ট উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরে চাঁদাবাজির অভিযোগে আসল ৪ হিজড়াকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল- নবজাতক জন্ম নেওয়ার তথ্য পেয়ে “নবজাতক পাওনা” উল্লেখ করে অভিনব পদ্ধতিতে চাঁদাবাজি করা।’
কয়েক দিন আগে রিকশায় যাতায়াতকালে হিজড়াদের কবলে পড়ে বিব্রত হতে হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ব্যক্তিকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমার অফিসের এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে কাজে যাচ্ছিলাম। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মোড়ে রিকশার জট লাগতেই দুই হিজড়া দুইপাশে এসে দাঁড়িয়ে টাকা চাইল। নারী সহকর্মীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিতে শুরু করল, পরে আমি তাদের ৫০ টাকা দিতে বাধ্য হই। আসলে তাদের মধ্যে কে আসল হিজড়া, কে নকল হিজড়া বোঝার কোনো উপায় থাকে না। হয়তো আমার নারী সহকর্মীকে হিজড়া ছদ্মবেশ নেওয়া কোনো পুরুষ শারীরিকভাবে হেনস্তা করল; কিন্তু কেউ কিছুই বলতে সাহস পেল না। -নিউজ ডেস্ক
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here