ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাসে র‌্যাব-ডিবির অভিযান, আটক

0
23

(দিনাজপুর২৪.কম) নিউমার্কেট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনায় রবিবার ঢাকা কলেজের একটি হলে র‌্যাব ও ডিবি অভিযান চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

অভিযান শেষে এক ছাত্রকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব) আটক করেছে বলে ছাত্ররা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া জানা গেছে, সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র হাতে সম্মুখ সারিতে ছিল এমন কয়েকজনকে আকট করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা রমনা বিভাগ (ডিবি)।

র‌্যাব ও ডিবি সূত্রে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

এদিকে অভিযান ও আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন রবিবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রবিবার কলেজের ছাত্রাবাসে (হল) অভিযান পরিচালনা করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও ডিবির সদস্যরা। বিকেল ৫টায় কলেজের আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের ১০১ নম্বর কক্ষে অভিযান চালায় র‌্যাব।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযান শেষে দুটি মোবাইল সেট ও জহির হাসান জুয়েল নামে এক শিক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। আটক জুয়েল ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সর্বশেষ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমি শুনেছি ছাত্রাবাসে ডিবি ও র‌্যাব সদস্যরা এসেছিলেন। এ সময় দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে কি না সে সম্পর্কে আমি জানি না।

ছাত্রাবাসে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি নেয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তারা আমার সঙ্গে কোনো কথা বলে আসেননি, সম্ভবত কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে এসেছেন।

গত সোমবার রাত ও মঙ্গলবার নিউমার্কেটের দোকানমালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়। এতে নাহিদ ও মোরসালিন নামে দুজনের প্রাণহানি এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। এ ঘটনায় অন্তত চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। যার মধ্যে পুলিশের একটি মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেনকে। শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর তিনি বর্তমানে রিমান্ডে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় মাসুম, লিটন ও নাসিম নামের তিন ছাত্রকে নিউমার্কেটের দোকান কর্মচারীরা ছুরিকাঘাত করেছে এমন খবর ক্যাম্পাসে ছড়ালে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্ররা। এক পর্যায়ে তারা নিউমার্কেটে ছুটে যায় এবং সেখানে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সংঘর্ষের নেতৃত্ব দেয় ঢাকা কলেজের নর্থ ও সাউথ হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেয় সাধারণ ছাত্ররাও। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নর্থ হলের ছাত্রদের সংখ্যা বেশি ছিল এবং তারা সংঘর্ষের সময় বেশি আক্রমণাত্মক ছিল।

তবে ওই দুই হলের ছাত্র নেতাদের দাবি, সর্বশেষ আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সারির নেতারা বহিষ্কৃত হওয়ায় ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। কর্মীরা কেউ কারও কথাও শোনে না। মঙ্গলবার ছাত্রলীগের কোনো কোনো নেতা অনেক চেষ্টা করেও ছাত্রদের ফেরাতে পারেনি।

এ বিষয়ে নর্থ হলের ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার কোনো কর্মী নাহিদ হত্যার সঙ্গে জড়িত না। ঘটনার দিন সংঘর্ষে অনেক বহিরাগত অংশ নেয়। যাদের মধ্যে ছাত্রদলের সাবেক অনেকে ছিলেন। মূলত সোমবার রাতের পর পরিস্থিতি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।’

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here