দিনাজপুরে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন, পকেট পুড়ছে ক্রেতাদের

0
106
স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর সদর সহ ১৩টি থানায় গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে লেগেছে আগুন। সম্প্রতি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে পাগলা ঘোড়ার মতো লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে এসব পণ্য সামগ্রীর দাম। সংসারের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে সমাজের মধ্যবিত্তসহ কর্মহীন সাধারণ মানুষ রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।
শুক্রবার (২৬ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন দোকান ও হাট-বাজারগুলোতে ‘গরিবের প্রোটিন’ হিসেবে পরিচিত মুরগির ডিমের দাম খুচরা ও পাইকারি বাজারে হালিপ্রতি ৫০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কমলেও হাঁসের ডিমের দাম হালিতে ১৬ টাকা থেকে বেড়ে ২৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও গত দুই সপ্তাহ আগে খোলা বাজারে স্বর্ণা-৫ চাল কেজিপ্রতি ৫২ থেকে বেড়ে এখন ৫৫ টাকা, কাটারি ভোগ ৬২ টাকা থেকে ৬৫ টাকা, জিরা ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা, ৫ কেজি মুড়ির ব্যাগ ২৯০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩২০ টাকা, জিরা মসল্লা ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা কেজি, চিনি ৮০ টাকা থেকে এখন ৯০ টাকা, লুডুলস ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬০ টাকা।

অন্যদিকে বাজারে অধিকাংশ মুদির দোকানে সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট ‘সৃষ্টি’ করা হয়েছে। অধিকাংশ দোকানের র‌্যাকগুলো ফাঁকা। তীর ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের দু-এক লিটারের তেল অল্প পরিমাণে পাওয়া গেলেও পাওয়া যাচ্ছে না রূপচাঁদা ও বসুন্ধরাসহ অন্য কোনও কোম্পানির তেল।
স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সয়াবিন তেলের দাম বাড়বে এমন গুঞ্জনে পাইকারি বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন দামে তেল পাওয়া যাবে। তাই ডিলাররাও কোনও তেল দিচ্ছে না।

সম্প্রতি পেট্রোলের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সবজি ও কাঁচা বাজারেও লেগেছে তার ঝাঁজ। শুকনা মরিচ ২৮০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৪৫০ টাকা, রসুন ৭০ থেকে ৮০, শসা ৩০ থেকে ৭০ টাকা, ‘কচুরবই’ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আকার ভেদে লেবুর হালি ১৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ টাকা।

বাজারে মুরগির মাংসেও লেগেছে আগুন। পোল্ট্রি মুরগি ১২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭৫ টাকা, দেশি মুরগির ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, পাকিস্তানি কক মুরগির দাম ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তবে কাঁচামরিচের দাম ২৫০ থেকে কমে প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পটল ৪০ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকা, করলা ৮০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৪০ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ৭০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ ও দেশি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৫০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা; যা আগের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে।
স্থানীয় ভ্যান চালক ইউনুস আলী বলেন, পরিবারের জন্য মাছ-মাংস কিনতে পারি না। বাজারে এক হালি মুরগির ডিম কিনতে গিয়ে দাম বেশি হওয়ায় দুইটি ডিম কিনেছি।
অপর ক্রেতা ইলিয়াস হেমরম জানান, বাজারের অধিকাংশ মুদি ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের জন্য সয়াবিন তেল স্টক করে রাখায় বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটছে।
স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী তরিকুল দাবি করেন, তারা কোনও তেল স্টক করে রাখেননি। পাইকারি বাজারে সকল পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাস্টমারদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ডিমের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মুদি ব্যবসায়ী হুমায়ূন জানান, একদিকে মুরগির খাবারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিমের দাম বাড়ানো হয়েছে।

ডিলার ফরিদ বলেন, বাজারে রূপচাঁদা তেলের কোনও সংকট নেই। দাম বাড়ার কথা শুনে কিছু ব্যবসায়ী স্টক করে রাখায় রূপচাঁদা তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।

দিনাজপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায়ে মাসে অভিযান একেবারে নেই বললেই চলে।
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here