দিনাজপুরে ৬০০ কোটি টাকার সবজি উৎপাদন : দাম সিন্ডিকেটের হাতে বন্দি

0
38

 

স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) উত্তরের জেলা দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় খাদ্যশস্যের পাশাপাশি এই জেলায় ৬০০-৭০০ কোটি টাকার শাকসবজি উৎপাদন হয়েছে বলে জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। তবে দাম আকাশচুম্বী। ভরা মৌসুমে অনেকেই সবজি কিনতে পারছেন না। দাম চড়া। দিনাজপুর ধান-চাল এবং সবজি উৎপাদনের জেলা হলেও বৈশ্বিক আবহাওয়া করোনার ভাইরাসের সময় থেকে এখন পর্যন্ত সবজির দাম কমছে না। জনসাধারণের হাজারও অভিযোগ থাকলেও সিন্ডিকেটের কবলে রয়েছে সবজি বাজার। প্রশাসন নাকি রয়েছে দর্শকের ভূমিকায়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ হলেও দিনাজপুরে সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দাম কমার কোন সম্ভাবনাই নাই। লাউ-সিমসহ বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। ফুলকপি-বাধাকপি ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই।
বিরল বিজোড়া ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামের কৃষক রনজিৎ, রফিক ও জামালসহ জানিয়েছে, চলতি বছর যে পরিমাণ জমিতে শাক সবজি আবাদ হয়েছে, তাতে ৬৩৫ কোটি ৭৮ থেকে ৭৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকার শাকসবজি বিক্রি করতে পারবেন কৃষকরা। এরই মধ্যে জেলার বাজারগুলোতে উঠেছে শাকসবজি। আগেভাগে শীতকালীন শাকসবজি বাজারে উঠায় ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।

জেলার সবচেয়ে বড় শাকসবজির বাজার বাহাদুরবাজার এনএ মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে, শীতকালীন ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বরবটি, মুলা, পটল, বেগুন, গাজর ও টমেটোতে বাজার ভরপুর। এই বাজারে কৃষকরা শাকসবজি পাইকারিতে বিক্রি করেন। এখান থেকে ব্যবসায়ীরা পাইকারিতে শাকসবজি কিনে জেলার বিভিন্ন স্থান ও অন্যান্য জেলা শহরে খুচরা দামে বিক্রি করেন।

বর্তমানে এনএ মার্কেটে ফুলকপির কেজি ৩৫- ৪০, বাঁধাকপি ২০-২৫, শিম ৪০-৪৫, বরবটি ৫০-৮০, মুলা ১৫-২০, বেগুন ১৫-৩০, গাজর ৮০-১৩০, টমেটো ৯০-১০০, ঢ্যাঁড়স ৩০-৫০, মিষ্টি কুমড়া ৩০-৪০, লাউ প্রতি পিস (দুই-তিন কেজি) ৩০-৪০, দেশি করলা ৫০-৬০, হাইব্রিড করলা ৬০-৯০‘ টাকা ও শসা ৫০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি লাল শাকের আঁটি (৩০০-৪০০ গ্রাম) পাঁচ-সাত, পালং শাকের আঁটি ১০-১২, মুলার শাকের আঁটি পাঁচ-সাত, ডাঁটা শাকের আঁটি পাঁচ-সাত, নাপা শাকের আঁটি ১০-১৫, সরিষা শাকের আঁটি ১০-১২ ও পুঁই শাকের কেজি ৮-১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরে চলতি বছর ২১৭২ হেক্টর জমিতে ফুলকপি, ২০২১ হেক্টরে বাঁধাকপি, ৮৫০ হেক্টরে শিম, ১৯০ হেক্টরে বরবটি, ১০১০ হেক্টরে মুলা, ২৩৯২ হেক্টরে বেগুন, ২৩২ হেক্টরে গাজর, ২৪৫২ হেক্টরে টমেটো, ৮৬ হেক্টরে ঢ্যাঁড়স, ৩৭৮ হেক্টরে করলা, ৯৭৪ হেক্টরে লাউ, ৩১০ হেক্টরে শসা, ৫০০ হেক্টরে লাল শাক, ৩৮৮ হেক্টরে পালং শাক, ৩৮৮ হেক্টরে পুঁই শাক, ১৩০ হেক্টরে ডাঁটা শাক এবং ২০০ হেক্টর জমিতে নাপা শাক আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জমিতে আবাদ হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

জনসাধারণের নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে সবজির দাম। ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠানটি যেন জেগে থেকেই ঘুমোচ্ছে। স্থানীয় দিনাজপুরবাসী সরাসরি আইনপ্রয়োগ সংস্থা এবং জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here