দোকান খোলার ঘোষণা ব্যবসায়ীদের, বিক্ষোভের হুমকি ছাত্রদের

0
83

(দিনাজপুর২৪.কম) শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ী সংঘর্ষের জেরে বন্ধ থাকা দোকান খোলার কথা জানিয়েছে নিউমার্কেট দোকান মালিক সমিতি। অন্যদিকে সংঘর্ষের ঘটনার ‘সমাধানের আগে’ নিউমার্কেটের দোকান খোলা হলে আবারও বিক্ষোভে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

নিউমার্কেট মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বুধবার থেকে দোকান খোলার কথা জানান।

অন্যদিকে, ঢাকা কলেজের শিক্ষকেরা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে বুধবার সকাল থেকে বৈঠক করলেও সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা সেখান থেকে আসেনি। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, ছাত্রদের ওপর হামলা, কলেজের প্রশাসনিক ভবনে গুলি, কাঁদুনে গ্যাস ছোড়াসহ এ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত নিউ মার্কেট খোলা যাবে না। বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নিউ মার্কেট খুললে আমাদের কর্মসূচি তীব্র হবে।

সোমবার রাতে ঢাকা কলেজের কয়েক শিক্ষার্থী নিউ মার্কেট এলাকায় দোকানকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হয়। এর জেরে ওই রাতের পর মঙ্গলবারও দিনভর সংঘর্ষ চলে। এ ঘটনায় শতাধিক শিক্ষার্থীদের আহত হয়েছেন। নিহত হয়েছে নাহিদ হাসান নামে এক পথচারী।

কলেজ শিক্ষার্থী ও দোকানকর্মীদের সংঘর্ষের প্রভাবে নীলক্ষেত থেকে সায়েন্স ল্যাব সড়ক মঙ্গলবার সারা দিন বন্ধ ছিল। এতে তীব্র যানজট হয় রাজধানীর অন্য সড়কে।

তবে, বুধবার সকাল থেকে নীলক্ষেত থেকে সায়েন্স ল্যাব সড়কে যানবাহন চলাচলও স্বাভাবিক দেখা যায়। নীলক্ষেত-নিউমার্কেট এলাকায় পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিও লক্ষ করা গেছে।

এ পরিস্থিতিতে নিউমার্কেটসহ আশপাশের বিপণিবিতানের ব্যবসায়ীরা সকালে জানিয়েছিলেন, দোকান খোলা হবে না। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় দোকান খোলার সিদ্ধান্তের কথা জানাল দোকান মালিক সমিতি। দোকান মালিক সমিতির ঘোষণার পরই অনেক দোকান খুলতে দেখা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে নিউমার্কেট দোকান সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান চাই। মঙ্গলবার সংঘর্ষে যারা হামলা চালিয়েছিলেন তারা কেউ ব্যবসায়ী নন।

দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা এ ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। তিনি উসকানিমূলক কথা, বক্তব্য ও পোস্ট না দিতে দেন এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে নূরজাহান মার্কেট এবং চন্দ্রিমা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ঢাকা কলেজের মূল ফটকের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে আছেন। তবে ঢাকা কলেজের মূল ফটক বন্ধ দেখা যায়।

অন্যদিকে নিউমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেটসহ আশপাশের বিপণিবিতানের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে যার যার মার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়ে আছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, তারা দোকান খুলতেই এসেছেন। ঈদ সামনে রেখে তাদের সারা বছরের অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়ে যাচ্ছে। লোকসানের শঙ্কা দেখছেন তারা।

কেফাত উল্লাহ নামে নামে এক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা কোনো প্রকার সংঘাত চাই না। দোকান খুলতেই এসেছি। শিক্ষার্থীদের সাথে কোনো বিতণ্ডায় ব্যবসায়ীরা জড়াতে চায় না। যারা গত দুই দিন জড়িয়েছি, তারা হকার।

নাজমুল নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা স্বাভাবিক পরিস্থিতি চাই। ব্যবসা করতে চাই। দোকান খুলতে চাই।

অন্যদিকে, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজেদের হল ছাড়বেন না বলে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তারা অবস্থান নিয়েছেন কলেজ ক্যাম্পাসে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি। অনেকেই গত দুই দিনের ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের সেবা করছেন রুমমেট ও হলের ছাত্ররা।

এ সময় ওবাইদুর সাইদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা হল ছেড়ে যাব না। এর সমাধান প্রয়োজন। আমাদের অনেক বন্ধু অসুস্থ।

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা কলেজের শিক্ষকরা সকাল থেকে বৈঠক করলেও সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা সেখান থেকে আসেনি। শিক্ষার্থীরা বৈঠকের ফলাফল জানার জন্য অপেক্ষা করছেন।

সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানার অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়ে কুতুব সুজন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, নিউ মার্কেট খোলা এবং কলেজ স্যারদের বৈঠকের উপর নির্ভর করবে আমাদের আন্দোলন। সমস্যার সমাধানের আগে নিউমার্কেট খুললে আমরা আবার আন্দোলনে নামব।

এদিকে সংঘর্ষ চলার মধ্যে গতকাল বিকেলে ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজের আবাসিক হল ৫ মে পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা দিলে ছাত্ররা তা প্রত্যাখ্যান করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ টি এম মইনুল হোসেনকে বেশ কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখেন। তারা যেকোনো মূল্যে হলে অবস্থান করার ঘোষণা দেন। -অনলাইন ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here