নওগাঁয় তরমুজের কেজি ১৫ টাকা, তবুও ক্রেতা সংকট

0
29

(দিনাজপুর২৪.কম) নওগাঁয় প্রতিকেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। এর পরেও তরমুজ কেনায় আগ্রহ নেই ক্রেতাদের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তরমুজের ভেতরে পানি জমেছে। এতে তরমুজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নওগাঁ শহরের ডাবপট্টি, ব্রিজ মোড় ও কাঁচা বাজার এলাকায় পাইকারি দোকানগুলোতে তরমুজের স্তূপ পড়ে আছে। বেচা-কেনার পরিমাণ খুবই কম। কিছুদিন আগেও যেখানে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে তরমুজ কিনতেন। এখন অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। কয়েকদিন আগেও ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হতো। বর্তমানে পাইকারি দোকানে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারে ছোট তরমুজ ১০ থেকে ৫০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে মৌসুমি অন্যান্য ফল আসায় তরমুজের চাহিদা কমেছে।

তরমুজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আবহাওয়ার কারণে অনেকটা তরমুজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তরমুজে পানি জমেছে। আবার অনেক তরমুজের মধ্যে নরম হয়ে যাওয়া স্বাদ চলে গেছে। এতে করে খুচরা ব্যবসায়ীদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।

শনিবার (২১ মে) খুলনা জেলার কালীকাপুর গ্রাম থেকে ট্রাকে করে নওগাঁ শহরের ডাবপট্টিতে পাইকারি তরমুজ বিক্রি করতে আসেন আব্দুস সালাম।

তিনি বলেন, আমার এলাকায় ব্যাপক তরমুজ চাষ হয়েছে। চাষিরা প্রথম যখন তরমুজের বীজ জমিতে রোপণ করে তখনই বৃষ্টি হয়। বৃষ্টিতে বীজ নষ্ট হওয়ায় এবার ১৫ দিন দেরি হয়েছে। আর রমজানের আগে যারা তরমুজ উঠাতে পেরেছেন তারা ভালো দাম পেয়েছে। চাষিরা প্রথমবার বিঘা প্রতি প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা তরমুজের দাম পেয়েছে। বর্তমানে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বিঘা তরমুজ বিক্রি করছেন। ঝড়ে তরমুজের তেমন ক্ষতি না হলেও বাজারে দাম না থাকায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আব্দুস সালাম বলেন, বৃষ্টিতে তরমুজে পানি জমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাইকারিভাবে কেনার সময় এসব তরমুজ চেনা যায় না। খুচরা বিক্রি করতে গেলে ক্রেতাদের কেটে দেখাতে হয়। এ সময় তরমুজ নষ্ট হলে সেটা লোকসান। তবে রমজানে তরমুজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এখন কম বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচা বাজার এলাকার খুচরা তরমুজ ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, মৌসুমি বিভিন্ন ফলের ব্যবসা করে থাকি। তরমুজের মৌসুম চলছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৬ মন তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি হিসাবে ১২ থেকে ১৩ টাকা কেজি কিনে ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করছি। প্রতিটির ওজন দুই থেকে পাঁচ কেজির মতো হয়ে থাকে। সারাদিনে পাঁচশ থেকে সাতশ টাকা লাভ থাকে।

তিনি বলেন, বৃষ্টিতে তরমুজে পানি জমেছে। অনেক তরমুজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলো পাইকারি দোকান থেকে কেনার সময় বোঝা যায় না। খুচরা বিক্রি করার সময় ক্রেতারা দেখে নিতে চাইলে কেটে দিতে হয়। এ সময় তরমুজ ভালো-খারাপ বোঝা যায়। নষ্ট হলে সেটা লোকসান, ফেলে দিতে হয়।

কাঁচা বাজার এলাকার জান্নাত ফল ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী মাহাবুব হাসান মারুফ বলেন, তরমুজের আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। আড়ত থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচশ মন তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। আড়তে পাঁচজন কর্মচারী কাজ করে। তারা জনপ্রতি সাতশ থেকে আটশ টাকা পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন।

নওগাঁ দেশীয় মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও মেসার্স মিলন এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, শহরে ১০টি তরমুজের আড়ত আছে। তরমুজের মৌসুম খুবই খারাপ যাচ্ছে। পাইকারিভাবে চারশ থেকে পাঁচশ টাকায় মণ বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুদিন আগে রমজানে এক হাজার দুইশ টাকা মণ বিক্রি হয়েছিল। তখন চাহিদা ভালো ছিল। বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তরমুজ চাষিরা লোকসানের মুখে। বিক্রির পরিমাণও কম। -অনলাইন ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here