নকল প্রসাধনীর বড় মোকাম সৈয়দপুর : সরকারি অভিযান খুবই জরুরি

0
48
-ফাইল ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) নকল প্রসাধনীর মোকাম গড়ে উঠেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। এখান থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা শহরসহ পাড়া-মহল্লার দোকানে। যুবকদের এসব পণ্যে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নকল প্রসাধনী ব্যবহারে ভোক্তারা চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে নকল পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের কিছু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার চকবাজারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নকল প্রসাধনী সংগ্রহ করছেন। এদের অধিকাংশই শহরের বড় বাজারের চুড়ি মার্কেটের পাইকারি ব্যবসায়ী। এসব প্রসাধনী যেমন যাচ্ছে স্থানীয় বাজারে, তেমনি যাচ্ছে দিনাজপুর, রংপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ উত্তরের বিভিন্ন জনপদে। নকল এই প্রসাধনীর প্যাকেটে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, অনুমোদন, বিএসটিআইয়ের লোগো, ব্যাচ নম্বর, এমআরপি, এমএফজি, মেয়াদের তারিখ সবকিছুই উল্লেখ রয়েছে। মোড়ক দেখে বোঝার উপায় নেই, আসল না নকল। এসব পণ্যের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বিউটিশিয়ান ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘অনেকেই মুখে কালো দাগ, র‍্যাশ, গোটা, অ্যালার্জি সমস্যা নিয়ে আসেন। জানতে চাইলে তাঁরা ক্রিম, লোশন ব্যবহারের কথা বলেন। তাঁদের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিই।’

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সৈয়দপুরের প্রায় ১০টি পাইকারি দোকানে বিক্রি হচ্ছে এসব নকল প্রসাধনী। এ দোকানগুলোতে বহুজাতিক কোম্পানির হুবহু নকল প্রসাধনীও বিক্রি হচ্ছে অবাধে। তাতে মেইড ইন জার্মানির জায়গায় মেড অ্যাজ জার্মানসহ বিভিন্ন দেশের স্টিকার ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার ইউনিলিভারের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির আদলে ফেজার অ্যান্ড লাভলি, ফুয়ার অ্যান্ড লাভলি ইত্যাদি নামে রং ফরসাকারী ক্রিম, শেভিং ফোম, ফেস ওয়াশ, আফটার সেভ লোশন, এপ্রিকট, স্পিডি ন্যাচারাল ব্ল্যাক কালার, গার্নিয়ার, লরেল, রেভলন, হেড অ্যান্ড শোল্ডার, লাক্স লোশন, মাস্ক লোশন, অ্যাকুয়া মেরিন লোশন, পেনটিন, নেভিয়া লোশন, ফেড আউট ক্রিম, ডাভ সাবান, ইমপেরিয়াল সাবানসহ বিভিন্ন আইটেম অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া জনপ্রিয় সুগন্ধি ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে ফগ, হুগো, রজনীগন্ধা, ফেরারি, পয়জন, রয়েল, হ্যাভক ও কোবরা। শিশুদের পণ্যের মধ্যে রয়েছে অলিভ অয়েল, ক্লিওকারপিন, আমলা, আফটার সেভ লোশন প্রভৃতি। ভিট হেয়ার রিমুভার, ক্লিন ক্লিয়ার, স্কিন সাইন বডি লোশন, ক্লিন ক্লিয়ার ফেসওয়াশ, ভ্যাসলিন হেয়ার টনিক, জিলেট ফোম, প্যানটিক প্রোভি ও হারবাল অ্যাসেনশিয়াল লোশন, সেভিং ফোম, সেভিং লোশন বা ক্রিম, পারফিউম, টেলকম পাউডার, বিউটি ক্রিম, শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারের বিক্রিও তুঙ্গে। এগুলো বিভিন্ন পারলার, সেলুন ও হেয়ার ড্রেসিংয়ের দোকানগুলোতে বেশি ব্যবহার হচ্ছে। অন্যদিকে এসব পণ্যে যুবকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ নকল প্রসাধনী বিক্রেতারা। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রেজা আলম সৈয়দপুর শহরে নিয়মিত রোগী দেখেন। নকল প্রসাধনীর ক্ষতিকর দিক নিয়ে তিনি বলেন, নকল প্রসাধনীর প্রভাবে অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন ধরনের ডারমাটাইসিস, ক্ষত, একজিমাসহ স্কিন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সৈয়দপুরে অবাধে নকল প্রসাধনীর এ ব্যবসা চললেও এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোনো অভিযান নেই বললেই চলে। বছরে দু-একবার ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করলেও মূল হোতারা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। নীলফামারী জেলা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দুই মাস আগে অনুমোদনহীন ও নকল প্রসাধনী বিক্রির দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নীলফামারীর সহকারী পরিচালক শামসুল আলম বলেন, নকল প্রসাধনী বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। -নিউজ ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here