নদীতে ভেসে ওঠা নারীর লাশের পরিচয় শনাক্ত

0
65

(দিনাজপুর২৪.কম) ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর মোহনায় গত বুধবার ভেসে ওঠা নারীর লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। হতভাগ্য ওই নারীর নাম সিমু বেগম (২৫)। তাঁর বাড়ী বরগুনা সদরের খাজুরতলা গ্রামে। অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা গেছে তাঁর যমজ সন্তানও। তাঁর মা দুলু বেগম গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।

নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, সিমু বেগম (২৫) চার বছর বয়সী যমজ শিশু লামিয়া ও সামিয়াকে নিয়ে ঢাকায় মগবাজার বড় বোনের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। গত ২৩ ডিসেম্বর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য মা দুলু বেগম ও দুই মেয়েকে নিয়ে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ওঠেন। রাতে অগ্নিকাণ্ডে লঞ্চটি পুড়ে যায়। এ সময় আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয় যমজ শিশুও। এক পর্যায়ে সিমু বেগম ও তার মা সুগন্ধা নদীতে লাফিয়ে পড়েন। পরে দুলু বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় স্থানীয় লোকজন, কিন্তু নিখোঁজ হন সিমু বেগম। বুধবার সকালে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর মোহনায় এক নারীর লাশ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মৃতদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। ফেসবুকে সেই ছবি প্রকাশ করলে মৃতদেহ ও পরনের পোশাক দেখে সিমু বেগমকে শনাক্ত করেন তাঁর বড় ভাই মো. হান্নান। পরে আরেক বোন কুলসুম বেগমকে নিয়ে থানায় এসে মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। ময়নাতদন্ত শেষে রাত ১০টার দিকে তাঁদের কাছে সিমুর মৃতদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ।

সিমুর ভাই মো. হান্নান বলেন, ‘আগুনে পুড়ে যাওয়া দুই ভাগ্নির মৃতদেহ সুগন্ধা নদীতীরের মিনি পার্কে বসে শনাক্ত করি। মাকে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় পাই। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে।’

ঝালকাঠি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন বলেন, ‘সিমুর মৃতদেহ তাঁর বড় দুই ভাই-বোন এসে শনাক্ত করে নিয়ে গেছেন। স্বামীর কথা জানতে চাইলে, তিনি শেরপুরে আছেন বলে জানান।’

এদিকে বিষখালী নদীর মানকিসুন্দর এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া এক যুবকের লাশেরও পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁর নাম আবদুল হক মিয়া (৩৫)। তিনি নরসিংদীর রায়পুর উপজেলার হাইমোড়া গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে। তাঁর স্ত্রী রোকেয়া আক্তার পোশাক দেখে শনাক্ত করে তাঁর লাশ নিয়ে গেছেন।

ঝালকাঠি থানার ওসি খলিলুর রহমান বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নদী থেকে এ পর্যন্ত নিখোঁজ পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গত বুধবার উদ্ধার হওয়া চারজনের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একজনের পরিচয় না পাওয়ায় তার মৃতদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে সমাহিত করা হয়েছে।-অনলাইন ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here