পঞ্চগড়ে প্রতিদিনই কমছে তাপমাত্রা, দূর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ

0
90
ছবি: প্রতিনিধি

(দিনাজপুর২৪.কম) উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে প্রতিদিনই কমছে তাপমাত্রা। গত ৩০ নভেম্বর হতে ১২ দিনে ১১ দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেতুঁলিয়ায় ১১ থেকে ১৪ ডিগ্রীতে উঠানামা করছে এই জেলায়। শনিবার সকাল নয়টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। গতকাল তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গত দশদিন ধরে ২৭ থেকে ২৯ ডিগ্রীর ঘরে রয়েছে।

সরেজমিনে পঞ্চগড়ে ভোরে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে চারদিক। কুয়াশার কারনে হেডলাইট চলছে যানবাহন। সকাল নয়টা পর্যন্ত শীত নিবারনের জন্য আগুন পোহাতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। কুয়াশার সাথে ঠান্ডা বাতাস শীতের তিব্রতা বাড়িয়ে দেয়। সূর্য উঠলেই ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঝলমলে কুয়াশামিশ্রিত রোদ উঠলেও উত্তাপ ছড়ায় না। এতে গরম কাপড় ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যায়না। ভর দুপুরে শীতের পোষাক মুড়িয়ে চলাফেরা করতে হয় পঞ্চগড়ে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদের তিব্রতা বেড়ে যায় কিন্ত বিকেল গড়াতেই তাপমাত্রা কমে গিয়ে শীতের আমেজ শুরু হয় তখন শীতল বাতাস বয়ে যায় পঞ্চগড়ে। রাতভর থাকে শীতের তীব্রতা। রাতে কনকনে বাতাসের সাথে প্রচন্ড শীত অনুভুত হচ্ছে পঞ্চগড়ে। আবার ভোররাত থেকে শুরু হয় কুয়াশা। নিম্ন আয়ের মানুষের দূর্ভোগও দিন দিন বাড়ছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে প্রতি মৌসুমে অন্যান্য জেলার তুলনায় এই জেলায় শীতের তীব্রতা বেশি। বর্তমানে যে শীত অনুভুত হচ্ছে তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রী তবে দিনের বেলায় সর্বোচ্চ ২৭ থেকে ২৯ ডিগ্রীতে উঠানামা করছে গত সাতদিন। হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় উত্তরের হিমেল বাতাস বেশির ভাগ সময়ে বয়ে যায় পঞ্চগড় জেলায়। এই জেলায় শীত আসে আগেভাগে আর শীত বিদায় নেয় দেরীতে।

শনিবার সকালে রিক্শা চালক পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকার নিমনগড়ের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান আজ ভোরে ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে চারদিক। ঠান্ডার কারনে সকালে লোকজন কমে গেছে। এজন্য আমাদের আয় কমে গেছে। তেতুঁলিয়া প্রথম শ্রেনী আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগড় কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ আবহাওয়া অফিসের বরাদ দিয়ে জানিয়েছেন তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ডিসেম্বর মাসে। মাঘ মাসের শুরুতে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট জানান শীত মোকাবেলায় জেলা পরিষদে সরকারি কোন বরাদ্দ নেই তবে আমরা নিজস্ব উদ্যোগে এই মৌসুমে এক হাজার ২ শত কম্বল বিতরন করা হয়েছে শিতার্তদের মাঝে। বিজয় দিবসের পরে আরও এক হাজার কম্বল শিতার্তদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম জানান শীত মোকাবেলা করার জন্য প্রশাসনের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে। ত্রান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় হতে বরাদ্দ পাওয়া আট লাখ টাকায় দুই হাজার কম্বল ক্রয় করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্য্যালয় হতে ২১ হাজার ৬শত কম্বল পাওয়া গেছে। জেলার পাঁচ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তাদের কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনই জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে কম্বল বিতরন করা হচ্ছে শিতার্তদের মাঝে। এছাড়াও শীত মোকাবেলায় বিত্তবান ও বেসরকারী সংস্থাদের কাছে শীত বস্ত্র আহ্বান করেছি। অনলাইন ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here