পুলিশের প্রতিটি পর্যায়কে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

0
53
পুলিশের প্রতিটি পর্যায়কে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য পুলিশ কার্যক্রমের প্রতিটি পর্যায়কে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে।’ আজ সোমবার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের এক যুগপূর্তির এই শুভক্ষণে ইউনিটের সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার লক্ষ্যে পুলিশের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে জনবল ও বাজেট বৃদ্ধিসহ সার্বিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পুলিশের প্রায় সব ইউনিটের কাঠামো সংস্কারসহ মোট ১ হাজার ৫২৯টি ক্যাডার পদসহ সর্বমোট ৮২ হাজার ৯২৭টি পদ সৃজন করা হয়। বিশ্বায়নের ও ডিজিটালাইজেশনের এ যুগে অপরাধীরা সহজলভ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও সর্বদা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে অপরাধকে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক পরিসরে দ্রুত বিস্তৃত করছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং স্থানীয় প্রযুক্তি নির্ভর অপরাধ প্রতিরোধ ও অপরাধ উদঘাটন এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কিত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য পুলিশ কার্যক্রমের প্রতিটি পর্যায়কে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের দেশপ্রেমিক পুলিশ সদস্যরা।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার বাংলাদেশ পুলিশকে সাইবার ক্রাইম, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন, মানি লন্ডারিং ইত্যাদি সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম একটি জনবান্ধব আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সব ধরনের সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে গত সাড়ে ১৩ বছরে পুলিশ বাহিনীতে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট, সাইবার ইউনিট গঠনসহ ছয়টি বিশেষায়িত ইউনিট, চারটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, তিনটি র‌্যাব ব্যাটালিয়ন, দুইটি রেঞ্জ, দুইটি মেট্রোপলিটন পুলিশ, ৬৩টি থানা, ৯৫টি তদন্ত কেন্দ্র এবং ৩০টি ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার গঠন করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্পাঞ্চলে অপরাধের মাত্রা ও প্রকৃতি ভিন্নতর। শিল্পক্ষেত্রে বিশেষ করে পোশাক শিল্পে নৈরাজ্য ও অস্থিরতা দেখে আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম শিল্প পুলিশের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ২০০৯ সালে শিল্প পুলিশ গঠনের ঘোষণা দেয়। ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য এই ইউনিটটি যাত্রা শুরু করে। গঠনের পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে আসছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি শিল্প খাত হতে অর্জিত আয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় ছিল ৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্পখাত রপ্তানি করেছে ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, যা মোট রপ্তানির ৮১.৮২ শতাংশ। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। শুধু পোশাক শিল্পে বর্তমানে প্রায় ৪২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। পোশাক শিল্পসহ অন্য শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় থাকার কারণে আমাদের এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। -ডেস্ক রিপোর্ট

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here