প্রতিমা বিসর্জনে আকস্মিক স্রোত, ভেসে গেল ৭ প্রাণ

0
57
(দিনাজপুর২৪.কম) দুর্গা পুজার শেষ দিনে প্রতিমা বিসর্জনের সময় ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটলো পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির মাল নদীতে। আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেলেন ভাসানে আসা বেশ কয়েকজন। বুধবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাতজনের, যার মধ্যে রয়েছে শিশুও। এখন পর্যন্ত মোট ৩০-৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
জলপাইগুড়ির জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলেন, নদীর পাড় থেকে নদীগর্ভে অনেকটাই নেমে প্রতিমা বিসর্জন করছিলেন মানুষজন। সেইসময় আচমকাই ছুটে আসে বন্যার পানি। কয়েকদিন পাহাড়ে বৃষ্টি হওয়ার ফলেই আচমকা এই জলস্ফীতি বলে মনে করা হচ্ছে। বহু মানুষ সাঁতার কেটে পাড়ে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু জলের তোড়ের সঙ্গে পেরে ওঠেননি।  ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানালেন, পানির স্রোতে  অনেকেই ভেসে গিয়েছেন। কেউ বলছেন ২০, কেউবা বলছেন ২৫। কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। কয়েকজনকে মালবাজার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নদীর পানি  ক্রমশ বাড়ছে। আপাতত বিসর্জন বন্ধ রাখা হয়েছে।
জলপাইগুড়ির জেলাশাসক জানিয়েছেন ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মাল নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ঘাট তৈরি ছিল। মোতায়েন ছিল নিরাপত্তা সরঞ্জাম। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী বুলু চিকবরাইক, চেয়ারম্য়ান সহ অনেকেই। আচমকাই প্রবল বেগে ছুটে আসে পানিতে ভেসে যান নদীতে নামা বহু মানুষ। সাবধান হওয়ার কোনও সুযোগই তারা পাননি। নদীগর্ভে বেশ কয়েকটি গাড়িও ছিল। সবকিছুই জলের তোড়ে ভেসে যায়। নদীতে বিসর্জনের জন্য যেসব ট্রাক নেমেছিল পানির  তোড় সেইসব ট্রাকের উপর দিয়ে চলে যায়। ফলে ট্রাকে থাকা মানুষজন ভেসে যান।
কিছুদিন আগেও এরকম এক বানে ভেসে গিয়েছিল একটি আস্ত ট্রাক। ঘটনার খবর পেয়েই উদ্ধারে নেমে পড়ে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। কিন্তু ততক্ষণে বহু মানুষ ভেসে গিয়েছেন। ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।
মৌমিতা গোদারা জানিয়েছেন, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। তাদের উদ্ধার করতে নামানো হয়েছে এনডিআরএফ টিম।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই মাল নদী প্রতিটি ঘাটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে মানুষজন বিসর্জন দিতে নদীতে নামতে না পারে। দুর্ঘটনার পরই মালবাজার হাসপাতালে ভিড় করেছেন এলাকার মানুষজন। রাত দশটার সময়ে নদী থেকে এক স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সে জীবিত না মৃত তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না।ওদলাবাড়ি থেকে এনডিআরএফের টিম এসে নদীতে আলো জ্বালিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। মালবাজার
মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান বলেন, বিসর্জনের সময় আমরা বারবার মাইকে ঘোষণা করেছিলাম নদীর মধ্যে যাবেন না। কিন্তু কিছু অতি উৎসাহী মানুষ নদীর মধ্যে চলে যান। অনেককে আমরা উদ্ধার করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কিছু মানুষকে উদ্ধার করতে পারিনি। পানির  স্রোত খুবই প্রবল ছিল। তার সঙ্গে পেরে ওঠা অসম্ভব ছিল। আপাতত বিসর্জন বন্ধ রাখা হয়েছে। -ডেস্ক রিপোর্ট
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here