‘বঙ্গবন্ধুর বিয়ে ১৯১৮ সালে’ ভুল তথ্য দিয়ে সমালোচনার মুখে জাবি ছাত্রলীগ সম্পাদক

0
81

(দিনাজপুর২৪.কম) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভুল বক্তব্য প্রদান করে সমালোচিত হচ্ছেন জাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান লিটন।

সম্প্রতি তার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

বক্তব্যের মধ্যে লিটন বঙ্গবন্ধুর বিয়ের সাল, পিতা-মাতার নামের উচ্চারণ, ভাইবোনের সংখ্যা নিয়ে বেশ কিছু ভুল তথ্য দেন। এ নিয়ে খোদ ছাত্রলীগের অনেকেই সমালোচনা করছেন।

অনেকের দাবি, অযোগ্য লোককে সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেওয়ায় এমনটি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে আয়োজিত সমাবেশে ওই বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেন লিটন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন লুৎফর রহমান এবং ‘সাহারা’ খাতুনের চার ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে তৃতীয়। তিনি ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাত বছর বয়সে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ১৪ বছর বয়সে বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হন। ফলে তার শিক্ষাজীবন চার বছর পিছিয়ে পড়ে। শিক্ষাজীবন পিছিয়ে যাওয়ার পরও তিনি দমে যাননি।’

এরপর বঙ্গবন্ধুর বিয়ে নিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯২৮ সালে, সরি ১৯২৪ সালে, না ১৯১৮ সালে জনাব… জনাবা… ১৯১৮ সালে ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন।’

এ সময় পাশে থেকে কয়েকজন ১৯৩৮ সাল বলে শিখিয়ে দেন। এরপরও হাবিবুর বলেন, ‘১৯১৮ সালে তিনি বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন… এবং তিনি তার শিক্ষাজীবন ক্রমাগত চালিয়ে যান এবং এক সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ভর্তি হন…।’

প্রসঙ্গত, এ বছরের ৩ জানুয়ারি আকতারুজ্জামান সোহেলকে সভাপতি ও হাবিবুর রহমান লিটনকে সাধারণ সম্পাদক করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটি ঘোষণার প্রায় আড়াই মাস অতিবাহিত হতে চললেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেননি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং কর্মীদের দিয়েই চলছে ছাত্রলীগের এই ইউনিট। পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে না পারলেও সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির পদপ্রত্যাশী নেতা কর্মীরা। আড়াই মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় হতাশ তারা।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগে ‍লিটন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলেন। এই পদে থাকাকালে ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর একটি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্সির মালিকের কাছ থেকে ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছিল হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেসময় এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪৩তম ব্যাচে (২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ) পোষ্য কোটায় ভর্তি হন হাবিবুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারীর সন্তান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, পোষ্য কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কেউ আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারবেন না। কিন্তু হাবিবুর রহমান ভর্তি হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে থাকছেন। এই হলের ৩৪৬ ও ৩৪৭ নম্বর (চারজনের কক্ষ) কক্ষে তিনি একাই থাকেন। এর মধ্যে একটি রুমকে ‘ছাত্রলীগের সম্পাদকের অলিখিত অফিস কক্ষ’ বানিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে কমিটি হওয়ার মাত্র দেড় মাসের মাথায় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলের অনুসারী কয়েকজন নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবসার ৫০ শতাংশ ভাগ না দেওয়ায় স্থানীয় একটি ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ভাঙচুর করে মালামাল লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।

চলতি বছরের গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বটতলা বাজারের উৎসব স্যাটেলাইট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ওই সময় উৎসব স্যাটেলাইটের মালিক মো. আল-আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা প্রথম দফায় মালামাল লুটপাট করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা সবাই মওলানা ভাসানী হলের আবাসিক ছাত্র।’

ভাইরাল হওয়া বক্তব্যের বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিষয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধারণা রয়েছে। বাঙালি জাতির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানেন না এমন কাউকে এ দেশে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক যেসব ভুলভাল তথ্য দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তা রীতিমতো অপরাধ। এখানে ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে না জেনে কেউ ছাত্রলীগের কর্মীও হতে পারেন না সেখানে কীভাবে তিনি (হাবিবুর রহমান) নেতা হয়েছেন তা অনেক বড় চিন্তার বিষয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, ‘এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ধরনের ভুল ভবিষ্যতে হবে না।’

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফর রহমান এবং সায়রা বেগমের ছয় সন্তানের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ছিলেন ‍তৃতীয়। ১৮ বছর বয়সে ১৯৩৮ সালে বেগম ফজিলাতুন্নেছার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। -অনলাইন ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here