বছরজুড়েই পর্যটকমুখর হিমালয়কন্যা তেঁতুলিয়া

0
59
সংগৃহীত ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) দেশের সর্ব উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ব্যাপক পরিচিত। এ ছাড়া ১৯৭১ সঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তেঁতুলিয়া পাকহানাদার মুক্ত থাকায় স্বাধীনতার তীর্থ ক্ষেত্র বা মুক্ত অঞ্চলও বলা হয়। কোলাহলমুক্ত, সবুজের সমারোহ, সুন্দর নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় দেশের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে সারা বছরই হাজারো পর্যটক আসেন এখানে।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টের নিকটবর্তী হওয়ায় ‘হিমালয়কন্যা’ নামেও পরিচিতি লাভ করে তেঁতুলিয়ার। সে কারণে দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় এ জেলায় শীতের আগমন ঘটে সবার আগে এবং বিদায়ও নেয় সবার পরে। ফলে এটি শীতপ্রবণ জেলা হিসেবে খ্যাত। শীত মৌসুমের শুরুতে মেঘমুক্ত উত্তর আকাশে সূর্যের বর্ণিল আলোকছটায় উদ্ভাসিত হিমালয় গিরিমালার নয়নাভিরাম দৃশ্য ও কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোরম দৃশ্য দেখে অন্য রকম এক ভালো লাগার অনুভূতিতে মন ভরে যায়। প্রকৃতির এ অপরূপ সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসুদের মোহিত করে। তাই এ সময় পর্যটকদের পদচারণাও বেড়ে যায়।

এদিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলা দুই দেশকে বিভক্তকারী নদী মহানন্দা। এ নদীর কিনার ঘেঁষে উঁচু একটি টিলার ওপর অবস্থিত শতবর্ষ পুরনো জেলা পরিষদের একটি ডাকবাংলো। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করা এ ডাকবাংলোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন পিকনিক কর্নার বা পর্যটনক্ষেত্র। ডাকবাংলো সংলগ্ন খড়স্রোতা মহানন্দার পারে বসে সূর্যাস্তের বর্ণিল দৃশ্য মনে অভূতপূর্ব শিহরণ জাগিয়ে তোলে। এখানে বসেই কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় রূপ দেখে অভিভূত হন পর্যটকরা।

এ ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারে রয়েছে একটি ওয়াচ টাওয়ার। পর্যটকরা এ টাওয়ারে উঠে প্রবহমান মহানন্দা নদী, ভারত সীমান্তের চা বাগানের সবুজ সমারোহের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরা চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে অভিভূত হন। এ ছাড়া বন বিভাগের বাগানটি পর্যটকদের সুশীতল ছায়া দিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে ঘুরে বেড়ানোর বড় ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নারে স্থাপিত অপ্রতিরোধ্য বাংলা জাদুঘর তেঁতুলিয়ায় আসা শিক্ষার্থী ও পর্যটকরা আনন্দ ভ্রমণের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ও জ্ঞান অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। যা পর্যটকদের এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

প্রতিনিয়ত এখানে আসা হাজারো পর্যটকের বিনোদনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সৃষ্টিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গৃহীত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ দেশের অবস্থান কোথায় থাকবে সে বিষয়ে স্থির চিত্র প্রদর্শনীয় মাধ্যমে তুলে ধরা হয়, যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে তেঁতুলিয়া উপজেলায় দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে সড়কপথে আসা যায়। এ ছাড়া রেলযোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল রেলওয়ে পঞ্চগড় স্টেশনে নেমে লোকাল বাসে, মাইক্রোবাস, অটো, ভ্যানেও যাওয়া যায়। সরকারি-বেসরকারিভাবে রয়েছে বিভিন্ন মানের আবাসন ব্যবস্থা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, সমতলের চা বাগান, সবুজের প্রান্তর, কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য, নির্মল-নিরিবিলি পরিবেশে ভ্রমণপিপাসু ও পর্যটকদের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বেড়াতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here