বাংলাদেশ সব সময় শান্তির পক্ষে-প্রধানমন্ত্রী

0
19
(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে সব সময় শান্তির পক্ষে। আমরা কোন যুদ্ধ চাইনা, শান্তি চাই। রোববার আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২২ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মানসিকতা নিয়ে আপনারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। এ জন্য আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আগামীতেও নিষ্ঠা ও মর্যাদার সঙ্গে শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করবেন। দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবেন। নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলবেন। কেন না, দৃঢ় আত্মবিশ্বাস থাকলে সব কাজ সহজেই করা যায়। তাই যেখানেই যে কাজ করবেন আত্মবিশ্বাস নিয়ে করবেন। বিশ্বে বাংলাদেশের পতাকা সমুজ্জ্বল করবেন আমি সেই প্রত্যাশা করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে । একই বছরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেন। সেখানেই জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ জাতির পিতার সেই স্বপ্ন ধরে ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যুক্ত হয়। আজ সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে শীর্ষে অবস্থান করছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় মর্যাদার।
তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আমি সরকার গঠন করেই শান্তিরক্ষীদের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে প্রতিষ্ঠা করি ‘বিপসট’। এখন বিপসট শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি লাভ করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীরা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে তুলে ধরেছেন। তারা বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত থাকার মাধ্যমে দেশের জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গোলযোগপূর্ণ দেশে আরো নানা প্রতিকূলতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে আরো জটিল হয়েছে। এর মাঝেও আমাদের শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তারা তাদের নিয়মিত দায়িত্বের বাইরেও সামাজিক ও নানা মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে ওইসব দেশে স্থানীয় জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে শান্তিরক্ষীরা নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন। তারপর ও আমি বলবো, যে দেশে আপনারা কাজ করবেন সেখানকার জনগণের জন্য কাজ করবেন। মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত যে, সবথেকে ‘ক্রিটিক্যাল’ জায়গাতেও আপনারা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মানসিকতা নিয়ে কাজ করেন। আমাদের মেয়েরাও (নারী শান্তিরক্ষীরা) সেখানে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। যদিও ছেলে-মেয়ের মধ্যে আমি কোনো বিভেদ করি না।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব নিজেই আরো নারী শান্তিরক্ষী সদস্য চেয়েছেন। আমি বলেছি, আমরা এ বিষয়ে প্রস্তুত আছি। শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি বলবো, আপনারা এসব দেশের জনগণের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করেছেন। আপনারা কেবল দায়িত্ব পালনই করেননি, সামাজিক ও মানবিক কাজ করেও স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। এ জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীদের মানবিক গুণাবলী রয়েছে। সেই গুণাবলী দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন তারা। আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আজ আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ পরিণত হয়েছি। দেশ ডিজিটাল হয়েছে বলেই আজ আমরা বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও একসঙ্গে যুক্ত হয়ে এখানে কথা বলতে পারছি। ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, টেলিযোগাযোগসহ নানা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির আজ ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশের কৃতিত্ব। আমরা বিশ্বাস করি, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের তরুণ সদস্যরা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তরিকভাবে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।
আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে রোববার বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এছাড়া জ্যেষ্ঠতম শান্তিরক্ষী হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দীন আহমেদ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সামরিক উপদেষ্টা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী। অনুষ্ঠান মঞ্চে আইনমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার বক্তব্যে বলেন, জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পর্কের গোড়াপত্তন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বর্তমানে আমাদের শান্তিরক্ষীরা আলাদা দেশ, আলাদা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ভিন্ন এক পরিবেশে মিলেমিশে স্থানীয় জনগণের জন্য কাজ করছেন। আমাদের শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্বের সুনাম এখন সবখানে।
তিনি বলেন, নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবেও জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশ বর্তমানে মর্যাদার জায়গায় রয়েছে। আজ বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাচ্ছেন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন আমি তাদের আত্মত্যাগ কে স্যালুট জানাই।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজ আমরা বিশ্ব শান্তি রক্ষায় স্বীকৃত নাম। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী শীর্ষ দেশ আমাদের বাংলাদেশ। যেখানে বিশ্বের নয়টি মিশনে বর্তমানে ৬ হাজার ৮২৫ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছে। বর্তমানে আমাদের শান্তিরক্ষীরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগের চেয়েও বেশি প্রস্তুত রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত দুইজন এবং আহত ১৪ জন শান্তিরক্ষী বা তাদের ওয়ারিশদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর আগে ভিডিওর মাধ্যমে সরাসরি ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যুক্ত হোন আফ্রিকার দেশ কঙ্গো, সেন্ট্রাল আফ্রিকা, সাউথ সুদান ও লেবাননে নিয়োজিত বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কোরআন তেলাওয়াতের পর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়ে শহীদ হওয়া শান্তিরক্ষীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সদস্য, জাতীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিব, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তারা। -ডেস্ক রিপোর্ট
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here