‘বাইত্তে পানি উঠছে, কেউ আমগোরে দেখপার আহে নাই’

0
28
ছবি-সংগ্রহীত
(দিনাজপুর২৪.কম) ‘বাইত্তে পানি উঠছে, চুলা ভিজা গ্যাছেগা। পাক কইরা খাবার পারতাছিনা। এক সময় খাই, আরেক সময় খাইতে পারি না। পালাপানরে নিয়া খুব কষ্টে আছি। আগে নদীর কান্ডায় (পাড়ে) আছিলাম। বাড়িঘর ভাইঙ্গা গ্যাছেগা। মাইনষের জায়গায় আইছি। এহানেও পানি উইঠা গ্যাছেগা। আমরা খুব কষ্টে আছি। কেউ আমগোরে দেখপার আহেনাই এহন পর্যন্ত।’
কথাগু্লি বলছিলেন নদীভাঙনের শিকার ও বন্যাদুর্গোত সাবেরা খাতুন। সাবেরা খাতুন রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর নতুনগ্রাম এলাকার ফাটকপাড়ার দিনমজুর কামাল হোসেনের স্ত্রী। ওই গ্রামে বন্যায় দিশেহারা নদী ভাঙনের শিকার ৬২ পরিবার।
রৌমারী উপজেলার কর্তিমারী বাজার থেকে নৌকায় করে সাড়ে তিন কিলোমিটার গেলেই যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর নতুনগ্রামের দূর্গম এলাকা ফাটকপাড়ায় সাবেরা খাতুনের বাড়ি।
ওই বাড়ির কাছে গেলে নৌকার শব্দে হাটুপানি ভেঙে ছুটে আসেন সাবেরা খাতুন। তার বসতঘরের বাইরে ও ভেতরে বন্যার পানি থই থই করছে। পানিতে ডুবে গেছে রান্নার চুলা, টয়লেট ও টিউবওয়েল। ঘরের ছিঁকায় ঝুলছিলো হাড়িপাতিলগুলো। কেমন আছেন জানতে চাইল তিনি বলেন, কেমন আর থাকুমো, বাইত্তে, ঘরে পানি। পোলার বাপের কোনো কাজ-কাম নাই। চলবার পারতাছি না। চার পোলাপান (সন্তান) নিয়া খুব কষ্ট আছি।
ওই চরেই পানিবন্দি আইয়ুব আলীর বাড়ি। আইয়ুব আলী বলেন, বানের আগে নদীতে বাড়িঘর ভাইঙ্গা গেলে, এপারে মাইনষের জায়গায় উডুলা (অন্যের বাড়িতে ঘর তুলে থাকা) আছি। বাড়ির চারপাশেই পানি। রাস্তা-ঘাটও ডুইবা গ্যাছে। বাজার-ঘাটেও ঠিক মতো যাইবার পারি না। কামাই-রোজগারও নাই। তাঁর ঘরে স্ত্রী, মা ও দুই সন্ডান নিয়ে মানবতের জীবন-যাপন করছেন।
ছবি-সংগ্রহীত
দিনমজুর আইয়ুব আলী আরও বলেন, তাদের মতা নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এ চরে অন্যের জমিতে ঠাঁই নিয়ে বসবাস করছেন আরও ৬২টি পরিবার। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ওই পরিবারগুলোও। পরিবারগুলোর অভিযোগ, বন্যার আগে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বসতবাড়ি বিলিন হয়ে নি:স্ব হলেও কেউ তাঁদের খোঁজ-খবর নেননি। বাড়াননি কেউ সহায়তার হাত। এবারের বন্যায় পানিবন্দি ও কারো কারো বসতঘরে পানি উঠলেও এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ কিংবা সহায়তা পাননি তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল বাতেনেও নিজের বসতবাড়িও ব্রহ্মপুত্রে বিলিন হলে একই চরে বসবাস তার। তিনি বলেন, বন্যার আগে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বিলিন হয়েছে ৬২টি পরিবারের বসতবাড়ি। পরে তাদের বেশীর ভাগেই অন্যের জমিতে ঘর তুলে কোনো মতো বসবাস করছেন তাঁরা। বন্যায় এ পরিবারগুলোর পানিবন্দি হয়ে ৬২টি পরিবারের তিন শতাধিক মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। দেখা দিয়েছে খাদ্য সঙ্কট।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি একাধিকবার যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলীকে জানানা হয়েছে। দ্রুত ওই পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি। যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন,গত মঙ্গলবার নদী ভাঙনের শিকার ৬২ পরিবারের মধ্যে ৩০টি পরিবারকে ১০কজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
কয়েকদিন ধরে টানাবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বন্যা পরিস্থিতির  অবনতি হয়েছে। এতে পানিবন্দি  হয়ে পড়েছে হাজাও পরিবার। দেখা দিয়েছে খাদ্য সঙ্কট। -নিউজ ডেস্ক
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here