বাসে পিষে শিক্ষার্থীর মৃত্যু : ১২ বাসে ক্ষুব্ধ জনতার আগুন

0
49
ছবি-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই বেপরোয়া বাস পিষে মারল এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে। এর জের ধরে বিক্ষুব্ধ জনতা অনাবিল পরিবহনের ওই বাসটিসহ বেশ কয়েকটি বাসে আগুন দেয়। পোড়া বাসগুলো পড়ে থাকায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায় ওই সড়ক দিয়ে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর সময় বিক্ষুব্ধ জনতা এবং মাঈনুদ্দীন ইসলাম নামের নিহত ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। রাত সাড়ে ১২টার দিকেও রামপুরা বাজারের সামনে বিক্ষোভ করছিল তারা। রাত ১টার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করলেও থেমে থেমে স্লোগান দিচ্ছিল বিক্ষুব্ধ জনতা। দেড়টার পর নতুন করে আরও কয়েকটি বাসে আগুন দেওয়ার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা হাসান আলী বলেন, ‘১২টি বাসে আগুন নিভিয়ে স্টেশনে এসেছিলাম। এখন আরও বাসে আগুনের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।’ এদিকে মাঈনুদ্দীনকে ‘হত্যার’ ঘটনা এমন সময় হলো যখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাইম হাসান নিহত হওয়ার বিচার দাবিতে রাজপথে রয়েছেন তার সহপাঠীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। গতকালও টানা পঞ্চম দিনের মতো রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তারা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনে যে ৯ দফা দাবি ছিল নাইম হাসানের মৃত্যুর পর সেই একই দাবি পূরণে মঙ্গলবার (আজ) পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। দাবি না মানলে শিক্ষার্থীরা আজ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভবনে অবস্থান ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেয়।

এর মধ্যে গতকাল দুপুরে রামপুরায় রাইদা পরিবহনের ৪০টি বাস আটক করেছিলেন ইম্পিরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এক সহপাঠীকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ওই বাসগুলো আটক করেছিল তারা। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে বাসমালিকদের সঙ্গে সমঝোতায় বিকেলে বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে বাসে হাফ ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার জেরে রাজধানীর বদরুন্নেসা কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। ঠিকানা পরিবহনের চালক ও তার সহকারীকে আটক করে র‌্যাব।

এদিকে গতকাল রাতে দুর্ঘটনায় নিহত মাঈনুদ্দীনের লাশ সাড়ে ১২টায়ও (রাত) ঘটনাস্থলে ছিল বলে জানায় রামপুরা থানা পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় ঘাতক বাস, বাসের চালক ও তার সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। বাসের চালককে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে আহত করায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে বলে  নিশ্চিত করেছেন রামপুরা থানার এসআই আল আমিন।

এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছে, নিহত মাঈনুদ্দীন ইসলাম স্থানীয় একরামুন্নেসা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। তার বাবার নাম মো. আবদুর রহমান। তারা পূর্ব রামপুরা তিতাস রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন রাত ১টায়  বলেন, ‘আগুনের খবর পাই ১১টা ৮ মিনিটে। খিলগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট গিয়ে রাত ১২টা ৪০ মিনিটে আগুন নেভায়।’

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বলেন, ‘বাসের ভাড়া নিয়ে হেলপারের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল ওই শিক্ষার্থীর। বাসের হেলপার তাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। বাসের নিচে চাপা পড়ে “মা” বলে একটি চিৎকার দেয় ওই শিক্ষার্থী।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আ. আহাদ বলেন, ‘অনাবিল নামের একটি বাস এক পথচারীকে চাপা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। উত্তেজিত জনতা বেশ কয়েকটি বাসে আগুন দেয়। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে আসে। ফায়ার সার্ভিস এসে বাসের আগুন নেভায়। ঘাতক চালককে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রত্যক্ষদর্শী মালিবাগের পাবনা কলোনির বাসিন্দা জীবন চৌধুরী বলেন, ‘বাসের চাপায় ওই শিক্ষার্থীর দেহ একেবারে পিষে যায়। পরে উত্তেজিত জনতা গ্রিন অনাবিলের বাসটিসহ কয়েকটি বাসে আগুন ধরিয়ে দিতে শুরু করে।’

উপপরিদর্শক মো. মারুফ বলেন, ‘রামপুরা কাঁচাবাজারের সামনেই ঘটনাটি ঘটে। অনাবিল বাসের চাপায় একজন নিহত হন। অনেকে বলছে, যে নিহত হয়েছে সে শিক্ষার্থী ছিল। তবে আমরা নিশ্চিত নই। উত্তেজিত জনতা বেশ কয়েকটি বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আগুন নিভিয়েছি।’ -ডেস্ক রিপোর্ট

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here