বায়ুদূষণে শীর্ষে গাজীপুর, দ্বিতীয় ঢাকা

0
130
ছবি-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) দেশে আশঙ্কাজনকহারে বায়ুদূষণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। তারা জানায়, ২০২১ সালে ৬৪ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ দেখা গেছে গাজীপুরে। ওই জেলায় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম ২.৫) বার্ষিক গড়ে প্রতি ঘনমিটারে ছিল ২৬৩.৫১ মাইক্রোগ্রাম।

অপরদিকে, দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা জেলা। যেখানে পিএম ২.৫ বার্ষিক গড়ে ছিল ২৫২.৯৩ মাইক্রোগ্রাম ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। যেখানে বার্ষিক পিএম ২.৫ এর উপস্থিতি ছিল ২২২.৪৫ মাইক্রোগ্রাম।

বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে দেশব্যাপী ৬৪ জেলার বায়ুমান সমীক্ষা ২০২১ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ক্যাপস প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার।

গবেষণার তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, ৪র্থ-১০ম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে হবিগঞ্জ, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম এবং কিশোরগঞ্জ।

সংবাদ সম্মেলনে আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার সর্বমোট ৩ হাজার ১৬৩টি স্থানের গড় অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ১০২.৪১ মাইক্রোগ্রাম, যা দৈনিক আদর্শ মানের (৬৫ মাইক্রোগ্রাম) চেয়ে প্রায় ১.৫৭ গুণ বেশি। উল্লেখিত সবচেয়ে দূষিত তিনটি শহরের বায়ুমান ছিল বাংলাদেশের আদর্শমানের চেয়ে প্রায় ৪-৫ গুণ বেশী।

তিনি বলেন, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কারকাজ, মেগা প্রকল্প, আশেপাশের ইটভাটা, ছোট-বড় কয়েক হাজার শিল্প-কারখানা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং ময়লা-আবর্জনা পোড়ানো—এই প্রধান তিনটি শহর দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে পরিলক্ষিত হয়।

এছাড়াও, গবেষণা ফলাফলে দেখা যায়—উপকূলীয় এলাকার মধ্যে শুধু পটুয়াখালী জেলার বায়ুমান ভালো বায়ুমানের পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, কক্সবাজার, নোয়াখালী এলাকার বায়ুমান অতিমাত্রার দূষণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। অপরদিকে, খুলনা, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরিশাল, শরিয়তপুর, ঝালকাঠি, ভোলা, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ, বরগুনা এবং যশোর জেলা মধ্যম পর্যায়ের দূষণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৪ জেলার মধ্যে ১০টি জেলায় বায়ুমান ভালো, ৩৬টি জেলার বায়ুমান মধ্যম মানের এবং ১৮টি জেলার বায়ুমান অতিরিক্ত দূষিত বলে উল্লেখ করা হয়।

ভালো বায়ুমানের জেলাগুলো—কুড়িগ্রাম, নাটোর, জয়পুরহাট, রাজবাড়ী, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, মেহেরপুর, পটুয়াখালী, এবং মাদারীপুর।

মধ্যম মানের দূষিত বায়ুর জেলাগুলো—যশোর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, শেরপুর, নেত্রকোনা, বরগুনা, খাগড়াছড়ি, সিলেট, গোপালগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, ঠাকুরগাঁও এবং জামালপুর।

অতিরিক্ত দূষিত বায়ুর জেলাগুলো—গাজীপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর, পঞ্চগড়, ফেনী, ঠাকুরগাঁও।

বায়ুদূষণ রোধে ক্যাপস থেকে স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশ দেওয়া হয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—শুষ্ক মৌসুমে দূষিত শহরগুলোতে প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা পর পর পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা; নির্মাণ কাজের সময় নির্মাণ স্থান ঘেরাও দিয়ে রাখা ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সময় ঢেকে নেওয়া; অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা; ব্যক্তিগত গাড়ি ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা; সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রচুর পরিমাণ গাছ লাগানো ও ছাদ বাগান করা; দূষিত শহরগুলোর আশেপাশে জলাধার সংরক্ষণ করাসহ নির্মল বায়ু আইন-২০১৯ বাস্তবায়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও সচেতনতা তৈরির জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী নকি, পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী সারওয়ার ইমতিয়াজ হাশমি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল প্রমুখ। -ডেস্ক রিপোর্ট

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here