বিরোধী দল নির্বাচনে না এলে গ্রহণযোগ্যতা কমে যাবে: সিইসি

0
61
(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বলেছেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়া খুবই প্রয়োজন। যেভাবেই হোক যদি মূল বিরোধী দল নির্বাচনে না আসে, তাহলে নির্বাচন স্বচ্ছ হোক, অস্বচ্ছ হোক, যাই হোক ওটার কিন্তু গুরুত্ব, গ্রহণযোগ্যতা অনেক কমে যাবে। কারণ ডেমোক্রেসির মূল কথাই হচ্ছে পজিশন এবং অপজিশন।
সোমবার (১৩ জুন) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘আমরা উনাদের বলেছি যেই আইন-কানুন আছে, সেটাতে সরকার আমাদের সহযোগিতা করতে বাধ্য। সকল নির্বাচনে আমরা সরকারের কাছে সহায়তা চাইব এবং অবশ্যই সরকার সে সহযোগিতা করবে বলে আশা করি। সহায়তা মূলত পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রশাসনকেন্দ্রিক আর ডিফেন্স মিনিস্ট্রি। অন্য কোনও মিনিস্ট্রি নিয়ে আমাদের মাথা ঘামানোর দরকার নেই। জনপ্রশাসন যেহেতু জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে হেন্ডেল করেন, তারপর পুলিশ প্রশাসনকে হেন্ডেল করেন হোম মিনিস্ট্রি, আর সেনাবাহিনীকে যদি ইনভলব করা হয়, তাহলে ডিফেন্স মিনিস্ট্রি লাগবে।’
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে যেটা দেখি সেটা কিন্তু গভর্নমেন্ট নয়। তারপর জয়ী হয়ে যেটা পার্লামেন্টে আসে দ্যাট ইজ পার্ট অব দি গভর্নমেন্ট, লেজিসলেটার। লেজিসলেটার কিন্তু যারা বিরোধী দলে থাকেন তারা ট্রেজারি বেঞ্চ। তাদের কাজই হচ্ছে সমালোচনা করা। এই সমালোচনার মাধ্যমেই কিন্তু এক ধরনের জবাবদিহিতা গড়ে ওঠে এবং সতর্ক হয়। এজন্য আমরা চাই নির্বাচনটা অংশগ্রহণমূলক হোক।’
সিইসি জানান, ‘উনাদের বলেছি, আপনারাও যারা পলিটিকস করেন না, পলিটিকসের ঊর্ধ্বে একটা অবস্থান আপনাদের আছে। প্রতিদিন যে আক্রমণাত্মক কমেন্টগুলো দিচ্ছে, সেখানে সরিয়ে নিয়ে এসে যদি টেবিলে মুখোমুখি করা যায়, তাহলে আলোচনা হবে গঠনমূলক। টেবিলের বাইরে গিয়ে যদি ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে দেয়, তাহলে কিন্তু দূরত্ব কমবে না। কারণ আমরা চাচ্ছি নির্বাচনে সকল পার্টি অংশগ্রহণ করুক।’
তিনি আরও জানান, ‘এই জন্য যে বলেছি সরকার হিসেবে যখন সরকার থাকবে, আমাদের জানা আছে আইনে আমাদের কী ক্ষমতা আছে, আমরা কিন্তু সে সহায়তা নিতে পারব, সেটা হলো পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। নির্বাচনকে যদি সহিংসতার কারণে বিঘ্নিত হয়ে যায়, আমাদের ক্ষমতা আছে যে কোনও একটি সেন্টার বা নির্বাচনটা বাতিল করে দেব। আমরা সে ব্যাপারে সতর্ক থাকব। বিরূপ পরিবেশ যাতে না হয়, আমরা চাইব নির্বাচনে যাতে ভোটাররা যেতে পারে এবং নির্বিঘ্নে যেন ভোট দিতে পারে, সেই খবরটা আমরা রাখব। আর প্রচণ্ড রকম সহিংসতা যদি হয়ে যায়, তাহলে আমরা ক্ষমতা যেটা রয়েছে, দায়িত্ব রয়েছে আমি বলব সেই সেন্টার বা কনস্টিটোয়েন্সি (আসন) বাতিল করে দিতে পারব।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচনে নমিনেশন নিয়ে কত খরচ হয়, যার ফলে একটা মনস্তাত্ত্বিক একটা বিষয় হয়ে দাঁড়ায় যে জয়ী আমাকে হতেই হবে। যে পয়সা আমি খরচ করেছি, তা তুলে আনতেই হবে। এর ফলে কিন্তু একটা প্রতিহিংসার চরিত্র গড়ে ওঠে। এই জায়গাটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে জানি না। তবে দলগুলোর নেতৃত্বের উপলব্ধি করা উচিত যে নির্বাচনটা যেন বাণিজ্য না হয়। মানে আমাকে বাণিজ্যের জন্য এমপি হতে হবে। নমিনেশনটা এনে যে করেই হোকে নির্বাচনে জিততে হবে, এই মানসিকতা থেকে যদি উনাদের সরিয়ে আনা যায়, তাহলে আমাদের গণতন্ত্র, নির্বাচনি ব্যবস্থাটা বর্তমান অবস্থা থেকে উন্নত অবস্থায় পৌঁছতে পারবে।’
নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় যে সরকার থাকবে সেটাই নির্বাচনকালীন সরকার। অপজিশন থেকে যে দাবিগুলো করা হচ্ছে এগুলো নিয়ে আমাদের কোনও মন্তব্য নেই। এটা সাংবিধানিক বিষয়। পলিটিক্যাল লিডাররা যদি একমত হন তারা দেখবেন। আমার কাছে মনে হয় নির্বাচন কালীন সরকার নিয়ে বর্তমানে যে আইন আছে, সেটাই নির্বাচনকালীন সরকার। তার সঙ্গে আমাদের ইন্টারঅ্যাকশন বেড়ে যাবে। একটা দল থেকে আসলেও তারা কিন্তু তখনও না এখনও নয়। একজন মন্ত্রী কিন্তু দলের নয়। আমরা চাই তারা আমাদের সহযোগিতা করুক।’
এমপিদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেনা কি-না এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ করতে পারব কি-না জানি না। কতগুলো বিষয় আছে উনাকে চিঠি দিয়েছিলাম যেন উনি না থাকে যে যারা ভিভিআইপি তারা পারবেন না। কিন্তু সংসদ নির্বাচন যখন হবে, তখন তো তারা এলাকায় থাকবেন। উনারা সংসদীয় এলাকায় নির্বাচনী এলাকায় থাকবেন। কিন্তু কিছু আচরণ ফলো করতে হবে। এই বিষয়টা তো আপেক্ষিক আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব কি পারব না। সুতরাং আমাদের চেষ্টা থাকবে।’
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘সব দেশেই তো দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হচ্ছে। ভারতেও হচ্ছে, বিলেতেও হচ্ছে, আমেরিকাতে হচ্ছে। সরকার কিন্তু সরকার। দল ভিন্ন জিনিস। আমরা যদি এই বিভাজনটা স্পষ্ট করতে পারি, এই মেসেজটা দিতে পারি, যখন কেবিনেট যেটাকে বলা হয়- রাষ্ট্রপতি থেকে বা প্রধানমন্ত্রী থেকে ডেপুটি.., এটাই কিন্তু মূল সরকার। বাকি যারা আছে সেটা কিন্তু আমলাতন্ত্র। কাজেই যে সরকার যেটা আছে, তারা কিন্তু শপথ নিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করব, সমআচরণ করব, পক্ষপাতিত্ব করব না। উনারা বলেন নাই যে, আমরা আমাদের দলকে আগামীতে আরো বেশি করে হেল্প করব। স্বভাবতই উনারা বলেন না। আমার বিশ্বাস উনারা উনাদের শপথটা জানেন। নির্বাচনের সময় অন্তত একটা সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচনের স্বার্থে উনারা নির্বাচনকালীন সরকারে থেকে সরকারের মতোই আচরণ করবেন। সরকারের মন্ত্রী হিসেবে কোনও দলের মন্ত্রী হিসেবে নয়।’ -অনলাইন ডেস্ক
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here