বিশ্বকাপে নজর থাকবে যাদের দিকে

0
37
(দিনাজপুর২৪.কম) কথায় বলে শেষ ভালো যার সব ভালো তার। শেষটা রাঙাতে পারলে জীবনের সব ব্যর্থতাগুলোও হয়ে ওঠে বর্ণিল, সর্বোপরি রঙে রঙে রঙিন। লাস্ট ফ্রন্টিয়ের কিংবা শেষ রণক্ষেত্রে, বোধকরি মানুষের জীবনের ভিন্ন এক প্রণোদনা। জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের জন্য নিজের শেষ বিন্দু দিয়ে লড়াই করা। এবারের বিশ্বকাপে লাস্ট ফ্রন্টিয়েরের সামনে বিশ্ব ফুটবলের তিন মাতানো নাম লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমার। অনেক অনেক অর্জন তাদের ঝুলিতে। কিন্তু তাদের বিশ্বকাপ অধরা। শেষ রণক্ষেত্রের সাজে ওরা তিনজন।
কাতারে শেষ বিশ্বকাপ খেলবেন লিওনেল মেসি। নিশ্চিত হতে না পারলেও শেষ ধরেই নামবেন নেইমার। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিশ্চুপ এ প্রসঙ্গে। ভবিষ্যতে কী ঘটতে চলেছে তা বলে দেবে সময়। আপাতত এটা সুনিশ্চিত যে কাতারে ২২তম ফুটবল বিশ্বকাপে থাকছেন এই টেক্কা ট্রায়ো। বরাবরের মতো এবারও তিন তারকায় বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বুনেছে তিন দেশ। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের স্বপ্নটা আরও বড় হয়েছে মেসি আর নেইমারের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে। রোনালদো তার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে কঠিন সময়টা পার করলেও সিআর-সেভেনেই আস্থার সবটা পর্তুগালের।

চলতি মৌসুমে পিএসজির স্বপ্নযাত্রায় চোখ বুলালেই স্পষ্ট হয় কতটা ছন্দে আছেন মেসি-নেইমার। লিগ ওয়ানে মৌসুমের অর্ধেকের বেশি ম্যাচ খেলা প্যারিসের ক্লাবটি এখনও অপরাজেয়। লিগ ওয়ানে ১৫ ম্যাচের বিপরীতে এসেছে ১৩ জয়, ড্র করেছে ২টি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে ৬ ম্যাচের ৪টিতে জিতেছে ফরাসি জায়ান্টরা এবং ড্র করেছে অপর ২টি। ১৯ ম্যাচ খেলে মেসি পেয়েছেন একডজন গোল। অ্যাসিস্ট ছিল ১৪টিতে।
এক ম্যাচ বেশি খেলা নেইমার ক্লাব সতীর্থের চেয়ে একটি গোল বেশি করেছেন। অ্যাসিস্টের সংখ্যায় ২ পিছিয়ে। শুধু ক্লাব ফুটবলে নয়, বিশ্বকাপের বছরে জাতীয় দলের জার্সি গায়েও আলো ছড়িয়েছেন মেসি-নেইমার। চলতি বছরে মাত্র ৭ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১১ বার জালের দেখা পেয়েছেন আর্জেন্টাইন খুদেরাজ এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটো গোল। এদিক থেকে অবশ্য মেসির চেয়ে বেশ পিছিয়ে নেইমার। ৫ ম্যাচ করেছেন ৫ গোল এবং অ্যাসিস্ট ২টি।

বছরজুড়ে মাঠ মাতানো পিএসজি-যুগলের এখন আসল পরীক্ষা দেওয়ার পালা। কাতারেই শেষ বিশ্বকাপ- এমন ঘোষণা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে মেসি। বিশ্বমঞ্চে তাদের গ্রুপ প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব, মেক্সিকো এবং পোল্যান্ড। ফিফার মেগা ইভেন্টে অপেক্ষাকৃত কঠিন গ্রুপে পড়লেও ভীত নয় দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মেসি বলে রেখেছেন, ‘আমরা আগ্রহ নিয়েই লড়াই করতে যাচ্ছি। আমরা কাউকে ভয় পাই না, কারণ আমরা যে কারও সঙ্গে খেলতে প্রস্তুত।’
নেইমার আছেন দোটানায়। এটাই শেষ নাকি পরেরবারও দেখা হবে বিশ্বকাপে? এমন প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখনও খুঁজে পাননি ব্রাজিলিয়ান তারকা। এ প্রসঙ্গে ৩০ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড সর্বশেষ বলেছেন, ‘শেষ ধরেই খেলতে নামব, কারণ আগামীকাল কী হবে তা আপনি জানেন না।’ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে লড়তে হবে সার্বিয়া, সুইজারল্যান্ড এবং ক্যামেরুনের সঙ্গে। সর্বোচ্চ পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের হেক্সার মিশনে দলের ভরসার কেন্দ্রে নেইমার।
অপরদিকে বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে বোমা ফাটিয়েছেন রোনালদো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে দুঃস্বপ্নের একটি মৌসুম পার করছেন পর্তুগিজ যুবরাজ। ১৬ ম্যাচ খেলে গোল পেয়েছেন মোটে ৩টি এবং অ্যাসিস্ট ২টি। এর প্রায় অর্ধেক ম্যাচেই ৯০ মিনিট বেশি খেলেননি ৩৭ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড। বিপরীতে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন ক্লাব এবং কোচ এরিক টেন হ্যাগের সঙ্গে। বিশ্বকাপ বিরতির শুরু হতেই দুই পক্ষকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রোনালদো।
সিআর-সেভেনের বক্তব্য ছিল এমন, ‘এরিক টেন হ্যাগের প্রতি আমার শ্রদ্ধা নেই, কারণ সে আমার প্রতি সম্মান দেখায় না। আমি মনে করি ভক্তদের সত্যটা জানা উচিত। আমি ক্লাবের জন্য সেরাটা চাই। এই কারণেই আমি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এসেছি। কিন্তু ক্লাবের ভেতরে এমন কিছু জিনিস রয়েছে, যা ম্যানসিটি, লিভারপুল এবং এমনকি এখন আর্সেনালের মতো পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করে না। মনে হচ্ছে আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি।’
এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পরই পর্তুগালের বিশ্বকাপ দলে যোগ দেন রোনালদো। দলের সঙ্গে অনুশীলনের পর পর্তুগিজ যুবরাজ জানান, সাম্প্রতিক অতীত ভুলে তিনি এখন বিশ্বকাপ নিয়েই ভাবতে চান। বিশ্বমঞ্চে মেসি-নেইমারের মতোই অভাগা রোনালদো। তিনজনের কেউ পাননি শিরোপার স্বাদ। সেই আক্ষেপ ঘোচাতে আরও একবার বিশ্বকাপ খেলতে নামবে তারা তিনজন। -নিউজ ডেস্ক
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here