বৃহৎ ঐক্যের আগে জামায়াত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি

0
70

(দিনাজপুর২৪.কম) চলমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে জারি করা বিধিনিষেধের মধ্যে বৃহৎ ঐক্য বা মঞ্চ গড়তে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এসব বৈঠকের আগে জামায়াতে ইসলামীকে জোটে রাখা না রাখা নিয়ে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করতে চায় বিএনপি। এ ইস্যুতে আজ শুক্রবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সম্প্রতি র‌্যাব ও এর সাবেক-বর্তমান সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছে চিঠি লিখেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভান স্টেফানেক। একই দিনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) পরিচালিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০২১’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা গেছে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং দুর্র্নীতির ঘটনায় চাপে থাকা সরকারকে আরও চাপে ফেলতে চাইছে বিএনপি। দলটি মনে করে, দেশকে এ অবস্থার মুখোমুখি করার জন্য সরকারই সম্পূর্ণ দায়ী। দেশ রক্ষা ও সরকার পতনের দাবিতে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যেই দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ঘরোয়াভাবে নতুন কর্মসূচি নিতে যাচ্ছে বিএনপি। গত সোমবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে জাতীয় ঐক্য ও জামায়াত প্রসঙ্গ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে আজ স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে নতুন কর্মসূচি করার সিদ্ধান্ত হয়। এ কর্মসূচি ঠিক করতে স্থায়ী কমিটির দুই নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা বৈঠক করে কর্মসূচির একটি খসড়া করেছেন।

স্থায়ী কমিটির এর আগের বৈঠকে সরকারের নানা দুর্নীতি, অর্থ পাচারসহ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতের নানা দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন তুলে ধরার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখান উত্তরণ ঘটাতে হলে এ সরকারকে বিদায় করতে হবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে র‌্যাব ও পুলিশে যারা খারাপ লোক আছে তাদের বাছাই করব। যারা ভালো তাদের দিয়ে এ বাহিনী চলবে।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে অনুষ্ঠিত নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। দলটির নেতাদের ভাষ্য, ১৪৪ ধারা জারি করেও জেলা সমাবেশ ঠেকাতে না পেরে সরকার করোনা সংক্রমণ দেখিয়ে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করে। কিন্তু কোনো অবস্থায় দলটি থেমে থাকবে না। এ সময়ে নিরপেক্ষ সরকার দাবিতে চলমান আন্দোলনকে সফল করতে জাতীয় ঐক্য গড়ার কার্যক্রম টেনে নিতে চায় দলটি। বিধিনিষেধের মধ্যেই তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলতে চায়।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, এ অবস্থায় বৃহৎ ঐক্যের প্ল্যাটফরম গড়তে প্রয়োজনে বিএনপি তাদের নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টে পরিবর্তন আনতে পারে। দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, অভিন্ন দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের উদ্দেশ্যে এ ঐক্য গড়ে তুলতে চান তারা।

সূত্র মতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটে জামায়াত থাকায় বাম রাজনৈতিক দলগুলো তাদের আপত্তির কথা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন সময়ে ভারতসহ পশ্চিমা দেশগুলোও নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এ অবস্থায় আফগানিস্তানে তালেবান শাসকদের উত্থানে বিশ্ব রাজনীতির মোড় কোন দিকে যায় সেদিকে তীক্ষè নজর রাখেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। পাশাপাশি জামায়াত বিষয়ে আলোচনা বন্ধ রাখে বিএনপি। এ অবস্থায় গত সোমবার দলের ভার্চুয়াল বৈঠকে জাতীয় ঐক্য গঠন ও জামায়াত প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা ওঠে। সেখানে কয়েক নেতার মতামতের পর আরও আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্র মতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটে জামায়াত থাকায় বাম রাজনৈতিক দলগুলো তাদের আপত্তির কথা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেশীসহ পশ্চিমা দেশগুলো জামায়াত বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এ অবস্থায় আফগানিস্তানে তালেবান শাসকদের উত্থানে বিশ্ব রাজনীতির মোড় কোন দিকে যায় সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখে বিএনপি। পাশাপাশি জামায়াত বিষয়ে আলোচনাও বন্ধ রাখে দলটি। এ অবস্থায় হঠাৎ করে গত সোমবার দলের ভার্চুয়াল বৈঠকে জাতীয় ঐক্য গঠন ও জামায়াত প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা ওঠে। সেখানে কয়েক নেতার মতামতের পর আরও আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়।

দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা জানান, জামায়াতের বর্তমান কর্মকাণ্ডে বিএনপিতে নানা সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত নেতাদের ভূমিকা বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে বিএনপিকে। দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, তাদের কাছে এমনও খবর রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে জামায়াত এককভাবে তিনশ আসনে প্রার্থী দেবে। এ অবস্থায় জামায়াতের একটি অংশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করছে। গুঞ্জন রয়েছে, সব ঠিক থাকলে জামায়াত তার নিবন্ধনও ফিরে পেতে পারে। এ অবস্থায় জামায়াত বিষয়ে কোনো গুঞ্জনই উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

তবে আরেক নেতা বলেন, এ সময়ে জামায়াত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের জন্য বেশ কঠিন। কারণ, জামায়াতকে ছেড়ে দিলে তারা যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে তা হলে আওয়ামী লীগকে কেউ মৌলবাদী সংগঠন বলবে না। তখন হয়তো সবাই বলবে, রণকৌশলের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সখ্য হয়েছে। কিন্তু বিএনপির সঙ্গে থাকলে জামায়াতকে সবাই মৌলবাদী সংগঠন বলবে। আবার জামায়াতকে ছেড়ে দিলেও দলটির বিষয়ে আপত্তি তোলা রাজনৈতিক দলগুলো বিএনপির সঙ্গে জোট বা একই মঞ্চে উঠবে- এমন কোনো নিশ্চয়তাও পাচ্ছেন না নেতারা। বরং কোনো একপর্যায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তি তুলতে পারে কোনো কোনো মহল। চলমান পরিস্থিতিতে দল উভয় সংকটে পড়েছে বলে মনে করেন ওই বিএনপি নেতা।

জানা গেছে, বাম গণতান্ত্রিক জোটের কয়েকটি দল এবং ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকও করেছে। এ বিষয়ে বিএনপির দুজন নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা হয়। দুই নেতাই মনে করেন, নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সরকারবিরোধী সব পক্ষকে এক টেবিলে বসানোর যে ভাবনা নিয়ে তারা এগোচ্ছেন, তা বিদ্যমান জোট কাঠামোতে সম্ভব না-ও হতে পারে। সরকারবিরোধী কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে পরস্পরের প্রতি আস্থাহীনতার মনোভাব থাকায় ২০ দল কিংবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কাঠামোতে পরিবর্তন হতে পারে। তবে বৃহৎ ঐক্যের দলগুলোর মধ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো জোট গঠন না করে যুগপৎ আন্দোলনের কথাই ভাবছেন তারা। -সূত্র : আমাদের সময়

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here