বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম বন্ধ হোক

0
16
এস,এন,আকাশ, সম্পাদক (দিনাজপুর২৪.কম) যেখানে বিশ্বের নামকরা অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় টপ র‌্যাঙ্কিংয়ে রয়েছে, সেখানে আমাদের দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদন নিয়ে নানা রকম অনিয়মে নিমজ্জিত হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের বিপরীতে একে অপরকে দোষারোপ, অধিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও সমন্বয়হীনতা এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কঠিন এক অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যেই টিআইবি রিপোর্টে এ সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকায় এ বিষয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগ আমাদের চোখে পড়ছে না। ইতোমধ্যেই দেশে একটি নামি-দামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হীন কর্মকাণ্ডের দৃশ্য জাতির কাছে দৃশ্যমান হয়েছে। খোঁজ নিলে আরও এমন অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র প্রকাশ পাবে। শিক্ষা নিয়ে এহেন বাণিজ্য, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে মনে করি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি কর্তৃক বারবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনিয়ম বন্ধে সতর্ক করা হলেও এখন পর্যন্ত এর সুফল মিলছে না। ফলে সম্প্রতি কমিশন কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সেগুলোতে পড়াশোনা করতে নিজ নিজ দায়ভার গ্রহণের কথা উল্লেখ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ইতঃপূর্বে যারা এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ৪-৫ বছর সময় ব্যয় করে পড়াশোনা শেষ করে সার্টিফিকেট অর্জন করেছে তাদের অবস্থা কী হবে? বর্তমানে চাকরি বাজারে উক্ত সার্টিফিকেটের স্বীকৃতি না দেওয়ায় ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা নানা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, ইতঃপূর্বে যেসব শিক্ষার্থী ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছে তাদের জীবন থেকে যে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়েছে এর দায়ভার কে নেবে? শিক্ষা নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন অনিয়ম ও অনৈতিকতা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। সমাজে গুটিকয়েক মুখোশধারী বিদ্যানুরাগী ব্যবসায়ীর অনৈতিক অর্থলোভের বাসনা চরিতার্থ করতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও দরিদ্রদের অর্থ নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা কখনই কাম্য হতে পারে না। এ ব্যাপারে সরকারকেই কঠোর হতে হবে।
পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, অবৈধ ক্যাম্পাস বাতিল এবং সাধ্যের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অনুরূপভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত সার্টিফিকেটধারীদের স্বীকৃতি ঢালাওভাবে বন্ধ না করে তাদের প্রতিযোগিতামূলক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং মেধার যথাযথ যাচাই নিশ্চিত করতে অন্তত নিয়োগ পরীক্ষায় সুযোগ করে দিতে হবে। এতে যারা সত্যিকারের মেধাবী তারা অন্তত মেধা যাচাইয়ের সুযোগ পাবে এবং যোগ্যতা প্রমাণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান করে নিতে পারবে। এতে উক্ত বিপর্যয়ের হাত থেকে তারা কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে এবং অভিভাবকদের দুর্গতি ও দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। সংশ্লিষ্টদের উক্ত বিষয়গুলো ভেবে দেখা জরুরি বলে মনে করি।
যদিও এখনও বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা না করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নামমাত্র বাড়ি ভাড়া নিয়ে অবৈধ শাখা খুলে আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে শিক্ষার নামে ট্যাক্সবিহীন রমরমা বাণিজ্য পরিচালনা করছে। ছোটবেলায় স্কুল ও কলেজপড়ুয়া বড় ভাইদের কাছে শুনেছি, ‘ছাত্রজীবন মজার জীবন, যদি না থাকে পরীক্ষা’। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হালচাল এবং সার্টিফিকেট বিক্রি বাণিজ্য দেখে উক্ত কথাটি এখন অধিক মনে পড়ছে। ফলে এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে প্রতারিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকরা হচ্ছে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বল্পতার সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। যদিও কথাটি সত্য, এসব বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে চলমান মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবং শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র এবং আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয়হীনতার কারণে এসব অবৈধ ক্যাম্পাস এখনও বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিবহির্ভূত কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে না, যা এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে দারুণ এক হতাশার মধ্যে নিমজ্জিত করছে। জিপিএ-৫ পাওয়া অনেক শিক্ষার্থী বলতে পারে না জিপিএর পূর্ণ অর্থ কী, যা দুঃখজনক? সম্মিলিতভাবে উক্ত সমস্যা সমাধানের বিপরীতে একে অপরকে দোষারোপের যে হীন কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা এদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে না জানি কোন দিকে নিয়ে যায়। বিশেষ করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এখনও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অর্জিত না হওয়ায় শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে এসব বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দরিদ্র ও সাধারণ মেধাবী শিক্ষার্থীরা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত। বিশেষ করে যারা সত্যিকারের জ্ঞানার্জন এবং মেধার মাধ্যমে ডিগ্রি ও সনদ অর্জন করতে চায় তারা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই যত দ্রুত সম্ভব উক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের উচিত এসব বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে চলমান সমস্যার সুষ্ঠু ও যুক্তিসঙ্গত সমাধান। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানে উন্নীত এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব সমন্বয় সাধন ও একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও গুণগতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর ভূমিকা পালনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের শিক্ষাবাণিজ্য বন্ধে সদিচ্ছা আগে জরুরি।
যদিও কথাটি সত্য, সাটিফিকেট বাণিজ্যের কারণে একশ্রেণির উচ্চবিত্ত পরিবারের অপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অর্থ দিয়ে এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে তাদের নামের শেষে ডিগ্রি ও বিশেষণ লাগিয়ে অথবা বিদেশে যাওয়ার পথ সুগম করলেও যারা সত্যিকারের জ্ঞানার্জনের ব্রত নিয়ে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে এ দেশেই কিছু করে খাওয়ার চেষ্টা করছে তারা হচ্ছে বিপর্যস্ত। এসব প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এমন নীতিবহির্ভূত অনৈতিক কার্যকলাপ ও অর্থলাভের খেসারত এখন সব শিক্ষার্থীকে বহন করতে হচ্ছে। কিন্তু কী দোষ তাদের? শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষাদানের বিপরীতে এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যারা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তাদের শাস্তি কী? সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। তাদেরকে আইনের আওতায় এতে এই ধরনের হীন কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে চলমান বিশৃঙ্খল ও হতাশা নির্মূলে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে। যেকোনো মূল্যে শিক্ষাবাণিজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্টদের দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে তদবিরের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না মর্মে সুনির্দিষ্ট ও সুষ্ঠু নীতিমালা তৈরি করতে শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রীর উক্ত নির্দেশনা অতিদ্রুত বাস্তবায়ন হবে, এমনটিই প্রত্যাশা করি।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিজেদের দায় এড়াতে পুরনো শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় দফায় ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ হতে বঞ্চিত করা বা ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা মোটেও সমীচীন নয়। কেননা শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট ও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার অধিকার জনগণের অর্থে পরিচালিত এসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের থাকতে পারে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা গ্রহণে নিজেদের পদ্ধতিগত ত্রুটি ও জালিয়াতির দায়ভার শিক্ষার্থীরা বহন করতে পারে না। এক্ষেত্রে এইসব পরীক্ষা যারা পরিচালনা করেন, যারা প্রশ্ন প্রণয়ন করে তাদেরকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। মূলত সবাইকেই ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। উচ্চশিক্ষার স্তরগুলোতে ভর্তির জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ের ফলাফল অর্থাৎ জিপিএ-৫ প্রাপ্তির বিবেচনা না করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ভিত্তিতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কেননা জিপিএ-৫ না পাওয়া এমনও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আছে, যারা মেধার গুণগত মানে জিপিএ-৫ পাওয়াদের চেয়েও কোনো অংশে কম নয়, তাদেরকেও উক্ত সুযোগ প্রদান করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় তারাও যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে সেই ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। সবার জন্য শিক্ষা উক্ত স্লোগানটি বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। একই শিক্ষার্থী কর্তৃক দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বছর ভর্তির সুযোগ গ্রহণ এবং প্রাপ্য বিষয় অনুযায়ী একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য বিষয়ে অথবা এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাতিল করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা রুখতে সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষাগুলো একই প্রশ্নপত্রে এবং একই দিনে হওয়া বাঞ্ছনীয় (মেডিকেল পরীক্ষার মতো)। অনুরূপভাবে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বিরত রাখতে এবং তাদেরকে নিরুৎসাহিত করতে বিশেষ আইন ও পদ্ধতি প্রণয়ন করাও জরুরি। এক্ষেত্রে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মূল সনদ ভর্তির সময় জমা রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে অর্থাৎ মূল সনদ জমা ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এজন্য জনবল নিয়োগ করে হলেও বোর্ড কর্তৃক অতি দ্রুততার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝে মূল সনদ প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এতে হয়তো ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয়বারে ভর্তি হওয়ার প্রবণতা কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করি।
ইতোমধ্যেই নামকরা অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তিবাণিজ্য বন্ধে লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু সেসব প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য ডাকা হচ্ছে। ফলে জিপিএ-৫-এর নিচে যাদের নম্বর তারা ওইসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ পর্যায়ে আপাতদৃষ্টিতে হয়তো ভর্তিবাণিজ্য থাকবে না। কিন্তু সেসব প্রতিষ্ঠানে আসনসংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ভর্তি হতে পারছে না। অর্থাৎ উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তিবাণিজ্য কমলেও ভর্তির সুযোগ আগের মতো সীমিতই থেকে যাচ্ছে। উক্ত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় সাধন করে বিরাজমান সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সরকারকেই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ও শিক্ষাবাণিজ্য রোধে অধিক সচেষ্ট হতে হবে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন অযোগ্য, অনভিজ্ঞ ও নামমাত্র শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও শিক্ষার নামে হীন বাণিজ্য বা অন্য কোনো পন্থায় যেন অনৈতিক অধিক অর্থ গ্রহণ করতে না পারে, সেদিকে ইউজিসি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অধিক মনিটরিংসহ কঠোর নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও এ ব্যাপারে আরও অধিক সচেতন হতে হবে। অনৈতিক যেকোনো অর্থ প্রদানের বিরুদ্ধে তাদেরকে সোচ্চার হতে হবে। প্রয়োজনে মিডিয়ার সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানের উক্ত জালিয়াতি ও অনৈতিকতা দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।
শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সদা সচেষ্ট থাকতে হবে। সরকারকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনের ক্ষেত্রে দলীয় ও স্বজনপ্রীতি পরিহার করতে হবে। শিক্ষায় বিনিয়োগ ও বাজেট বাড়াতে হবে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুণগত মান বিবেচনায় টক ব্যাংকিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠান মালিকদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দেশে একটি আদর্শ ও মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সদিচ্ছা জাগ্রত করতে হবে। তবেই সরকারের এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সার্থকতা পাবে। যদিও বর্তমান সরকারের শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে সবার সদিচ্ছা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজমান ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব পাবে। কেননা একটি জাতির শেষ ভরসাস্থল হচ্ছে এই শিক্ষা। আমরা যদি দেশে এখনও শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে না পারি, সবার সাধ্যের মধ্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারি, তবে জাতি হিসেবে আমাদের পরিণতি হবে অনেক ভয়াবহ। তাই দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং আদর্শিক মূল্যবোধ সম্পন্ন আলোকিত মানুষ তৈরিতে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ খাতের যত প্রকার প্রতিবন্ধকতা আছে দোষারোপ ভুলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা দূর করতে হবে।
এক্ষেত্রে অবশ্যই শিক্ষাঙ্গনগুলোকে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও দলীয় চাপ থেকে মুক্ত করতে হবে; শিক্ষার্থীদের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়াতে হবে; শিক্ষক, কর্মকতা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর মান উন্নয়ন করতে হবে; শহর ও গ্রামের শিক্ষা খাতের বৈষম্য দূর করতে হবে; সর্বোপরি সাধ্যের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, শিক্ষা দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য, বাণিজ্যের জন্য নয়। এই নীতি অনুযায়ী শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে। দেশে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন, জাতি এমনটিই প্রত্যাশা করে। -ডেস্ক রিপোর্ট
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here