‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ : সম্মাননার খবর জানাতে সাড়ে ৩ বছর পার!

0
49

(দিনাজপুর২৪.কম) গণতন্ত্রের প্রতি অবদানের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ সম্মাননা দিয়েছে কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (সিএইচআরআইও) নামের একটি সংগঠন।

২০১৮ সালের ৩১ জুলাই এ সম্মাননা দেওয়া হয়। এর সাড়ে তিন বছর পর গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করল। সম্মাননা যখন দেওয়া হয় তখন খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন। গতকাল সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার বাসায় গিয়ে তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ক্রেস্ট ও সনদপত্র সাংবাদিকদের দেখান। তিনি জানান, ‘ঢাকার কানাডিয়ান হাইকমিশনও এটাকে অনুমোদন (এনডোর্স) করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকার কানাডিয়ান হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

রাতে বিএনপির পক্ষ থেকেও ঢাকার কানাডিয়ান হাইকমিশন সিএইচআরআইও-কে যে চিঠি দিয়েছিল তার একটি অনুলিপি (কপি) গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। চিঠিতে দেখা যায়, ২০২০ সালের ৫ আগস্ট সংগঠনটি ঢাকার কানাডিয়ান হাইকমিশনকে চিঠি দিয়ে খালেদা জিয়াকে পুরস্কৃত করার বিষয়টি জানায়। জবাবে হাইকমিশনার জানান, তাদের অনুরোধ অনুযায়ী সম্মাননাপত্রটি করোনা মহামারির কারণে এ মুহূর্তে হস্তান্তর করা সম্ভব নয়। তিন মাস পর ৪ নভেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত তখনকার হাইকমিশনার বেনোইট প্রিফন্টেইন এই জবাব দেন। তাতে গণতন্ত্র,  মানবাধিকারের প্রতি কানাডা সরকারের অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করা হয়। বলা হয়, হাইকমিশন এসব বিষয়ে বাংলাদেশ (সিএইচআরআইও) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অলাভজনক সংগঠ হিসেবে এর যাত্রা শুরু ২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর। আইন, সমাজকর্ম, সমাজতত্ত্ব, মনোবিজ্ঞান, অপরাধবিজ্ঞান ও মানবাধিকার খাতের পেশাজীবীরা সংগঠনটি গড়ে তুলেছেন বলে তাঁদের ওয়েবসাইটে বলা হয়। মানবাধিকার সুরক্ষা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সহায়তা করা সংগঠনটির লক্ষ্য বলে ওয়েবসাইটে বলা হয়। এর প্রধান দপ্তর কানাডার অন্টারিওর টরন্টোতে। কানাডার বাইরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এর শাখা আছে।

সংগঠনটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এর এশিয়া মিশনের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মমিনুল হক এবং বাংলাদেশ মিশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা বেগম। দুজনই বাংলাদেশি।

মোহাম্মদ মমিনুল হকের জন্ম ঢাকায়। তিনি এখন কানাডার টরন্টোতে থাকেন। সিএইচআরআইওর তথ্য অনুযায়ী, পেশায় ব্যাংকার মোহাম্মদ মমিনুল হক ১৯৮৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রথম বিভাগের হ্যান্ডবল খেলোয়াড়, ষষ্ঠ সাফ গেমসের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা ছিলেন। তবে ওই সময়ের হ্যান্ডবল খেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে গতকাল রাতে যোগাযোগ করে মমিনুল হকের বিষয়ে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।

মোহাম্মদ মমিনুল হক ২০১৩ সালে কানাডা পিস অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স নামের আরেকটি মানবাধিকার সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ওই সংগঠনটির প্রকাশিত প্রায় সব বিবৃতি বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে। ২০১৭ সালের ৫ জুলাই প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল মমিনুল হকের এই সংগঠন।

বাংলাদেশ মিশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা বেগম সম্পর্কে সিএইচআরআইওর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ। তিনি স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন বাঁধনের সঙ্গে যুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল : গতকাল মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই, কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গাইনাইজেশন (সিএইচআরআইও) গণতন্ত্রের প্রতি অসামান্য অবদানের জন্য দেশনেত্রীকে মাদার অব ডেমোক্রেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। খালেদা জিয়া এখনো গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য কারাবরণ করছেন, অসুস্থাবস্থায় গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটি এই সম্মান দিয়েছে।

‘ডেমোক্রেসি হিরো’ ক্যাটাগরিতে খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ পুরস্কার দেওয়া হয় বলে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদের উল্লেখ আছে।

২০১৮ সালে এ সম্মাননা দেওয়া হলেও বিএনপি কেন এত দিন পর তা প্রকাশ করল জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সম্মাননা যখন দেওয়া হয় তখন ম্যাডাম জেলে ছিলেন। তারপর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন কয়েকবার। এখন উনি বাসায় এসেছেন। আমরা তাঁকে এই সম্মাননার কথা জানিয়েছি। আপনাদেরও জানলাম।

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভায় তাঁর উপস্থিতিতে তাঁকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ উপাধি দিয়েছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এরপর ২০১৮ সালের ১০ মার্চ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সমাবেশে খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ বলে সম্বোধন করেন। অনলাইন ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here