মুক্তিযুদ্ধে আমার কথা…….

0
47

বীর মুক্তিযোদ্ধা এস,এম,এ খালেক (দিনাজপুর২৪.কম) আমার ও আমাদের সকল মুক্তিযোদ্ধাগণের অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রামী সভপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, গণ মানুষের মুক্তির কান্ডারী হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা গণতন্ত্রের স্পপ্নœদ্রষ্টা শেখ হাসিনা। আমি কৃষক সমিতি করতাম বিধায় একজন কর্মী হিসেবে প্রথম দিকে আপনার সাথে তেমন কোনো সাক্ষাত ঘটেনি। স্বাধীনতার পরে একদিন পঙ্কজ ভট্টাচার্যসহ তোপখানা ন্যাপ অফিসে আপনার সাথে এক সভাতে উপস্থিত ছিলাম। বিশেষ কোনো আলোচনা ও হয়নি। এছাড়াও মাঠে ময়দানে জনসভায় ঢাকা থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় আপনার বক্তৃতা শুনেছি। দিনজপুর সার্কিট হাউজে আওয়ামী লীগের সকল স্তুরের নেতাকর্মীদের মাঝেঁ আমিও ছিলাম। বক্তব্য শুনেছি খানা দানাও করেছি। একান্তে শুধু কথা থেকে গেছে কথা বলা হয়নি। আপনার নিকট একটি চিঠি দিয়েছিলাম। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষিত অর্থনীতির মুক্তির রণ কৌশল নিয়ে লেখা।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ ময়দানের বিশাল জনসমাবেশে। তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সর্বদলীয় প্রেসিডেন্ট কেন্ডি হিসেবে ফাতেমা জিন্নাহ মনোনীত হয়েছিলেন আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে। এই রণ সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু জাতির জনকের ভূমিকা আমি আজীবন মনে রেখেছি। যেখানে যেখানে দরকার সেখানে বলেছি, যেখানে লেখার প্রয়োজন সেখানে লেখেছি।
১৯৬৫ সালে সার্কিট হাউজের সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিলাম একজন বয়েজ স্কাউট হিসেবে। সেই সময় আমি জামালপুর হাই স্কুলের ছাত্র। আমি তখন জামালপুর হাই স্কুলের ছাত্র এবং বয়েজ স্কাউট সদস্যদের মধ্যে একজন। ১৯৬৪ সালে মৌচাক স্কাউট জাম্বুরীতে অংশগ্রণ করি। গজারি (শালগাছ) গাছ কেটে স্কাউল জাম্বুরীর জন্য মাঠে সাজাই, মেরামত করি। স্কাউট জাম্বুরিতে বিশেষ অবদান রাখি। স্কাউটদের সেবা দায়ের করা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আমি সেই বিষয়ে প্রশিক্ষিত হই। তাই ১৯৬৫ সাল ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজের বিশাল জনসমাবেশে আমরা যারা ময়মনসিংহ জেলার ৫টি মহকুমার স্কাউট তারা প্রায় সকলেই ঐ সমাবেশে জগ হাতে গ্লাস হাতে নিয়ে জনগণের মাঝে তৃষ্ণার্থদের পানি খাওয়াই। শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করি। প্রচুর রোদ গরমে, দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর ধাক্কা-ধাক্কির কারণে শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয় এক সময় বঙ্গবন্ধু ফাতেমা জিন্নাহকে সাথে নিয়ে সভা মঞ্চের দিকে এগিয়ে চলেন। আমরা হাতে হাত ধরে শৃঙ্খলা বজায় রাখি।
তার মধ্যে ঠেলাঠেলিতে আমার হাতের কুনি ফাতেমা জিন্নাহর পেটের ভেতরে লেগে যায়। বঙ্গবন্ধু আমার হাত ধরে এবং বলেন “তুই বয়েজ স্কাউট, ভয় পাইস না, আমি তো আছি”। এই কথা আমার হৃদয়ে গেঁথে রেখেছি। বঙ্গবন্ধু ভাষণ সেদিন আমি শুনেছি প্রথম। বহু পার্টির বহু নেতা যেদিন বক্তৃতা দিয়েছেন। আমি ১৯৬৬ সালে আমার বড় ভাইয়ের সাথে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসি। দিনাজপুরে প্রথম দিকে পার্বতীপুর থানার ১১নং হরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব রসুলপুর গ্রামে ধর্ম বাবা-মায়ের বাড়িতে অবস্থান করতে থাকি। তৎকালীন গ্রামগঞ্জে লেখাপড়া বলতে তেমন ছিল না। খুবই নাজুক অবস্থা ছিল।
ঐ গ্রামে আমি একটি স্কুল করি এবং ঐ স্কুলে শিক্ষক ছিলাম ছোট ছোট ছেলে মেয়েরদেরকে সকাল বেলা পড়াই, সন্ধ্যার সময় ঐ স্কুলে কৃষকদের পড়াই। আমি বাবার স্যার, ছেলেমেয়েদের স্যার। যুবসমাজকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিকশিত করার জন্য ঐ গ্রামে একটি ক্লাব করি। ক্লাবের নাম “জাগরণী ক্লাব”। গান, বাজনা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে নিগোর পল্লীতে বিপ্লব গঠনের জন্য আমি দায়িত্ব পালন করি।
দিনাজপুর জেলার প্রখ্যাত কৃষক নেতা গুরুদাস তালুকদার, ১৯৪৬ সালে সর্ব ভারতীয় নির্বাচনে এমএলএ হয়েছিলেন প্রখ্যাত কৃষক নেতা রূপ নারায়ন রায় ও প্রখ্যাত কৃষক নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশ কৃষক সমিতির করতেন। আমি তাদের সাথে কৃষক সমিতির কর্মী হই। কৃষক সংগঠন দাড় করানোর জন্য পূর্ব রসুলপুর জাগরণী ক্লাবকে ভিত্তি করে কাজ করি।
দিনাজপুরে আমি কৃষক সমিতি করি। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আমি এবং আমাদের দিনাজপুর কৃষক সমিতির নেত্রীবৃন্দ সৌহরার্দী উদ্যানে উপস্থিত ছিলাম।

সেদিন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন-
“এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”।
-জয় বাংলা
এই শ্লোগানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আমাদের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সেদিন থেকেই এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ শুরু করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা, বঙ্গবন্ধু যেমন স্বপ্ন দেখিয়েছেন, আপনিও আমাদের স্বপন দেখিয়েছেন। এবং কাজ করে চলেছেন। আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি একজন নির্ভিক সৈনিক।
আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা এস,এম,এ, খালেক, পিতা-মৃত: হেলাল উদ্দিন আহম্মেদ, সাং- উত্তর সুজালপুর, বীরগঞ্জ পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ড, ডাকঘর-বীরগঞ্জ, উপজেলা-বীরগঞ্জ, জেলা-দিনাজপুর এর বাসিন্দা। আমি ১৯৭১ সালে পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের পুর্ব রসুল পুর গ্রামে আমার ধর্ম বাবার বাড়ীতে বসবাস করছিলাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৯৭ সালে ৭ই মার্চ জাতিকে উদ্বোদ্ধ, ঐকব্যবদ্ধ ও সংগ্রামের চেতনায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার ঐহিসাকি যে ভাষণ দেন তখন থেকেই আমরা দেশবাসীরা আরো বেশি করে সজাক হয়ে যাই এবং ঐক্যবদ্ধ ভাবে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার জন্য নানাভাবে তৎপরতা শুরু করি। আমি ও সাহাদৎ হোসেন পার্বতীপুরের নিকটে তার বোনের বাড়ীতে গিয়ে পার্বতীপুরের অবস্থা বুঝার জন্য ও জানার জন্য চেষ্টা করি। দুপুরের পরে আমরা পূর্ব রসুলপুর গ্রামের দিকে রওনা দেই। কিছুক্ষণ পরেই দেখি একদল অস্ত্রধারী ব্যক্তিগণ পার্বতীপুর থেকে গ্রামের দিকে রওনা দিয়েছে। আমরা দু’জনই ভয় পেয়ে গেলাম এবং সামনের কান্দরের মাঝখানে ২/৩ জন কৃষক ক্ষেতে কাজ করছে আমরা দু’জন তখন আত্মরক্ষার জন্য আমরাও তাদের কাজ করতে বসলাম। আমাদেরকে তারা দেখল এবং সাধারণ মানুষ ভেবে তারা অন্যদিকে চলে গেল। আমরা বাড়ীতে এসে রাতে গ্রামের প্রায় সকল যুবককেই একত্রিত করে ঘটনা বললাম এবং উপায় খুঁজে বের করলাম। আমরা এ গ্রাম এবং অন্যান্য গ্রামের যুবকদেরকে সংঘটিত করে ভারতে চলে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হলো। ১০/১৫ দিনের মধ্যেই পার্বতীপুর, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ফুলবাড়ী উপজেলার ১০/১২ গ্রামের যুবক সম্প্রদায় একটি নির্দিষ্ট তারিখে ভারতে চলে যাব এই সিদ্ধান্ত হলো। আমরা ভারতে রওনা দিলাম ১৫-০৯-১৯৭১ আমবাড়ী হাটের দিনে। চায়ের দোকানে সাময়িকবাবে বসে অপেক্ষা করতে থাকলাম এবং বড় রাস্তা পাড় হওয়ার জন্য সুযোগ খুজতে থাকলাম। এক পর্যায় বিকালে বড় হাই পাকা রাস্তা পার হয়ে ভাতের দিকে ক্ষেতের আইল ধরে রওনা দিলাম। সন্ধার দিকে আমরা ভারতে পৌঁছে গেলাম। আমরা কাটলা যুব অভ্যর্থনা প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, বালুরঘাট, ভারত সেখানে পৌছে গেলাম।
বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক পরিচালনা ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠন সংক্রান্ত দলিল “কাটলা যুব অভ্যর্থনা প্রশিক্ষণ ক্যাম্প” বালুরঘাট, ভারত ১৯৭১ সন মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা (১নং হতে ৪২৪৪৮নং পর্যন্ত) আমার নামের তালিকা ৩৭৩৪।
আমরা সবাই কাটলা ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের নির্দেশে লাইন করে দাঁড়ালাম। কর্তৃপক্ষ আমাদের নামের তালিকা করে খাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। পরের দিন সকালে আমাদের লংমার্চ প্যারেট পিটি করে নাস্তা খাইলাম এবং অন্যান্য কাজগুলি করতে থাকলাম। এইভাবে আমাদের বেশ কিছু দিন অতিবাহিত হলো। এক পর্য্যায় অধ্যাপক ইউসুফ আলী ও ক্যাপ্টেন আব্দুল মুনসুর ক্যাম্প পরিদর্শনে আসলেন আমরা সবাই উচ্চ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার জন্য আবেদন করলাম। উনারা কিছুদিনের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে প্রশিক্ষণের কথা বলেন। কিন্তু উনারা চলে যাওয়ার পরেও আমরা কাটলা ক্যাম্পেই রয়ে গেলাম।
ডাঙ্গার হাট বাজারে কাজী লুৎফর রহমান চৌধুরী দিনাজপুর জেলা ন্যাপ এর সেই সময়ে দপ্তর সম্পাদক ও আব্দুস সাত্তার ঋষি দিনাজপুর জেলার ন্যাপের কার্যকরি কমিটির সদস্য। উনাদের সাথে আমার দেখা হয়, উনারা আমাকে বলেন আমি কোথায় আছি এবং কিভাবে আছি। আমি কাটলা যুব অভ্যর্থনা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে আছি এ কথা বলি। উনারা দু’জনেই তখন বললেন আগামীকাল সকালে ভারতের গঙ্গরামপুরে পাটন নামক স্থানে ন্যাপ, কমিউনিষ্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়ন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প খুলেছে। আগামীকাল উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য সেখান থেকে অনেক যুবক যাবে। আপনি যদি যেতে চান তাহলে আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে আসবেন এখানে। একটি ট্রাক দাঁড়ানো থাকবে এখানে, আমরা ইশারা দিলেই ট্রাকে উঠবেন। আমি পরের দিন সকাল ০৯ টায় সেখানে আসলাম এবং ট্রাক দেখতে পেলাম, কিছুক্ষণ পরে আমাকে ইশারা দেওয়া হলো এবং ট্রাকে উঠে পড়লাম। ট্রাক আমাদেরকে গঙ্গরামপুর সিনামা হলের সামনে দাড় করে দিল। আমরা সবাই ট্রাক থেকে নেমে পড়লাম, দেখলাম সেখানে সিপিআই রাজনৈতিক দলের অফিস। আমরা সবাই সিপিআই অফিসে প্রবেশ করে আমরা বসলাম। আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে আমরা সাথে একটি চিরকুট ছিল তাহা উনাদের হাতে দিলাম। তারা ঠিক আছে বললেন বলে তারা আবার অন্য আরেকটি ট্রাকে উঠালেন এবং একজন আমাদের সাথে উঠল। ট্রাক রওনা দিল, ৩/৪ কিলোমিটার দূরে গিয়ে নামিয়ে দিল উহা পাটন ক্যাম্প। নেমে দেখি একটু দূরে দিনাজপুরের প্রখ্যাত কৃষক নেতা গুরুদাস তালুকদার দাঁড়িয়ে আছেন। উনার সাথে ছিলেন ন্যাপ নেতা রংপুরের আব্দুল বারী ভাই, দিনাজপুরের মকবুল আহমেদ হেনা ভাই, পার্বতীপুরের রেজাউল করিম, ফুলবাড়ীর রূপ নারায়ন রায় এবং আরো অনেকে। গুরুদাস তালুকদার আমাদেরকে বললেন তোমরা কিছু খেয়েছ, না খেলে পান্তাভাত খাও। আমরা সকলেই পান্তাভাত খেয়ে নিলাম। কৃষক নোত গুরুদাস তালুকদার আমাদের সামনের ট্রাকে উঠতে বললেন। আমরা ট্রামে উঠলাম এবং হেনার ভাইয়ের নেতৃত্বে তিনটি ট্রাক একসাথে রওনা দিল। আমরা সবাই বেশ সময় ধরে ট্রাকে থাকলাম, পরে ট্্রাক থেকে নেমে পড়লাম। ইহা একটি রেল স্ট্রেশন কালিয়াগঞ্জ। আমরা হেনা ভাইয়ের নির্দেশ মোতাবেক বেশ কিছুক্ষণ পরে একটি রেল গাড়ী আসলে আমরা সকলেই রেলগাড়ীতে উঠে পড়লাম। রেলগাজী রওনা দিল, রাতে বার্শই রেল স্ট্রেশন (জংশন) সেখানে নেমে পড়লাম। বেশ সময় ধরে সেখানে অপেক্ষে করতে থাকলাম, কিছুক্ষণের মধ্যে আবার রেলগাড়ী আসল আমরা সেটাতে উঠে পড়লাম। ভোর বেলায় জলাইকুড়ি রেল স্ট্রেশনে সকলেই সেমে পড়লাম। প্লাটফর্মে লাইন করে দাঁড়িয়ে বসে পড়লাম। আমাদের চা, পা রুটি, ডিম খেতে দিল। আমরা তা খেয়ে নিলাম। আমাদের নাম তালিকাবদ্ধ করা হলো, যারা তালিকা করলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তৎকালীন রেলশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সামছুছদোহা এবং ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম মুকুল তারা আমাদের ভারতীয় সামরিক খোলা ট্রাকে উঠিয়ে দিলেন। ট্রাক চলতে থাকল, সমতল বন পাহাড়ে উপরে এদিক সেদিক করে বিভিন্ন বনের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ে আমাদের কাছে মনে হলো হঠাৎ দুই দিকের কামান ফিট করা। বিকালে আমাদেরকে পাড়ারের একটি ছোট শহর মিলটন পাড় হয়ে পাহাড়িয়া ঝর্ণার নদীর পাড়ে নামিয়ে দিল। আমরা নেমে পড়লাম। নেমে দেখি অনেক বড় সাইবোর্ড লেখা “মুজিব ক্যাম্প”। আমরা নামার পরে লাইন করানো হলো, আমাদেরকে সেকশন এবং প্লাটন ভাগ করা হলো। খাওয়ার থাল, বাটি, শোয়ার জন্য বিছানাপত্র এবং কাপড় চপড় দেওয়া হলো। আমাদের দেখিয়ে দেয়া হলো বিভিন্ন তাবুতে থাকার জন্য এবং সব কিছু তাবুতে রেখে খেয়ে শুয়ে পড়লাম।
প্রায় একমাত্র আমরা থ্রি নট থ্রি রাইফেল, স্ট্যানগান, এসেলার, মার্কফোর রাইফেল, এলএমজি,টুইজমটার, গ্রেনেড, হাইএক্সপ্রোসিভ এর বিভিন্ন কৌশল প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। সেখানে আমি সেকশন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করি। আমাদের প্লাটন কমান্ডার ছিলেন নওশাদ। আমরা একদিন ট্রাকে উঠে রওনা দেই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করার জন্য, আমরা ডিমলা থানায় বোর্ডারে ট্রাক থেকে নেমে বাংলাদেশের ভিতরে প্রবেশ করার প্রস্তুতি নিতে থাকি।
ক্যাম্পটেন আরপিশিং এর নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশের রাস্তা দিয়ে ডিমলা থানার দিকে প্রবেশ করতি থাকি। আমাদেরকে সংঘটিত করে ক্যাম্টেন আরপিশিং ঘোষণা দেন যে, তিনি চলে যাবেন। তার পরিবর্তে আমাদের নেতৃত্বে আসবেন ক্যাপ্টেন ইকবাল। কিছুক্ষণ পরে একটি জীবন করে ক্যাপ্টেন ইকবাল আসলেন, আমাদের সাথে দুই ক্যাপ্টেন মিলে আমাদের সাথে আলাপ করলেন এবং ক্যাপ্টেন আরপিশিং চলে গেলেন। আমরা বেশ কয়েকদিন ডিমলা থানাতেই থাকলাম। ডোমার এবং ডিমলার থানার মাঝে যে নদী সেখানে যুদ্ধ হলো দু’দিন আমরা যুদ্ধে ছিলাম।
আমরা ডিমলা থানা থেকে জলঢাকা থানার দিকে রওনা দিলাম। কালিয়াগঞ্জ ব্রীজে সংঘর্ষ হয়। সেখানে আমি ছিলাম। আমি তখন প্লাটন কমান্ডার। আমরা রেখি করে আঁকা-বাাঁকা পথে জলঢাকা থানায় প্রবেশ করি। আমরা জলঢাকা হাইস্কুলে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করি। আমরা একদিন পরে জলঢাকা হাই স্কুল মাঠে বিকালে জনসমাবেশ করি জনমত সংঘঠিত করার জন্য। জনসভায় বক্তৃতা দেন আমিন বিএসসি এমএনএ, আব্দুর রউফ এমপিএ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম। আমরা দুইদিন সেখানে থেকে আমরা নীলফামারীর শহরের দিকে রওনা দেই। মীরগঞ্জ হয়ে আমরা নীলফামারীতে যাই। আমরা নীলফামারী নটখানায় আমাদের থাকার ব্যবস্থা করি। নটথানায় ক্যাপ্টেন ইকবাল আমাদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা এবং কাজ দেন সে মোতাবেক আমরা সেগুলি করি।
নীলফামারীর থানাগুলিতে ১০জন করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে তালিকা করে পাঠানো হয়। আমাদের সাথে ইপিআর আব্দুল খালেক কোয়াটার মাষ্টারের দায়িত্ব পালন করেন এবং আমরা কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা অফিসিয়াল কাজে নিয়োজিত হই। সেই মোতাবেক আমাদের কাজ চলতে থাকে। সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্লিপ দিয়ে তাদের দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্র জমা নেওয়া হয় এবং সকল মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ছুটি দেওয়া হয় তারা চলে যান। কোয়াটার মাষ্টার আব্দুল খালেক তিনি নিজেও চলে যান। তার অবর্তমানে আমি দায়িত্বভার গ্রহণ করি ও কাজ করি। কয়েকদিনের মাথায় ক্যাপ্টেন ইকবাল চলে যান। আমরা তার দায়িত্ব পালন করি। বিভিন্ন কাজে শহরের বিভিন্ন জায়গাতে জীপে করে আমরা চলাচল করি। আসাদুজ্জামান নূর বর্তমান নীলফামারীর এমপি, সাবেক সাংস্কৃতিক মন্ত্রী ছিলেন। এক পর্যায় শহরে আসাদুজ্জামান নূর এর সাথে দেখা ও পরিচয় হয়। আসদুজ্জামান নূর ও সামুছুজ্জোহা সাবেক এমপির সাথে আলাপ হয় একদিন, তাদের সাথে আমাদের জীপে করে দু’দিন পরে রংপুর যাওয়ার ব্যবস্থা হয়। আমি তাদেরকে সাথে করে জীপে উঠে রংপুর যাওয়া ব্যবস্থা করি। সৈয়দপুর এসে প্রখ্যাত কৃষক নেতা গুরুদাস তালুকদারকে দাঁড়ানো অবস্থায় পাই এবং তাকেও জীপে উঠিয়ে নেই। এরপর রংপুরে যেয়ে যথাস্থানে নামিয়ে দিয়ে আমি নীলফামারীতে চলে আসি। নীলফমারীতে আমি মুক্তিযুদ্ধের দেড় দুই মাস আমাদের বিভিন্ন অফিসের কাজে থাকি। পরে কিছুদিন পরে আমি ছুটি নিয়ে আমার ধর্ম আবার বাড়ী পার্বতীপুরের পূর্ব রসুলপুরে চলে যাই।
/////////////////////////////////////////////////////////////////
(ক) আমার গ্যাজেট নম্বর-১২৯৯। সাল-২০০৫
(খ) আমি যে ভারতের বালুরঘাটে ১৯৭১ সনে “কাটলা যুব অভ্যর্থনা প্রশিক্ষণ ক্যাম্প” সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে ট্রেনিং ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেছিলাম তার সিরিয়াল নং-৩৭৩৪। সাল-১৯৯৭১
(গ) উপজেলা, জেলা, মহানগর, যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন (কমিটি কর্তৃক সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত) উপজেলা-জেলা-দিনাজপুর, বিভাগ-রংপুর, আমি নিজেই এই কমিটির সদস্য। আমার ১৪২নং তালিকায় নাম আছে।
(ঘ) সাপ্তাহিক মুক্তিবার্তা, ২য় বর্ষ। ১৯৪তম সংখ্যা ৭ই মার্চ ১৯৯১ সাল ২৩ শে ফাল্গুন ১৪০৫ বুধবার আমার নামের তালিকা এ সংখ্যা আছে। তালিকা নম্বর-০৩০৮০৫০১৯ এস.এম.এ খালেক, পিতা-মৃত হেলাল উদ্দীন আহম্মেদ, গ্রাম-পূর্ব রসুলপুর, ইউপি-হরিরাম, থানা-পার্বতীপুর, জেলা-দিনাজপুর।
(ঙ) লাল মুক্তিবার্তায় কেন আমার উঠে নাই। তাহা আমি আজও জানিনা। আমি আশা করি এবার আমার নাম লাল মুক্তিবার্তায় উঠবে। সেই সময় আত্মপক্ষ সমর্থন দেওয়া নাই। আমি কিছু জানি না।

মুক্তিযুদ্ধে আমার কথা…….
বীর মুক্তিযোদ্ধা এস,এম,এ খালেক
মোবাইল ঃ ০১৭১৮-৮৫৪৭৯৯

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here