যেভাবে দলে দলে মুসলমান হয় আরববাসী

0
98

(দিনাজপুর২৪.কম) দশম হিজরিতে মক্কা বিজয় ছিল এমন একটি যুগান্তকারী ঘটনা, যা মূর্তিপূজার মূলকে সম্পূর্ণরূপে উৎপাটিত করে এবং আরবে মিথ্যাকে অপসৃত করে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে। ইসলামের বিজয় গৌরবে আরববাসীদের মনের সব ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও সন্দেহ দূরীভূত হয়ে যায় এবং তারা দলে দলে আল্লাহর দ্বিনে প্রবেশ করতে থাকে।

আমর বিন সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক ঝরনার ধারে বসবাস করতে ছিলাম। সেই স্থানটি ছিল বাণিজ্য কাফেলার গমনাগমনের পথ। বাণিজ্য কাফেলা যখন সেই পথ দিয়ে গমনাগমন করত, তখন লোকজনকে জিজ্ঞেস করতাম, লোকেরা সবাই কেমন আছ? ওই লোক, অর্থাৎ নবী করিম (সা.)-এর অবস্থা কেমন? তারা বলত, তিনি মনে করেন যে আল্লাহ তাঁকে নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কাছে ওহি আসে। আল্লাহ তাঁর কাছে এ বিষয়ে ওহি অবতীর্ণ করেছেন। আমি তাদের কথা এমনভাবে স্মরণ করে রাখতাম যে সেগুলোকে যেন আমার সিনা (স্মৃতিপট) চিমটে ধরে রাখত।

ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় লাভের জন্য পুরো আরব জাহান মক্কা বিজয়ের অপেক্ষায় ছিল। তারা বলত, তাঁকে [মহানবী (সা.)] ও তাঁর দলকে (সাহাবায়ে কিরাম) ক্ষমতা পরীক্ষার জন্য ছেড়ে দাও। যদি তিনি কুরাইশ ও তাদের মিত্রদের ওপর বিজয়ী হন, তাহলে বুঝতে হবে যে তিনি প্রকৃত নবী। কাজেই যখন মক্কা বিজয়ের ঘটনা সংঘটিত হলো, তখন বিভিন্ন গোত্রের লোকজন ইসলাম গ্রহণের উন্মুখতা নিয়ে মদিনা অভিমুখে অগ্রসর হলো। আমাদের গোত্রের মানুষের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে আমার বাবা বেশ তাড়াহুড়া করলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর ফিরে এসে বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! একজন সত্য নবীর কাছ থেকে আমি তোমাদের কাছে এসেছি। তিনি [রাসুল (সা.)] বলে দিয়েছেন, অমুক অমুক সময় সালাত আদায়  কোরো। যখন সালাতের সময় হবে তোমাদের মধ্য থেকে একজন আজান দেবে এবং কোরআন যার ভালো জানা আছে, সে সালাতে ইমামতি করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৩০২)

এ হাদিস দ্বারা স্পষ্টত প্রমাণিত হয় যে মক্কা বিজয়ের ঘটনা ঘটনাপ্রবাহের মোড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, ইসলামকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে, আরব অধিবাসীদের নীতি নির্ধারণের ব্যাপারে এবং তাদের বহুত্ববাদের ধারণাকে মন-মস্তিষ্ক থেকে অপসারণ করে ইসলামের কাছে আত্মসমর্পণ করার ব্যাপারে কত ব্যাপক ও গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। বিশেষ করে তাবুক অভিযানের পর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এ অবস্থার বিস্তৃতি ঘটতে থাকে। এর প্রমাণ হিসেবেই এটা প্রত্যক্ষ করা যায় যে নবম ও দশম হিজরিতে ইসলাম গ্রহণেচ্ছু বিভিন্ন দলের মদিনা আগমন একের পর এক অব্যাহত থাকে এবং তারা দলে দলে আল্লাহর দ্বিনে প্রবেশ করতে থাকে।

এ সময় আরববাসী বেশিসংখ্যক হারে ইসলামে দীক্ষিত হতে থাকে, তার উত্কৃষ্ট প্রমাণ সেনাবাহিনী। মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে যে ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীতে সেনাসংখ্যা ছিল মাত্র ১০ হাজার, সে ক্ষেত্রে একটি বছর অতিবাহিত না হতেই মুসলিম বাহিনীর সেনাসংখ্যা উন্নীত হয় ৩০ হাজারে। এর অল্পকাল পরেই বিদায় হজের সময় এই বাহিনীর সেনাসংখ্যা উন্নীত হয় এক লাখ ২৪ হাজার অথবা এক লাখ ৪৪ হাজারে। শ্রাবণ প্লাবনের মতো উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে ইসলামের সেনাসংখ্যা। বিদায় হজের সময় এই বিশাল বাহিনী নবী করিম (সা.)-এর চারপাশে এমনভাবে লাব্বাইক, তাকবির, হামদ ও তাসবিহ ধ্বনি উচ্চারণ করতে থাকে যে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং আল্লাহর একত্ববাদের ঐকতানে গোটা উপত্যকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

(আর-রাহিকুল মাখতুম অবলম্বনে)

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here