যে চার কাজে সফলতা আসে

0
144

(দিনাজপুর২৪.কম) আমরা মনে করি, শুধু নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত আদায় করলেই জান্নাতে চলে যাওয়া যায়। বিষয়টি আসলে এমন নয়। এ ছাড়া আরো কিছু বিষয় আছে, যেগুলোকে আমরা খুব হালকা মনে করি, অথচ এ বিষয়গুলোই মানুষের জান্নাতে যেতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে এবং এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিলে ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা অর্জন করা যাবে।

রাসুল (সা.) তাঁর প্রিয় উম্মতকে এমন চারটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যেগুলোকে গুরুত্ব দিলে সেই উম্মত উভয় জাহানের সফলতা অর্জন করতে পারবে।

উম্মত যদি আমার থেকে এই চারটি বিষয় নিতে পারে—

আমনত রক্ষা করা : ‘হিফজু আমানাতিন’ অর্থাৎ বান্দার মধ্যে যার ওপর আমার হক আছে, তা আমানতের সঙ্গে আদায় করা। আমানতের ব্যাপারে কারো সঙ্গে প্রতারণা না করা। কারো আমানত নিজের কাছে থাকলে তা তার কাছে যথাযথ পৌঁছে দেওয়া।

সত্য কথা : ‘সিদকু হাদিছিন’ সর্বদা সত্য কথা বলা। মুখ থেকে যেন কোনো মিথ্যা, অবাস্তব এবং ধোঁকাবাজির কথা বের না হয়।

উত্তম চরিত্র : ‘হুছনু খালিক্বাতিন’, সর্বোচ্চ উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া। অর্থাৎ যে চরিত্র দেখলে আল্লাহও খুশি, বান্দাও খুশি হয়।

হালাল রিজিক : ‘রিজকে হালাল’ উপায়ে রিজিক অন্বেষণ করা, হালাল উপায়ে রিজিক উপার্জন করা।

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, আমার উম্মত যদি আমার থেকে এই চারটি জিনিস নিতে পারে, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাত তার হাতের মুঠোয় এসে পড়বে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৬৬৫২)

সুবহানাল্লাহ, একটা মানুষের এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে, যে  দুনিয়া-আখিরাত দুটিই হাতের মুঠোয় পেয়ে যাবে। তবে এর জন্য নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি পালনের পাশাপাশি নিজের জীবনের অন্যান্য অধ্যায়কেও ইসলামের আলোকে সাজাতে হবে। উল্লিখিত হাদিসে মহানবী (সা.) মানুষকে যে বিষয়গুলোতে সতর্ক করেছেন, সেগুলোকে আমরা সাধারণত ইবাদতের বাইরে মনে করি; যেমন—ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত জীবনে আমানত রক্ষা করা, সদা সত্য কথা বলা, উত্তম চরিত্র অর্জন করা, হালাল রিজিক অন্বেষণ করা। এগুলোকে আমরা ইবাদতই মনে করি না, অথচ এগুলো ইবাদতের অংশ। কোনো মানুষ যদি নিজের জীবনে এই বিষয়গুলোতে সতর্ক হয়ে যায় এবং নবীজির বাতলানো পথে চলে, তাহলে তার পুরো জীবনই পবিত্র হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ সবাইকে পবিত্র জীবন গঠনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here