রাশিয়ার কার্গো জাহাজ আটক করেছে ফ্রান্সের নৌবাহিনী

0
63

(দিনাজপুর২৪.কম) ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার উপর কঠোর সব নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরপরই ফরাসি নৌ বাহিনী ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ আটক করেছে। জাহাজটি বাল্টিক বন্দর নগরী সেন্ট পিটার্সবার্গের দিকে যাচ্ছিল।

ফরাসি শহর রুয়েন থেকে যাত্রা করা রাশিয়ার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজটিকে ফরাসি বাহিনী বুলোন-সুর-মের বন্দরে নিয়ে গিয়েছে বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে মেরিটাইম প্রিফেকচার।

আটক কার্গো জাহাজটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি কোম্পানির বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক প্রিফেকচারের ভেরোনিক ম্যাগনিন বলেছেন, একটি পুলিশ নজরদারি জাহাজ এবং নৌবাহিনীর একটি টহল নৌকাসহ একটি ফরাসি কাস্টমস টহল জাহাজ এই বাল্টিক কার্গো জাহাজটিকে আটক করেছে।

তিনি বলেন, ১২৭ মিটার (৪১৭ ফুট) জাহাজটি ‘নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রাশিয়ান স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত বলে দৃঢ়ভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে’।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে আগ্রাসনের জন্য রাশিয়াকে শাস্তি দেওয়ার জন্য রাশিয়ান ব্যক্তি, কোম্পানি এবং অন্যান্য সংস্থার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর এই কার্গো জাহাজ আটকের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্যারিসে রাশিয়ান দূতাবাসের একজন মুখপাত্র টাস নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, আটক জাহাজের ক্যাপ্টেন দূতাবাসে টেলিফোন করেছিলেন। তারপরে ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে ফরাসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন।

মূলত ওই জাহাজে গাড়ি বহন করা হচ্ছিল। এদিকে ওই জাহাজ আটকের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। ফ্রান্সে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস এ বিষয়ে ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের রাস্তায় এখন পুরোদস্তুর যুদ্ধ চলছে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের সেনাদের মধ্যে। শনিবার রুশ বাহিনীর হামলার তৃতীয় দিনের শুরুতেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে লড়াই।

এমন সময়ে ইউক্রেনে আগ্রাসনের শাস্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির পর রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

বৃহস্পতিবার পূর্ব ইউক্রেনে রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সহায়তায় রুশ স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীকে পূর্ণমাত্রায় অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এর জেরে সোমবার বিদ্রোহীদের দুই রাষ্ট্র ‘দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক’ ও ‘লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক’কে স্বীকৃতি দিয়ে শান্তি রক্ষায় রুশ সৈন্য পাঠানোর নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

২০১৪ সালে ইউক্রেনে রুশপন্থী সরকারের পতনের পর রাশিয়া দেশটিতে আগ্রাসন চালিয়ে ক্রিমিয়া অঞ্চলটি দখল করে নেয়। পাশাপাশি মস্কোর পৃষ্ঠপোষকতায় পূর্ব ইউক্রেনে বিপুল অঞ্চল দখল করে নেয় বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

পূর্ব ইউক্রেনে রুশপন্থী বিদ্রোহীরা দুই রাষ্ট্র ‘দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক’ ও ‘লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠা করে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এই সংঘর্ষ বন্ধে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যস্থতায় ২০১৪ সালে বেলারুশের মিনস্কে ইউক্রেন ও রাশিয়া এক চুক্তি করে।

মিনস্ক চুক্তি অনুযায়ী এই অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি, বন্দি বিনিময় ও দোনবাস অঞ্চল থেকে রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সরে যাওয়ার বিষয় যুক্ত ছিলো। দোনবাস অঞ্চল থেকে রুশপন্থী বিদ্রোহীরা সরে গেলে ইউক্রেনের ওই অঞ্চলে গণভোটের ব্যবস্থা করবে।

কিন্তু পরস্পরের প্রতি সহিংসতার অভিযোগের জেরে এই চুক্তি আর বাস্তবায়িত হয়নি।

এরই মধ্যে ২০২০ সালে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের ন্যাটো সামরিক জোটের ‘ইনহ্যান্সড অপারচুনিটি পার্টনার’ পদ পেলে রাশিয়া ক্ষুব্ধ হয়। নিজ দেশের সীমান্তে ন্যাটোর সম্প্রসারণের শঙ্কায় রাশিয়া ইউক্রেনের যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক জোটে যোগ দেয়ার বিরোধিতা করছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সৈন্য সমাবেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনের পর উত্তেজনা নতুন করে বাড়ে।

পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সাথে শুরু হওয়া ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষের জেরে ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে (গত বৃহস্পতিবার) ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। -অনলাইন ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here