রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি

0
84

(দিনাজপুর২৪.কম) ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন আজ ২৮তম দিনে গড়িয়েছে। রাশিয়া ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের ছোট-বড় ১০টি শহর দখল করে নিয়েছে। ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী মারিওপোল, উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ- এগুলোর আশপাশে এখনো লড়াই চলছে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন আগের যে কোন সময়ের তুলনায় এখন আরো বেশি বিস্ফোরণ দেখা যাচ্ছে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা রুশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে এক পাল্টা অভিযান চালিয়ে কিয়েভের পশ্চিমের মাকারিভ শহরটি পুনর্দখল করেছে।

কিয়েভের কেন্দ্রস্থল থেকে ২৫ মাইল পূর্বদিকের আরেকটি শহর বোরিস্পিলের আশপাশের এলাকায় ইতোমধ্যেই যুদ্ধ চলছে। সেখানকার বাসিন্দাদের ওই অঞ্চল ছেড়ে যাবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিয়েভের প্রধান আন্তজাতিক বিমানবন্দরটি এখানেই। মেয়র ভলোদিমির বোরিসেংকো বলেছেন, বেসামরিক লোকদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরে যাওয়া উচিত।

এ ছাড়া রুশ সীমান্ত থেকে ৩০ মাইল দূরের খারকিভ শহরে রুশ বাহিনী অবিরাম গোলাবর্ষণ করছে। সেখানে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০০ বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে, এবং প্রায় ১০০০ বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে, রাশিয়া গতকাল থেকেই ইউক্রেনের আকাশসীমায় তাদের বিমানের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। তবে তারা এটাও বলছে যে রুশ বাহিনীর হাতে মাত্র তিন দিন চলার মত জ্বালানি ও গোলাবারুদের মজুত আছে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করছে যে এ পর্যন্ত ১৫ হাজার রুশ সৈন্যকে তারা হত্যা করেছে।

অন্যদিকে এই প্রথমবারের মতো কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী ইউক্রেনীয় বন্দর ওডেসার আবাসিক এলাকায় রুশদের নিক্ষিপ্ত গোলা এসে পড়েছে। সাগর থেকে রুশ নৌবাহিনী এ গোলাবর্ষণ করে বলে জানা গেছে।

ওডেসার এমপি-র আশঙ্কা, কৃষ্ণ সাগরের দিক থেকে এ বার নিরন্তর হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। কিভের কাছেই অবস্থিত বরিসপিলেও হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান মেয়র ভলোদিমির বরিসেঙ্কো। তিনি বাসিন্দাদের দ্রুত শহর ছাড়ার আবেদন জানিয়েছেন।

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রগুলো বলছে, রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে, এবং ইউক্রেনের বাহিনী মারিউপোল শহরটি দখলে নেয়ার রুশ চেষ্টা ঠেকিয়ে দিচ্ছে।

অবরুদ্ধ মারিউপোল শহর থেকে আরো তিন হাজার লোককে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে সোমবার বিভিন্ন যুদ্ধ এলাকা থেকে মোট আট হাজার বেসামরিক লোককে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। মারিওপোলে মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে এখনো দু পক্ষের ঐকমত্য হয়নি।

মারিওপোল আত্মসমর্পণের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় আজ আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে বন্দর শহরটিতে ঢুকে পড়েছে রুশ সেনারা। দুটি শক্তিশালী বোমাও নিক্ষেপ করা হয়েছে। এখনও সেখানে আটকে রয়েছেন প্রায় ৩ লাখ মানুষ। তাদের উদ্ধারকাজ চলাকালীনই আছড়ে পড়ে রুশ বোমা। যদিও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেশচুক জানিয়েছেন, সমস্ত শহরবাসীকে যত ক্ষণ না অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হচ্ছে, শত আক্রমণ সত্ত্বেও উদ্ধারকাজ চালানো হবে। মারিওপোল থেকে শিশুদের অবৈধ ভাবে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ইরিনা।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, মারিওপোলে আত্মসমর্পণের প্রশ্নই নেই, বরং যুদ্ধের পরিণাম দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে চোকাতে হবে রাশিয়াকে।

প্রেসিডেন্টের অনমনীয় মনোভাবই যেন আজ সঞ্চারিত হয়েছে ইউক্রেনের বাহিনীর মধ্যে। প্রবল বিক্রমে কিয়েভের উপকণ্ঠে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মাকারিভ রুশ দখলমুক্ত করেছে ইউক্রেন। এর পরেই উত্তর-পশ্চিমাংশের সঙ্গে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়েও রুশ দখলমুক্ত করা হয়। ফলে কিয়েভে প্রবেশে উন্মুখ রুশ সেনার কাজ আরও কঠিন হল।

তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে রুশ সেনা উত্তর-পশ্চিমের শহরতলি অঞ্চল বুচা, হসটোমেল, ইরপিনের কিছু অংশ দখল করেছে।

কিয়েভে অবস্থিত আমেরিকান দূতাবাস জানিয়েছে, ইউক্রেনের বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ডনেৎস্ক ও লুহানস্ক থেকে ২৩৮৯ জন শিশুকে অপহরণ করে রুশ অধিকৃত অঞ্চলে আটকে রাখা হয়েছে।

ইউক্রেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিক্তর লিয়াশকো আজ জানান, রুশ হামলার জেরে এখনও পর্যন্ত ১০টি হাসপাতাল গুঁড়িয়ে গিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইউক্রেনের স্বাস্থ্য পরিষেবার উপরে অন্তত ৬২টি হামলা হয়েছে। রাতে স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে, লুহানস্ক ওবলাস্টের সেভেরোডনেৎস্কে শিশুদের একটি হাসপাতালের ছাদে রুশ বাহিনীর ছোড়া গোলায় আগুন লেগে যায়। সাত জন শিশু ও ১৫ জন প্রাপ্তবয়স্ককে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ ইউক্রেনের বিদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ অধিকৃত খেরসনে তিন লাখেরও বেশি মানুষ খাবার, ওষুধটুকু পাচ্ছেন না। ওই মানুষদের উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে।

ওদিকে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আবারও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেলেনস্কি বলেন, তার সাথে পুতিনের বৈঠক ছাড়া এ যুদ্ধ অবসানের ব্যাপারে আলোচনা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, রাশিয়ার দখলকৃত ক্রাইমিয়া, ডনবাস অঞ্চল এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তার গ্যারান্টিসহ ‘সকল বিষয় নিয়ে’ আলোচনার জন্য তিনি তৈরি আছেন।

তবে জেলেনস্কি এ-ও বলেন যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলোকে অবশ্যই একটি গণভোটের মাধ্যমে ইউক্রেনের জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

এমন এক সময় জেলেনস্কি এ আহ্বান জানালেন যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে ভ্লাদিমির পুতিনের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে এবং তিনি হয়তো ইউক্রেনে রাসায়নিক বা জীবাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন।

ক্রেমলিন অবশ্য সোমবার বলেছে যে এই দুই নেতার মধ্যে সরাসরি বৈঠক হবার মতো অগ্রগতি আলোচনায় এখনো হয়নি।

ইন্সটিটিউট অফ স্টাডি অফ ওয়ার বলছে, রাশিয়ান সেনারা ইউক্রেনে গত সপ্তাহে বড় কোন সাফল্য দেখাতে পারেনি। তারা বরং রক্ষণাত্মক অবস্থান আরও জোরদার করেছে।

প্রায় একই ধরণের তথ্য দিয়েছে আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা বলছে রাশিয়ার সেনারা দরকারি রসদের অভাবে এক জায়গায় আটকে আছে। -অনলাইন ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here