শস্য ভান্ডার খ্যাত ঘোড়াঘাটে আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

0
23

মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ (দিনাজপুর২৪.কম) শস্য ভান্ডার খ্যাত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে এবার আগাম জাতের আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে এবং দামও ভাল। অতীতের চেয়ে এবার আলুর চাষ অনেক বেশি হয়েছে। এবার আলুর উৎপাদন অনেক বেশি হবে। স্থানীয় আলু চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন আলু চাষীরা। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে ১টি পৌরসভা ও উপজেলা ৪টি ইউনিয়নে ১হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। এবার উৎপাদনে ফলন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। সেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। অর্জিত আলু থেকে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮০ মেট্রিক টন। উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভায় বছরে আলুর চাহিদার প্রায় ১ লাখ ৪০ মেট্রিক টন। অতিরিক্ত উৎপাদিত আলু উপজেলার বাইরে সরবরাহ করা হচ্ছে।

আলু চাষিরা জানান, জমি থেকে আলু তুলতে শ্রমিকদের খরচ বহন করতে হিমশিম খেতে হয়। এছাড়া উপজেলার বাইরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় স্থাানীয় মধ্যস্বত্ব ভোগীদের কাছে আলু বিক্রয় করতে হয়। ফলে কৃষকের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্ব ভোগী আলু ব্যবসায়ীরা।
ভর্নাপাড়া গ্রামের আলু চাষি মোঃ মাসুদ বলেন, হঠাৎ বাজারে আলুর দাম কমে যাওয়ায় তেমন লাভ হচ্ছে না। গত কয়েকদিন আগেও প্রতি বস্তা (৮০ কেজি) আলু প্রকার ভেদে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০টাকা বস্তা বিক্রি হয়েছে। এখন আলু বিক্রয় হচ্ছে ২ হাজার টাকা বস্তা।
একই এলাকার আলু চাষি রহমান বলেন, দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি, এখনো আলু তোলা শেষ হয়নি, সম্পূর্ণ আলু তোলার পর বোঝা যাবে লাভ ক্ষতি। অনেক আলু চাষি তাদের জমি থেকে সরাসরি মধ্যভোগী আলু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করায় তেমন একটা লাভ করতে পারচ্ছেন না।
আলু চাষি জমির উদ্দিন বলেন, এক বিঘা জমিতে ৩০ বস্তা (৬০ মন) আলু উৎপাদন হয়। বিঘাপ্রতি খরচ হয় ২০ হাজার টাকার উপরে। আর ৩০ বস্তা আলু বিক্রি হয় ৬০ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি ১০/১৫ হাজার টাকা লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
রাণীগঞ্জ বাজারের মধ্যস্বত্ব ভোগী আলু ব্যবসায়ী ছমির উদ্দিন বলেন, আমরা কৃষকের জমি থেকে কম দামে আলু কিনে ভ্যানে করে নিয়ে গিয়ে ধুয়ে বস্তায় ভরি তারপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করি। এখানে শ্রমিকদের খরচ দিয়েও মোটমুটি ভালোই লাভ হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ এখলাস হোসেন সরকার বলেন,এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও শৈত্যপ্রবাহ কম হওয়ায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়াও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কৃষকদের কাছে গিয়ে আলুর ফলন বৃদ্ধি করতে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। আগামীতেও আলুর বেশি উৎপাদনের জন্য কৃষকদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে। তিনি বলেন,চলতি মৌসুমে আগাম জাতের আলু প্রায় ১ মাস পূর্বেই উত্তোলন শুরু করা হয়েছে। ফলন ভাল ও দামও ভাল পেয়েছেন। আলু আবাদে মুজুরী খরচ, কীটনাশক, সার ও সেচ খরচ কম লাগে।
ফলে আলুর আবাদ লাভ জনক। আলু চাষ লাভ জনক হওয়ায় আলু চাষীরা প্রতি বছর আলু চাষ করে থাকেন। মানুষের শরীরের শর্করার চাহিদা মেটাতে আলু ভাতের পাশাপাশি পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে।
আলু দ্বারা বহুমুখী খাদ্য তৈরি হয়। বর্তমানে নানা উপায়ে নানা ভাবে আলু দ্বারা বৈজ্ঞানিক উপায়ে খাদ্য তৈরিতে সহায়তা করছে।
আলু চাষীরা আগাম জাতের আলু রোপনের লক্ষ্যে আগাম জাতের ধান রোপন করে থাকেন। এছাড়াও পতিত জমিতেও আগাম জাতের আলুর আবাদ করেন।
এই আগাম জাতের আলু চড়া দামে বিক্রি করে লাভবান হন। এই আশায় তারা প্রতি বছর আগাম জাতের আলু চাষ করেন। চলতি বছরে ১টি পৌরসভা ও উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে মোট ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত ফলনশীল (উফশী) জাতের আলুর চাষ হয়েছে ১৪৭৫ হেক্টর জমিতে ও স্থাানীয় জাতের চাষ করা হয়েছে ৩৭৫ হেক্টর।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here