সভাপতি মমতাজকে অব্যাহতি : রংপুর আওয়ামী লীগে তোলপাড়

0
39
মমতাজ উদ্দিন আহমেদ

(দিনাজপুর২৪.কম) রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদকে সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা কমিটি। একইসঙ্গে দলীয় সভাপতির পদ থেকে কেন তাকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হবে না, তা ১৫ দিনের মধ্যে জানাতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হবে।

আজ শনিবার রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় মমতাজ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত না থাকলেও জেলা কমিটির বেশিরভাগ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এদিকে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদকে তার পদ থেকে অব্যাহতির ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের অভ্যন্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

জানা যায়, সম্প্রতি রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের ৫৩ সদস্য সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদের নামে দলীয় নীতি-আদর্শ পরিপন্থি ও আরও বেশকিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে কাছে চিঠি দেন। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু সাধারণ সভা আহ্বান করেন। রংপুর মহানগরীর বেতপট্টিস্থ জেলা কার্যালয়ে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইলিয়াস আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির ৭৫ জন সদস্যের মধ্যে ৫২ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, দলের প্রধান শেখ হাসিনা বারবার দলের কর্মকাণ্ড গতিশীল করার নির্দেশ দিলেও জেলায় এর বাস্তবায়ন হচ্ছে না বরং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ সর্বশেষ গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভার পর আর কোনো সভা গত ১৪ মাসে তিনি ডাকেননি। এতে সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। এছাড়া দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে কমিটির সাধারণ সভা আহ্বান না করে দলকে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, হারাগাছ পৌরসভা নির্বাচন, ইউপি নির্বাচন ও সম্প্রতি হওয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে অংশ না নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে কাজ করছেন তিনিসহ তার অনুসারী কয়েকজন নেতা। এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চরমভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, মূলত বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ২০১৯ সালে মিঠাপুকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। অথচ ভেঙে দেওয়া ওই কমিটিকে নিয়েই অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগকে পাশ কাটিয়ে মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মিঠাপুকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের অনুমতি নেন। গতকাল রোববার ওই সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করে দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। সভায় দীর্ঘ আলোচনার পর জেলা সভাপতিকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৫ দিনের সময় দিয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে বলা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে রংপুরে মিঠাপুকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি না থাকায় সেখানে দলের ত্যাগী নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগের নেতাসহ দলের নিবেদিত নেতাদের জীবনবৃত্তান্ত দ্রুত জমা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। আপাতত মিঠাপুকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ‘দেড় বছর ধরে সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ সভা আহ্বান করছেন না। দলের কর্মকাণ্ডে চরম স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি নিজেও এ বিষয়ে সভা আহ্বান করার জন্য বলেছিলেন। দুই দফা লিখিতভাবে আবেদনও করা হয়েছে। বিষয়টি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকেও জানানো হয়। ফলে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে গতকাল শনিবার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভার বিষয়টি সভাপতিকে জানানো হলেও তিনি সভায় উপস্থিত হননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে মমতাজ উদ্দিন আহমেদকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া এবং ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দিলে আমরা স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করবো। তবে মমতাজ উদ্দিন আহমেদের অবর্তমানে সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব কে পালন করবেন, সেই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে সহ-সভাপতির মধ্য থেকে এই দায়িত্ব পালন করার কথা জানান তিনি।

এদিকে, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতির বিষয়ে মমতাজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাকে না জানিয়ে শনিবারের সভাটি করা হয়েছে। যে সময় দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেদের মধ্যে সব ভেদাভেদ ভুলে আগামী নির্বাচনে দলের বিজয় নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে তখন এমন ঘটনা নেত্রীর বিরোধীতা। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে।’ -নিউজ ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here