সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় জবুথবু তেঁতুলিয়ার জনজীবন

0
25
-পুরনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) ৭ ডিগ্রিতে নেমেছে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা। আজ সোমবার সকাল দেশের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। ভোর ৬টায় রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা তিনদিন প্রায় সাড়ে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ডের পর ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের এ জনপদ। সকালে পঞ্চগড়ে সারাদেশের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি জানান জেলার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ।

ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা। শীতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, দিনমজুর থেকে শুরু করে ছোটখাটো যানবাহন ভ্যান চালক মানুষগুলো। তীব্র শীতের প্রকোপে সকালে কাজে যেতে পারছেন না অনেকে। তবুও জীবিকার তাগিদে কেউ পাথর তুলতে, কেউ চা-বাগানে আবার কেউ দিনমজুরের কাজ করতে যাচ্ছেন। এসব মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকার যে ত্রাণ দিয়েছে তা একেবারেই অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

চা শ্রমিক জামাল, জাহেরুল ও নাসির বলেন, ‘সকালে বরফের মতো ঠাণ্ডা। চা বাগানে কাজ করতে গেলে হাত-পা যেন অবশ হয়ে আসে। কিন্তু জীবিকার তাগিদে কাজে বের হতে হয় আমাদের।’

পাথর শ্রমিক ইমরান, আরশেদ আলী ও আবু তাহের বলেন, ‘ঠাণ্ডায় নদীর পানি বরফের মত মনে হয়। তারপরেও আমাদের পাথরই জীবিকা। তাই কাজে বেরিয়েছি। কদিন ধরে নদীর ঠাণ্ডা পানিতে কাজ করে জ্বর-সর্দিতে ভুগলাম। ক্ষুধার্ত পেটতো ঠাণ্ডা বুঝে না। কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে সকালেই পাথর তোলার সরঞ্জাম নিয়ে বেরিয়ে পড়েছি। একই কথা জানান কয়েকজন দিন মজুর ও নারী পাথর শ্রমিক।’

নারী পাথর শ্রমিকরা বলছেন, ‘তীব্র শীতের কারণে তাদেরও কাজে যেতে কষ্ট হচ্ছে। ঘর সংসার সামলিয়ে তাদের জীবিকার তাগিদে কাজে যেতে হচ্ছে। শীতের কারণে তাদের অনেক সময় কাজে যেতে দেরি হলে মহাজনরা অনেক সময় কাজে নিতে চান না।’

শীতের কারণে পড়ালেখা স্থবির হয়ে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও। সকালে স্কুল শিক্ষার্থী তানিয়া, কাজল ও নাইমা খাতুন জানায়, কনকনে শীত। রাতে পড়তে পারি না শীতের কারণে। রাতে যেন তাপমাত্রা জিরোতে চলে আসে। সকালে কুয়াশা আর বাতাসের কারণে প্রাইভেট ও স্কুলে যাওয়াও কষ্ট হচ্ছে।

এদিকে, শীতে প্রকোপে বেড়েছে নানান শীতজনিত রোগ। জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়েরিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।

চিকিৎসকরা বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে রোগীর চাপ বেড়েছে। এমনিতে শীত মৌসুমে আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় বাতাসে জীবাণুর পরিমাণ বেড়ে যায়। শীতজনিত রোগ হিসেবে সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট বেশি হয়ে থাকে। আর শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই এ সময়টাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে পারলে কিছুটা হলেও সুরক্ষা মিলবে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, সোমবার সকাল ৯টায় জেলায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। যা সারাদেশের সর্বনিন্ম। ভোর ৬টায় ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ তাপমাত্রায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে। গতকাল রোববার রেকর্ড হয়েছিল ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। উত্তর-পূর্বকোণ থেকে ৩ নটিক্যাল গতিতে বয়ে যাওয়া হিমেল বাতাসের কারণে ঠাণ্ডা অনুভব হচ্ছে। -নিউজ ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here