সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে ভোট, এজেন্টসহ আটক ২

0
74
-ছবি সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার দুই ইউনিয়নের তিনটি ভোটকেন্দ্রে প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে পূর্ণিমাগাতি ইউপির দুটি ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টসহ দুজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন বাঙ্গালাতেও প্রকাশ্যে ভোটের দৃশ্য দেখা গেছে।

আজ রবিবার দুপুরে পূর্ণিমাগাতি ইউপির ফলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও পুঠিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দেওয়ার অভিযোগে নৌকার কর্মী উজ্জ্বল (৩০) ও নৌকা প্রতীকের এজেন্ট আমজাদ হোসেনকে (৫৫) আটক করা হয়েছে।

ফলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ইসমাইল হোসেন জানান, ভোটকেন্দ্রের বুথে ঢুকে প্রকাশ্যে সিল দেওয়ার অভিযোগে উজ্জ্বল নামে নৌকার এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। অপরদিকে পুঠিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল মালেক জানান, একজন ভোটারের ব্যালট হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে নিজেই সিল দেওয়ায় আমজাদ হোসেন নামে নৌকার এজেন্টকে আটক করা হয়। আটকদের কেন্দ্রেই আটকে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাঙ্গালা ইউনিয়নের প্রতাব গ্রামেই চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩ জন, ভোটকেন্দ্র একটি। ভোটার ২৭৬০ জন। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রতাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বাঙ্গালা ইউনিয়নে ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী থাকলেও এই কেন্দ্রের ৭টি কক্ষের কোনোটিতেই নৌকা ছাড়া অন্য কারো এজেন্ট নেই। চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে সিল মারা হচ্ছে প্রকাশ্যে। কেন্দ্রের পাশেই ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কেফায়েত উল্লাহ ও আনারস প্রতীকের আব্দুল মতিন অনেকটাই অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

তারা সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করেন, আমাদের পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রে এলেও সকালেই তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। নৌকার ভোট নেওয়া হচ্ছে প্রকাশ্যে। এর প্রতিবাদ করলেও কোনো কাজ হয়নি। কেন্দ্রের কক্ষগুলোতে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায়, নৌকার এজেন্টরা ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট নিয়ে প্রকাশ্যে সিল মারছে। এই কেন্দ্রের ২ নম্বর কক্ষের নৌকার এজেন্ট রফিকুল ইসলামকে বুথের পাশে বসে মোবাইলে কথা বলতে দেখা যায়। বুথের মধ্যে মোবাইলের ব্যবহার কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রিজাইডিং অফিসার বন্ধ রাখতে বলেছিল, কিন্তু খেয়াল নেই।

কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার মোজদার হোসেন বলেন, এটা নৌকা প্রার্থীর নিজস্ব কেন্দ্র। তিনি এখানেই ভোট দিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টরা কেউ কেন্দ্রে নেই। তারা না থাকলে আমি কী করতে পারি? প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দেয়ার বিষয়ে বলেন, কেউ অভিযোগ করেনি। তাই ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে নৌকা প্রতীক প্রার্থী সোহেল রানা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এজেন্ট না দিলে আমার কী করার আছে? এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ সত্য নয়।

এ গ্রামের বাসিন্দা মাহাতাব উদ্দিন বলেন, নৌকা প্রার্থী সোহেল রানা, স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবির (চশমা) ও আব্দুল মতিনের বাড়ি এই গ্রামেই। ভোটের আগে গ্রামে বৈঠক হয়েছে, সবাইকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বলা হয়েছে ওই বৈঠকে। আমরা তাই করছি।

সিরাজগঞ্জের ১৯টি ইউপিতে ভোট হচ্ছে। উল্লাপাড়া উপজেলার ১৩টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ৫৪ জন। বেলকুচি উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে চেয়ারম্যান পদে ভোট হচ্ছে। এখানে প্রার্থীর সংখ্যা ২০ জন। বাকি দুটি ইউনিয়নে বিনা ভোটে জিতেছেন নৌকার প্রার্থীরা। -ডেস্ক রিপোর্ট

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here