সিলেটে বন্যা: পানি কমছে, ফিরছে স্বস্তি

0
28

(দিনাজপুর২৪.কম) অব্যাহত পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে সিলেটে শুরু হয় প্রাকৃতিক বিপর্যয় বন্যা। এ কারণে সিলেটবাসীর জনজীবনে দেখা দেয় ছন্দপতন। ঘরবন্দি হয়ে পড়েন লাখ লাখ মানুষ। চরম ভোগান্তিতে পড়েন সিলেটের অধিবাসীরা। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থারও বিপর্যয় ঘটে। অন্ধকারে থাকেন প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। তবে বিদ্যুতের এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিললেও এখনও পানিবন্দি হয়ে আছেন প্রায় ১৫-২০ লাখ মানুষ।

এছাড়া বন্যায় ময়লাযুক্ত পানি প্রবাহের কারণে উপদ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ; সেই সঙ্গে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ারও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বন্যা সংক্রান্ত বিষয়ে কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। দফতরটি বলছে, সিলেটবাসীকে আরও পাঁচ দিন পানিবন্দি থাকতে হতে পারে। ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করা বন্যার পানি নেমে আগের অবস্থায় ফিরবে সিলেট নগরের চিরচেনা চিত্র। তবে সিলেটবাসী যেন আর এরকম বন্যার পরিস্থিতির শিকার না হন সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। শনিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর (পুর) দফতরের সিলেটের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পুর) এস এম শহিদুল ইসলাম এ কথা জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে বন্যার পানি কমছে। ফলে সিলেটে আর বন্যা পরিস্থিতি বাড়ার শঙ্কা নেই। এ অবস্থায় আরও পাঁচ দিন পানিবন্দি থাকতে হবে সিলেটবাসীকে। বন্যায় যেখানে যেখানে বাঁধ ভেঙেছে, সেখানে আমাদের পক্ষ থেকে আবার নতুন করে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে।
পাউবোর এ কর্মকর্তা বলেন, সিলেটে যে নদী ও খালগুলো আছে, সেগুলো ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ড্রেজিং করার লক্ষে আমরা এখানকার নদীগুলো নিয়ে স্টাডি করছি। সিলেটের সুরমা নদীর গতিপথ ঠিক থাকলেও এর ড্রেজিং করতে হবে। এ লক্ষে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এখনও প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন হয়নি; তবে ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলছে। সুরমা নদীর ড্রেজিং হয়ে গেলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি কমে যাবে- এমনটাই বলছেন তিনি।
দিন দিন আবহাওয়ার উন্নতি হচ্ছে জানিয়ে সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী সময়ের আলোকে বলেন, তিন-চার দিন আগেও যেখানে কয়েক শ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে, সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় এর পরিমাণ ছিল মাত্র ১২ মিলিলিটার।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৬ মের মধ্যে বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসবে।
এদিকে সিলেটে সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমলেও বাড়ছে কুশিয়ারার পানি। ফলে নগরসহ আশপাশের এলাকার পানি কিছুটা কমলেও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নতুন করে প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। শুক্রবারের চেয়ে শনিবার এ দুটি পয়েন্টে পানি প্রবাহ যথাক্রমে ১১ সেন্টিমিটার ও ৭ সেন্টিমিটার কমেছে।
এছাড়া শনিবার একই সময়ে কুশিয়ারা নদীর আমলসীদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫৬ সেন্টিমিটার, শেওলায় ৫৫ সেন্টিমিটার ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। শুক্রবারের চেয়ে শনিবার আমলসীদে ১১ সেন্টিমিটার ও শেওলায় ৩ সেন্টিমিটার পানির প্রবাহ কম ছিল। তবে ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি শুক্রবারের চেয়ে শনিবার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। শুক্রবার এ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
অন্যদিকে সিলেট নগরে পানি কিছুটা কমলেও কমেনি বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ। খাবার পানির সংকটের পাশাপাশি উপদ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ। সিলেটে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্ভোগ এড়াতে নগর ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে। শুক্র ও শনিবার নগরের প্লাবিত এলাকার অনেক বাসিন্দাকে নগর ছেড়ে গ্রামে চলে যেতে দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত ১০ মে থেকে সিলেটে ভারী বর্ষণ শুরু হয়; একই সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসে পাহাড়ি ঢলও। ফলে ১১ মে থেকে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে থাকে। আর গত ১৩ মে থেকে সিলেট মহানগর প্লাবিত হয়ে পড়ে। এরপর থেকে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবারের মতো শনিবারও সুরমার পানি কমা অব্যাহত আছে। শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের দিনের চাইতে কয়েক সেন্টিমিটার পানি কমেছে। তবে কুশিয়ারা নদীর পানি দুই সেন্টিমিটার বেড়েছে ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে।
বন্যার ফলে সিলেটের ১৩ উপজেলার ৮৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ৩২৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান বলেন, সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি এখনও নামেনি। সরকার বন্যার্তদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে বলে জানান তিনি।-অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here